নরকের পাল! ভাগ! ভাগ!
বাঁধা ঘোড়াগুলো পিছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল এবং ওগুলো সামনে পিছনে নড়াচড়া করতে লাগল। একটা খুঁটি মাটি উপড়ে উঠে গেল, আরেকটি দীর্ঘ সারির টানে মট করে ভেঙে গেল, বিশটা ঘোড়া তৎক্ষণাৎ মুক্ত হয়ে গেল এবং আর্তনাদ করা, চিৎকার করা আরোহী যারা ক্যাম্পের মধ্যে ঠেলাঠেলি করছিল তাদের সামনে দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে গেল।
নেফার তার ঘোড়ার পিঠে উপুড় হয়ে শুয়ে দৌড়াদৌড়ি করা রক্ষীদের তার বাঁকা তলোয়ার দিয়ে আঘাত করতে লাগল, তাদের দুই হাতের মধ্যখানে গভীরভাবে আঘাত করল এবং ফলাটা দেহর মধ্য দিয়ে অবাধে যেতে দিল। তারপর নেফার এক সারি ভয়ার্ত ঘোড়া যারা একটা দড়ি ছিঁড়তে লড়াই করছে মুক্ত হওয়ার জন্য, এক কোপে সে রশিটা কেটে দিল এবং হাঁক দিয়ে তাদের ভয়ার্ত পালটার সাথে যোগ দিতে পাঠালো। তারপর ঘুরে অন্য এলোমেলো পশুদের কাছে গেল এবং মুক্ত মাঠে ধাক্কা দিয়ে তাদের খোয়াড় থেকে বের করে দিল। শাবাকো ও তার লোকেরা তার সাথে জোরে চিৎকার করে গেল, তারা ঘোড়াগুলোকে চাবুক মারছে। লোকজন ও প্রাণীর চলন্ত স্রোত একটা অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা করল এবং তাদের পিছনে জলন্ত দুর্গ আলোয় আলোকিত। শিয়ালদের শেষটা জ্বলে মরে গেছে এবং তাদের কালো ধিকিধিকি পুড়া মৃতদেহগুলো ঘাসে পড়ে রইল যখন আরোহীরা পাহাড়ের দিকে প্রচন্ড গতিতে চলল।
শাবাকো অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এল এবং নেফারের পাশে পাশে চলল, সেথের মিষ্টি বীজের নামে! সে চিৎকার করল, ওটা দারুন এক মজা হল। তারপর সে ঘুরে পিছনে তাকাল।
অনুসরণের কোন চিহ্ন এখনো নেই, বরং বেশি করুণা হচ্ছে। এই আনন্দদায়ক সন্ধ্যার জন্য একটা ভালো পান ও ভোজ হতে পারে।
আমি তোমাকে ওয়াদা করছি পরে আরো বেশি বিনোদন হবে। নেফার হাসল, কিন্তু এখন আমাদের অবশ্যই দলটার নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে তারা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার পূর্বেই।
তারা তাদের ঘোড়াগুলোকে জোরে ধাক্কা দিল, ছুটন্ত দলটার মধ্য দিয়ে ছুটল যততক্ষণ না তারা দলটার প্রথমে চলে এল, আড়াআড়ি ভাগ হয়ে দৌড় থেকে দুলকি চালে তাদের ঘোড়াকে নিয়ে এল এবং তারপর তাদের মুক্ত মরু ও গলালার দিকে ঘুরিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলল।
সকাল বেলা ঘোড়ার দীর্ঘ পালটাকে কৃশ পাথুরে গিরিখন্দের মধ্যে ছড়ানো পেল, নেফারের গতি ছিল সহজ কিন্তু ধীর। শাবাকোর তাদের চিহ্নিত করল যখন ম্যারন ও তার রাখালেরা পিছন থেকে দলভ্রষ্টদের দেখাশুনা করতে লাগল।
সূর্যের প্রথম রশির দিকে তির্যক দৃষ্টি হেনে নেফার শাবাকোকে ডেকে বলল, তাদের উপর মুখ উপরে ধরে রাখো ও চলতে থাক। আমি পিছনে যাচ্ছি দেখতে যে সোক্কো ও তার লোকেরা এখানে আমাদের পিছু নিয়েছে কিনা।
যাবার সময় সে ম্যারন ও অন্য তিনজনকে চিহ্নিত করল, সবাই তারা বল্লম ও তলোয়ার চালনায় দক্ষ। সে তাদের ইশারা করল এবং তারা দৌড়ে তার সাথে যোগ দিতে এল। যদি তারা আমাদের পিছু নেয়, আমাদের উচিত তাদের মন পরিবর্তনের চেষ্টা করা।
নেফার পিছনের রাস্তা দিয়ে তাদের নিয়ে চলল এবং একটা স্থানে যেখানে পাথুরের গিরিটা সরু সেখানে পৌঁছে তারা সৈন্যদের তাদের ঘোড়া রাখতে বলে সে ও ম্যারন পাথরে ঢাকা খাড়া খাজে উঠে গেল।
চূড়ায় যখন তারা পৌঁছল তখন সূর্য দিগন্তে পরিষ্কার, কিন্তু এখনো রাতের ঠাণ্ডা পুরোপুরি যায় নি এবং ধুলা ও তাপের পাতলা স্তর সৃষ্টি হয়নি। ভূমি মরুর ঊষার বিশেষ মৃদু সঞ্চারনশীল আলোয় চকচকে পাথর ও বালিয়াড়ির পর্বত, প্যাঁচানো ও কর্কশ গাছের প্রতিটি অংশকে শ্বাসরুদ্ধকর এক সৌন্দর্য অঙ্কন করেছে।
ওখানে! নেফার বলল, ম্যারনের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হল। দশজন আরোহী, ম্যারন তাদের প্রথমে দেখতে না পাবার হতাশা লুকানোর চেষ্টা করল।
এগার জন! নেফার তাকে শুধরে দিল, এবং সে তর্ক করল না। পরিবর্তে সে আনন্দে দাঁত বের করে হাসল। আমাদের পাঁচজনের জন্য সুন্দর বিরক্তি।
আমরা তাদের এখানে নিয়ে আসব। নেফার নিচে গিরি খাদের দিকে নির্দেশ করল। ওখানে যেখানে তা সরু। আমি চাই না তাদের খবর অ্যাভারিসে নিয়ে যেতে কেউ বেঁচে থাকুক।
সব থেকে ওটাই আমাকে মানায়। ম্যারন হাসল। তারা বড় পাথরগুলোর মধ্যে অপেক্ষা করতে লাগল। ঘোড়াগুলোর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে তাদের নাসিকায় হাত রেখে তাদের আওয়াজ করতে বা নাক ডাকা প্রতিরোধ করল তারা। আর তখন অদক্ষভাবে ফাঁদের মধ্যখানে নেফার একটা চামড়ার থলে ঝুলালো যা পূর্বে আটককৃত শিয়ালগুলোকে বহন করেছিল।
যখন নিচে গিরিখাতের পাথুরে ভুমি হতে তারা খুরের আওয়াজ শুনল নেফার তখন খোলা ভূমির দিকে তাকাল যেখানে ম্যারন ও অন্য লোকদের একজন লুকিয়ে ছিল, গিরিখন্দের অন্য প্রান্তে। সে আঙুল ছড়িয়ে তার বাম হাত তুলল। চুপ ও সতর্ক থাকার সংকেত। তার পিতা তাকে শিখিয়েছেন যে হাতের ইশারা মুখের আদেশ থেকে অধিক গ্রহণযোগ্য। বিশেষত যুদ্ধের ময়দানে যখন হার ও নিমজ্জিত হয়ে যাবে, গন্ডগোল অথবা এমন পরিস্থিতিতে যখন লুকিয়ে থাকাই সবচেয়ে জরুরি।
এখন সে অন্য একটা ছোট আওয়াজ করল, বালির আওয়াজের মাঝে উচ্চ কপিকলের ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ। অপর তীরের ঝনঝন শব্দের মাঝে নেফার বড় পাথরটার চারপাশে তাকাল যা তাকে ও তার দুজন সৈন্যকে লুকিয়ে রেখেছে। ফুলের গাছের একটা কটকটে ঝোঁপ তার মাথার ছায়ামূর্তিটাকে বাধা দিচ্ছে।
