*
নেফার পুরানো শহরের মঞ্চে তার সভাসদদের সমাবেশ ডাকল এবং তাদেরকে সব কিছু বিস্তারিত বর্ণনা দিল। সে রত্নের গাড়ি থেকে বাটগুলো তোলার বিস্তারিত বর্ণনা করল এবং ব্যাকুলভাবে তা শুনল সবাই। তারপর সে তাদের নিকট মেরিকারাকে উপহার দিল এবং বিবৃত করল কিভাবে তাকে নাজা ও টর্কের নাকের ডগা দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চিৎকার করে উঠল তখন,বাক হার! এবং তাকে সম্মান জানাতে উঠে দাঁড়াল।
তারপর নেফার অনুলেখকদের ডেকে তার সভাসদদের সামনে স্বর্ণের বাটগুলো মাপল একে একে। শেষ গণনা হল অর্ধ লাখের বেশি, আমার লর্ড! আমরা যা অর্জন করেছি তা এর মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। হিল্টো অবশিষ্টগুলো নিরাপদে আনতে ওয়াগন নিয়ে যাবে। সে আগামীকাল যাবে কিন্তু তার সাথে যাওয়ার জন্য লোক দরকার।
মনে হল গালালার প্রতিটি সক্ষম দেহ স্ব-ইচ্ছায় যেতে উদ্যমী, কিন্তু যখন শাবাকো এবং সর্বাধিক পরিক্ষিত ও অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের বাদ দেয়া হল তখন তারা তিক্ত প্রতিবাদ করল। ফারাও কি আমাদের এখানে এই গালালায় বসিয়ে রাখবেন বৃদ্ধ মহিলাদের মতো ঘরে বসে স্বপ্ন দেখতে? শাবাকো জিজ্ঞেস করল।
নেফার হাসল। আপনাদের জন্য আমার কাছে আরো কঠোর কাজ আছে। কিন্তু এখন অনেক বেলা হয়েছে এবং একটা বিজিত ভোজ আমাদের জন্য প্রস্তুত। আমরা শীঘ্রই যুদ্ধ সভায় মিলিত হবো, আমি এ ব্যাপারে আপনাদের আমার কথা দিলাম। সে তাদের নিশ্চিত করল এবং সভা ভেঙ্গে দিল। তারা ক্ষোভে বিড়বিড় করতে করতে চলে গেল, কিন্তু তাদের মেজাজ আবার পুনঃজ্জীবিত হল নতুন তৈরি সতেজ মদের প্রথম পত্র পান করার পর।
নেফার দুটি বলদ ও এক ডজন নাদুস নুদুস ভেড়া জবাই করার আদেশ দিয়েছে এবং তার ফেরার পর থেকে মহিলারা একটা উজ্জীবিত ভোজ প্রস্তুত করতে প্রতিটি মিনিট ব্যয় করেছে। শহরের প্রতিটি পুরুষ ও মহিলাদের দাওয়াত দেয়া হয়েছে এবং এমনকি পাহাড়ের চূড়ার দূর্গ ও দর্শন স্থানের প্রহরীদেরও তাদের অংশ পাঠানো হল। ঝর্ণাটা খনন করার মতই স্বর্ণ জেতাটা একটা অর্জন ছিল যা পুরো গোত্রটাকে আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
এই উপলক্ষ্যটা স্মরণীয় করার জন্য টাইটা একটি বীরত্বগাঁথা কবিতা লিখল এবং তার সকল সৃজনশীল কাজের ন্যায় এটাও একটা নিদর্শন, মোহিত সফলতা হল। যখন সে শেষ করল তারা তাকে বসতে দিল না, বরং চিৎকার করে ও তাদের পাত্র টেবিলে বাজিয়ে তাকে আরো ৬০ লাইন পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করল সবাই। তখনই তারা পুরো মহাকাব্যটা মুখস্থ করল এবং সঙ্গীতজ্ঞরা এর একটা সুর দিল সাথে সাথে। সবাই মিলে বিশুদ্ধ আনন্দে তৃতীয় ও শেষ পরিবেশনায় যোগ দিল।
তারপর নেফার যে কোন একজন নাগরিককে যে বক্তৃতা দিয়ে চায় দাঁড়াতে আহ্বান জানালো। বক্তৃতায় কিছুটা অসংলগ্ন ছিল কিন্তু ভালোভাবেই গৃহীত হল, অন্যরা আনন্দে উদ্বেল ছিল অথবা এতো মর্মভেদী ছিল যে অধিকাংশ মহিলা ও অনেক পুরুষ পর্যন্ত আবেগে কাঁদল। এই আবেগে আপ্লুত পরিবেশে মেরিকারা মিনটাকার কোলে মাথা রেখে তার ভাইয়ের সাথে কথা বলল। তাদের চারপাশের হট্টগোল এতো বেশি ছিল যে শোনানোর জন্য তাকে তর কণ্ঠ উঠাতে হল। রাজকীয় ও মহান ভাই। সে তাকে খোঁচা মারল কারণ সেও মদের উপাদান কিছুটা পরীক্ষা করে দেখেছে। আমি তোমার কাছে ছোট্ট একটা জিনিস চাই।
ছোট্ট বোন, কেউ আর ক্ষুদ্র নেই, তোমার যা খুশি চাও এবং যদি তা আমার ক্ষমতার মধ্যে হয় তবে তুমি তা পাবে।
এটা সম্পূর্ণ তোমার ক্ষমতার মধ্যে। সে বোকার মতো বলল। নিচে টেবিলে ম্যারনের দিকে সে তাকাল। তার উৎসুক দৃষ্টি তখন তার উপর নিবদ্ধ। সে তার চোখ নামাল এবং আবেগের গোলাপী আভায় লাল হয়ে গেল। তুমি জান যে শিশু বয়স থাকতেই আমার বিয়ে হয়েছিল আমার সম্মতি ছাড়া ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আমি চাই তুমি আমাকে মুক্ত করে দাও যাতে আমি আমার নিজের পছন্দের স্বামীর কাছে যেতে পারি। এটা হবে আমার জন্যে সবচেয়ে দামী উপহার যা তুমি আমাকে কখনো দিয়েছে।
তা কি সম্ভব? নেফার তৎক্ষণাৎ গম্ভীর হয়ে গেল, এবং টাইটার দিকে তাকাল। তা কি আমার ক্ষমতার মধ্যে যে কোন স্বামী ও স্ত্রীকে আলাদা করে দেবো প্রভুদের সম্মুখে?
তুমি ফারাও, টাইটা উত্তর দেওয়ার পূর্বেই মেরিকারা বলে উঠল। ঠিক যে ভাবে টর্ক মিনটাকাকে তালাক দিয়েছে, সে ভাবে তুমি আমাকে নাজা থেকে আলাদা করতে সক্ষম।
টর্ক মিনটাকাকে তালাক দিয়েছে? নেফার জানতে চাইল, এতো তীক্ষ্মভাবে যে যারা শুনল চুপ হয়ে গেল।
তুমি কি জান না? মেরিকারা প্রশ্ন করল। ক্ষমা করো, তোমার কাছে এরকম সাধারণ ও অচিন্তনীয়রূপে প্রকাশ করার জনে। আমি ভেবেছিলাম এরকম স্মরণীয় সংবাদ এখানেও পৌঁছে গেছে। নেফার মিনটাকার হাত ধরল ও তার মাথা নাড়ল এতোটাই আবেগাপ্লুত যে কথা বলতে পারল না। মেরিকারা প্রাণবন্ত হয়ে বলে চলল, ওহ, হ্যাঁ! তার নিজের পবিত্র দিনে তার নতুন মন্দিরে ফারাও টর্ক একটা ভেড়া বলি দিয়ে তিনবার উচ্চারণ করেছে, আমি তাকে তালাক দিলাম। মেরিকারা হাততালি দিল। এবং প্রমাণিত! ভয়ংকর কাজটা শেষ।
নেফার মিনটাকাকে আরও একটু তার কাছে টেনে নিল এবং টাইটার দিকে তাকাল। বৃদ্ধ লোকটি আইনটা যে কোন মিশরের অনুলেখকদের চেয়ে ভালো জানে এবং নেফারের নীরব জিজ্ঞাসায় সে নিরবে মাথা ঝাঁকাল।
