মেরিকারা কথা বলেই চলছিল। অবশ্যই, সঙ্গে সঙ্গে তালাকের পর সে আরেকটা ভেড়া বলি দিল এবং ব্যভিচার ও প্রভুদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ করার জন্যে মিনটাকাকে মৃত্যুদন্ড দিল।
নেফার ঘুরে মিনটাকার চোখের গভীরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সেও তাকিয়ে রইল, তারা মেরিকারার প্রকাশিত তথ্যটা বিবেচনা করতে লাগল। ধীরে ধীরে নেফারের চেহারায় একটা অদ্ভুত অভিব্যক্তি ছড়িয়ে পড়ল, একজন দোষী ব্যক্তির ন্যায় তার দন্ডাদেশটা শুনে। তুমি মুক্ত আমার, ভালোবাসা। সে বলল, এবং তোমার স্বাধীনতা আমাকেও মুক্তি দিল।
৭. ঊষার পূর্বে
পরের দিন ঊষার পূর্বে যখন ভালো মদের প্রভাবে শহরের অধিকাংশ ঘুমাচ্ছিল নেফার একটা পুরানো ভবনে তার ব্যক্তিগত বাসস্থানে টাইটাকে খুঁজতে গেল। টাইটা প্যাপিরাসের স্ক্রৌল থেকে চোখ তুলে তাকাল, সে একটা তেলের প্রদীপের মিটিমিটি হলুদ আলোতে পড়ছিল তা।
তুমি কি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত? নেফার অদ্ভুত সংশয় নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
দেখতেই পারছ যে আমি ব্যস্ত। টাইটা বলল কিন্তু সেই সাথে আত্মসমর্পিত চিত্তে সে স্ক্রৌলটা কাঠের দন্ডের উপর ভাজ করতে শুরু করল। কিছুক্ষণ নেফার কক্ষটার ভেতর উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা করল, কিছু জিনিস দেখার জন্য থামল যা বৃদ্ধ লোকটি সংগ্রহ করেছে। যতোদিন ধরে তারা এখানে গালালায় আছে–রঙে বেরঙের পাখিদের সংরক্ষিত চামড়া, ছোট স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপের কংকাল, শুকনো কাঠ অথবা চারাগাছের অস্বাভাবিক আকৃতির টুকরো এবং অন্যান্য আয়তাকার বস্তু, বোল অথবা বোতল অথবা থলের মধ্যে যা বেঞ্চের উপর অথবা অস্বাভাবিক স্তূপ করা সব সংগ্রহ করেছে। টাইটা ধৈৰ্য্য নিয়ে অপেক্ষা করল তার আগমনের কারণটা জানতে, যদিও সে ভালোভাবেই জানত যে তা কি হতে পারে।
নেফার অনেক পুরানো কাঁকড়ার একটা ফসিল তুলে নিল এবং তা প্রদীপের আলোয় ধরল। মিনটাকা আর টর্কের সাথে বিবাহিত নয়। সে বলল চোখ না তুলেই।
আমার দুই কানে তখন পাথর চাপা পড়েছিল না যে আমি বুঝতে সক্ষম ছিলাম না।
নেফার ফসিলটা পূর্বের স্থানে রেখে দিল এবং আইসিসের একটা ব্রোঞ্জের মূর্তি তুলে নিল যা টাইটা শহরের দেয়ালের নিচ থেকে খুঁড়ে তুলেছে। এর উপরটা সবুজ তালংকের ভারি স্তরে ঢাকা।
চিফ্রেন এর মূর্তির নিচে একজন রাজার বিয়ের উপর কি কি শর্ত আরোপিত হয়েছে? যে সতর্কভাবে জিজ্ঞেস করল।
টাইটা চিন্তায় মগ্ন হয়ে আনমনে তার নাক ধরল এবং নিরীক্ষণ করল সে তার তর্জনীর শেষ প্রান্তে কি ধরে আছে। অন্য যে কোন বিয়ের কন্যার মতো তার স্ত্রীরও বিয়ে করার জন্য স্বাধীন হওয়া উচিত, হয় একজন কুমারী অথবা একজন বিধবা। সে বলল।
অথবা তার স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত।
অথবা ক্ষমতাধীন ফারাও এর আইন দ্বারা, টাইটা মাথা ঝাঁকাল এবং সে দেবত্বপ্রাপ্ত বা বিয়ে করার পূর্বে তাকে তার সার্বভৌম ক্ষমতায় স্থিরকৃত হওয়া উচিত।
স্থিরকৃত হওয়ার জন্য ফারাওকে অবশ্যই তার সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে হবে। যা আমার নেই অথবা তার গড বার্ড ধরতে হবে, যা আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু বিফল হয়েছি, অথবা তাকে যুদ্ধে পারদর্শী হতে হবে–রেড রোড এ। নেফার থামল তারপর বলে চলল, যা আমার নেই এখনো। সে শেষ শব্দটায় জোর দিল। টাইটা চোখ পিটপিট করে তাকাল, কিন্তু উত্তর দিল না।
নেফার মূর্তিটাকে রেখে দিল এবং সংকল্প নিয়ে টাইটার দিকে তাকাল। আমি রেড রোড এ অংশ নিতে ইচ্ছুক।
টাইটা নিরবে তাকে পর্যবেক্ষণ করল। তুমি এখনো তোমার পূর্ণ বৃদ্ধি ও শক্তিতে নেই।
আমি যথেষ্ট বড় হয়েছি এবং শক্তিশালী।
তোমার সাথে কে দৌড়াবে?
ম্যারন। নেফার দৃঢ়ভাবে বলল।
আরো অধিক শক্তিশালী ও অধিক অভিজ্ঞ লোক আছে যারা তোমাকে আরো বেশি সাহায্য করতে পারবে। অনেক লোক আছে যারা ট্যামোসিয়ান বংশের একজন ফারাও এর চুলের বিনুণী একত্রিত করতে খুব ভালোবাসে।
আমি ম্যারনকে কথা দিয়েছি। নেফার দৃঢ়ভাবে বলল।
দুটো কুকুরছানা তাদের উদ্যমতা ও অজ্ঞতায় তাদের নিজেদের থাবায় হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছে, টাইটা ভাবল কিন্তু পরিবর্তে সে বলল, গালালায় কোন অক্ষত ঘোড়া নেই। অন্তত একটি, যা এই উদ্দেশ্য সাধন করতে পারবে।
আমি জানি কোথায় তাদের পেতে হবে। নাজা ও টর্ক অরক্ষিত অবস্থায় এর অনেকগুলো মিশরে ফেলে গেছে। টাইটা ঐ জোরালো উক্তির বিভ্রান্তি চিহ্নিত করে তাকে বিব্রত করল না। ভুয়া ফারাও মিশর প্রহরায় এমনকি তার মেসোপটেমিয়া অভিযানে তাদের সাথে যতো নিয়ে গেছে তার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ সৈন্য রেখে গেছে। কিন্তু সে জানে নেফার কোন যুক্তি শুনতে ইচ্ছুক নয় যা তার নির্ধারিত ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়।
যদি তুমি ব্যর্থ হও তবে তুমি তোমার চুলের থেকে বেশি হারাবে। তুমি এতোটাই সম্মান হারবে সে সিংহাসনের প্রতি তোমার দাবিও ব্যর্থ হতে পারে।
আমি ব্যর্থ হব না; নেফার শান্ত ভাবে বলল। টাইটা ঠিক এই উত্তরটাই আশা করেছিল।
তুমি কখন রেড রোড চেষ্টা করতে চাও? সে জিজ্ঞেস করল।
প্রথমে আমাকে আমার ঘোড়া পেতে হবে।
*
যখনই তারা ঝর্ণা খনন করেছে এবং গালালাকে স্থায়ী বসতি হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে তখনই নেফার টাইটার উপদেশে শহরের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। মানুষের মল, গবাদি পশুর বর্জ্য ও ঘোড়ার সারি থেকে গোরুর গোবর পর্যন্ত গাড়িতে একত্রিত করে সার হিসেবে জমিতে ছিটানো হয়। আর বাকি অবশিষ্টাংশ উপত্যকার প্রান্তের জলায় নেওয়া হলে তা শীঘই কাক ও চিলের, শকুন ও কলিজা খাদকের স্থায়ী আবাসে পরিণত হয়েছে। বেবুনগুলো পাহাড় থেকে নেমে আসে এবং শতশত খেকশিয়াল ও বেওয়ারিশ কুকুর আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবার খায়।
