সে সোক্কোকে রথ থেকে প্রায় টেনে বের করতে যাবার পূর্বে টাইটা তাকে ধরে ফেলল এবং তাকে সে যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখানেই স্থির রাখল। মনে হল এটাও সোক্কোকে আক্রমণ করল, কারণ তার কণ্ঠ পরিমিত হলো যখন সে তার চাবুক কুন্ডলী করল এবং বলল যদি আমি তোমাদের আবার এখানে পাই তবে তোমাদের বিচি খুলে নেবো। সে তার যান পুনরায় রাস্তার দিকে ফিরিয়ে দুর্গের দিকে দুলকি চালে চলে গেল।
ছয় রাত পর নতুন চাঁদের অন্ধকারে তারা শক্তি নিয়ে থেইন এ ফিরল। গালালা হতে প্রতিটি লোক যারা পায়ে চলতে পারে তারা সহ ৪০ জন ঘোড়া সাওয়ারী কালো কাপড় পরিহিত ও অর্ধ ঢাকা চেহারায় রয়েছে। প্রত্যেক আরোহী একটি করে বড় থলে বহন করছিল, ঘোড়ার পশ্চাৎদেশে তা ঝোলানো। থলের ভেতরের জিনিসগুলো দেহ মোড়ানো ও নড়াচড়া করছিল। প্রাণীগুলো চাপা ধ্বনি ও কাতর স্বর নির্গত করছে। প্রতিটি থলেতে রয়েছে দুইটা বা তিনটা জীবন্ত খেকশিয়াল। তাদের পা বাঁধা এবং হালকা প্যাঁচানো কাপড়ের টুকরা তাদের মুখে গোঁজা রয়েছে তাদের মুখরোধ করার জন্য।
ঘোড়ার খুরের আওয়াজ চাপা দেওয়া হলো চামড়ার জুতা দিয়ে। নেফার তাদের দুর্গের পশ্চিম পাশের দিকে এক সারিতে প্রশস্ত প্রদক্ষিত পথে নিয়ে গেল। সৈন্যরা সাবধান থাকল যাতে রক্ষীদের সতর্ক না হতে পারে।
প্রতিটি লোক জানে তাকে কি করতে হবে কারণ তারা এই কৌশলটি অনেকবার অনুশীলন করেছে। তারা নিরবে তাদের গঠনে, কালো ঘোড়া সওয়ারীদের অর্ধচন্দ্রাকায় অবস্থায় রাখল থেইন ও নদীর বরাবর। একত্রে থেকে তারা তাদের মাঝের দূরত্ব রাখল যথেষ্ট কাছাকাছি যাতে একটা নিরব নিদর্শন সারি মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। নেফার ছিল মধ্যখানে, ম্যারন বা দিকের অংশে এবং শাবাকো ডান দিকে।
যখন নেফার সন্তুষ্ট হলো যে তারা অবস্থান ঠিক ভাবে নিয়েছে তখন সে নাটিংগেইলের মত ডাক দিল, তিনবার পুনরাবৃত্তি করল এবং অন্ধকারে তখন সে জ্বলন্ত দাগের লাল সারিটা দেখল। কারণ তার লোকেরা কাদার আগুনের পাত্রের ঢাকনা খুলে দিয়েছে যা সবাই বহন করেছিল। সেও একই কাজ করল। সে তার ঘোড়ার পিছনে রাখা একটা থলের মুখ খুলে ভেতরে হাত ঢুকাল। ঘাড়ে ধরে সে একটা শৃগালী বের করল যে তার মুঠোর মধ্যে আর্তনাদ করে উঠল।
একটা কর্কশ আলকাতারার গন্ধ তার নাকে, এল। স্বাভাবিক দুর্গন্ধ ঢেকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী একটা কালো আঠালো তরলে প্রলেপ শেয়ালটার চামড়া ও লেজে দেয়া হয়েছে। টাইটা এই আঠালো পদার্থটি একটা প্রাকৃতিক ঝর্ণা থেকে সংগ্রহ করেছে যা সে আগে থেকেই চিনত। এটা মাটি থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ে এবং টাইটা বলেছে যে তা অনেক গভীর থেকে আসে। এটা খুবই দাহ্য কিন্তু সে এটাকে অন্য একটা পদার্থের সাথে মিশিয়েছে, একটা হলুদ স্ফটিক নির্মিত পাউডার যা এটাকে আরো অধিক দাহ্য করে তুলেছে। প্রতিটি আটক করা খেঁকশিয়ালকে এই মিশ্রন দিয়ে লেপ দেওয়া হয়েছে।
নেফার তার ছুরি দিয়ে প্যাচানো রশিটা কাটল যা শৃগালীর চারটি থাবা একসাথে বেঁধে রেখেছিলো। প্রাণীটা মুক্ত হতেই নেফার তার হাতের মধ্যে রেখে তাকে লাথি দিল, প্রাণীটা তোলপাড় করল। সে তার পশমি লেজটা আগুনের পাত্রে স্পর্শ করাল যা ফুতফুত করে ধোয়া সৃষ্টি করে আগুন ধরাল। পালানোর জন্য প্রাণীটা তার চেষ্টা দ্বিগুণ করছে, কিন্তু মুক্ত হওয়ার পূর্বে নেফার তার ঠোঁটের মধ্যে ছুরির ডগা ঢুকিয়ে দিয়ে প্যাচানো রশি কেটে দিল যা তার মুখরোধ করেছিল। সাথে সাথে সে তার চোয়াল প্রশস্ত করে একটা কান ফাটানো চিৎকার দিল, অলীক ও ভয়ার্তক। নেফার তাকে মাটিতে ফেলে দিল এবং ছোট প্রাণীটি আগুনের একটা প্রবাহ এবং স্ফুলিঙ্গ তার পিছনে ছড়িয়ে গর্জন করতে করতে ছুটে গেল ও এমনভাবে চিৎকার করছে যা তার স্নায়ুকে সচকিত করল এবং তার ঘাড়ের পিছনের চুল খাড়া করে ফেলল।
তারপর থলে থেকে আরেকটা খেঁকশিয়াল বের করল সে। অন্ধকারে আগুনের সব বৃত্তগুলো সারি ধরে জ্বলল, খোলা মাঠে ঘুরে বেড়ালো এবং এক ভয়ংকর কাতর গর্জন রাতটাকে অশুভ করে তুলল। যন্ত্রণা কাতর প্রাণীগুলোর অল্প কয়েকটা নদী উপত্যকা ফিরে এল কিন্তু অন্যরা সহজভাবে মরুতে তাদের আবাসের দিকে চলল। থেইনের দুর্গের দিকে সরাসরি তাদের রাস্তায় একত্রে তারা সৈন্য সারির দিকে দ্রুত চলল।
যখন নেফার শেষ চিৎকাররত খেঁকশিয়ালটা অবমুক্ত করল, সে তার তলোয়ার বের করল এবং লাথি দিয়ে ঘোড়া ছুটাল। সে জ্বলন্ত প্রাণীগুলোর পিছু নিল এবং উভয় পাশে তার সাথে তার সৈন্যরা চলছে। তারা সবাই তাদের কণ্ঠে শয়তানের মতো শব্দ করল চিৎকারের সাথে যুক্ত করে।
কয়েকটা শিয়াল তাদের আগুনধরা লেজগুলো শুকনো ঘোড়ার খাবার ও বাসস্থানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। ফলে তাতে আগুন ধরে গেল। একটা রহস্যজনক মিটমিট আলোয় দৃশ্যটা আলোকিত হল যা অন্ধকারের যাত্রীদের মনে হলো কোন দৈত্য।
সম্মুখে নেফার দেখল সবচেয়ে কাছের রক্ষীরা তাদের অস্ত্রগুলো একপাশে সজোরে নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাচ্ছে জলন্ত প্রাণীগুলোর মতই সজোরে চিৎকার করতে করতে।
জ্বিন! তারা আর্তনাদ করল।
আমাদের রক্ষা কর! সেথ! অন্ধকারের রাজা আমাদের সাহায্য কর।
