তুমি তা কিভাবে করবে? তাকে হতভম্ভ দেখাল। আমি অন্য রথে চড়ব, সে বলল এবং যেখানে ম্যারন তার জন্য অপেক্ষা করছিল সেখানে গেল।
পরের দিন তারা যিনাল্লার মরুদ্যানে পৌঁছাল এবং সেখানে হিল্টোর দলটা তাদের আগে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। এবার নেফার রথের মধ্যে লোকজন ও বাটগুলো সমানভাবে ভাগ করে দিল এবং তারা আরো ভালো গতিতে গালালার দিকে এগিয়ে চলল তখন।
*
মিনটাকা হাথোর মন্দিরের ছাদের উপর ছিল, যা সে এবং আরো কয়েকজন মহিলা ও কয়েক জন বৃদ্ধ লোক মিলে দেবীর জন্যে তৈরি করেছে যাতে তারা তার উপস্থিতিতে তাদের পূজা করতে পারে। ভবনটা হয়তো হাজার বছরের পুরানো হবে, নির্ণয় করার কোন রাস্তা নেই। অনেকগুলো প্রাচীর চিত্র তখনও চমৎকার অবস্থায় ছিল এবং শুধুমাত্র একটু কষ্ট করে তা উপরে উঠানোর দরকার। ছাদটা ছিল আরেক চিন্তার বিষয়। যাহোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপাদানগুলো দিয়ে খুব ভালোভাবেই দেয়ালের বড় গর্তগুলো ঢাকা গেল। শুধু পচা কাঠের তূপগুলো সরানোর দরকার ছিল যা পূজারীদের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। মিনটাকা এই কাজের দেখাশুনা করল। সে অন্য মহিলাদের মত সাধারণ কাপড় পরিধান করেছে যা ছিল খুব পুরানো এবং তাদের মত সেও রোদে পুড়ে বাদামী হয়ে গিয়েছে। এই জীবনটা তার রাজকীয় যাপন থেকে অনেক আলাদা এবং সে তার নতুন স্বাধীনতা ভালোই উপভোগ করছে। বিশেষ করে তার নতুন সাধারণ সঙ্গীদের বন্ধুত্ব ও সহচার্যে।
অনভ্যস্ত কাজের ফাঁকে তার ব্যথিত পিঠটা সোজা ও প্রসারিত করে সে উঁচু দেয়ালের উপর সহজভাবে নিজের ভারটা সামলালো, তারপর চোখের সামনে ছায়া দিয়ে নতুন শস্য ক্ষেতের উপর দিয়ে দূরে তাকাল এবং সেচের গর্তের প্যাটার্ণগুলো টাইটার ঝর্ণার পানিতে ঝিকমিক করতে দেখল যা পানিতে পূর্ণ। গরুর পাল ও মোটা লেজের এক পাল ভেড়া সবুজ ছোট মাঠে ঘাস খাচ্ছে কিন্তু খুব অল্প কয়েকটি ঘোড়া সেখানে রয়েছে। গালালার অন্য প্রতিটি মানুষের মতো সেও এই অপূর্ণতা খুব গভীরভাবে অনুভব করল।
সেই সাথে তার অতিক্রান্ত দীর্ঘ ও নিঃসঙ্গ দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্তও ছিল যখন থেকে নেফার শহর ছেড়েছে। সে চোখ ফিরিয়ে নিচের উপত্যকায় তাকাল, শূন্য নিষিদ্ধ পাহাড়গুলোর মধ্যে ওটা শহরের চারপাশের ঝাঁক বাঁধা সবুজ মঠের সাথে বিষণ্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এ হল সেই পথ যে দিক দিয়ে নেফার আসবে। কোন আশা ছাড়াই সে নীল দূরত্বটা পরিমাপ করল, সে সম্প্রতি প্রায়ই হতাশ হয়ে যায়।
হঠাৎ আলোর ঝলকানির বিপরীতে সে তার চোখ সরু করল এবং তার হৃদ্স্পন্দন দ্রুত হয়ে গেল। কিছু একটা সেখানে আকাশের অনেক উঁচুতে বিশালত্বের বিপরীতে ক্ষুদ্র বাতাসে ভাসমান একটা পালকের মতো অলীক ও বায়বীয় একটা ধুলোর শয়তান ঝলক তুলল, সম্ভবত একটা বাওকুড়ানী মরুর গরম বাতাসে সৃষ্টি হয়েছে।
সে অন্য দিকে তাকাল এবং তার ঘনকালো ভ্রু থেকে ঘাম মুছল, চোখগুলোকে বিশ্রাম দিতে। তারপর পুনরায় তাকালে ধুলার মেঘটা আরো নিকটে মনে হল এবং সে আশায় বুক বাধল। সেই সময়ে র্যাম বাঁশি সতর্ক করতে জোরে একবার বেজে উঠল। পাহাড়ের চূড়ার প্রহরীরাও এটা দেখেছে। তার আশপাশের অন্যরা কাজ থামিয়ে তখন উপত্যকায় উঁকি দিল। নিচের রাস্তা থেকে ছেলেমেয়েদের উত্তেজিত চিৎকার এল, বধূরা দৌড়ে ঘরে গেল, রথীরা বাজারের বাইরে যেখানে তাদের যান ছিল সেখানে চলল। সবাই সুখের উত্তেজনায় কর্মব্যস্ত।
মিনটাকা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে উঁচু বেদি থেকে নেমে এল যা মন্দিরের বাইরের দেয়াল ঢেকে আছে। বাগানের ফল চোর ধরতে যেমন ব্যস্ত তেমন ব্যস্ততায় সে দৌড় দিল। শাবাকো ট্যানোসের যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ পেরিয়ে প্রধান ফটকের দিকে তার রথ দ্রুত চালাচ্ছে।
শাবাকো! সে দৌড়ে তাকে ধরতে গেল। শাবাকো তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এক পাশে সরে এল এবং সে থামাতেই মিনটাকা পাদানিতে তার পিছনে লাফিয়ে উঠল। তারা দ্রুত ফটক দিয়ে প্রবেশ করল, চাকার দাগের পথ দিয়ে।
এটা কি তারা, শাবাকো? বল আমাকে, তারা কি?
আমি তাই বিশ্বাস করি মহামান্য, সে চিৎকার করে বলল, বাতাসের গতি ছাড়িয়ে।
তাহলে তুমি এতো ধীরে চলছো কেন?
তাদের সম্মুখের ছোট পাহাড়ে একটা যান দেখা গেল। মিনটাকা ড্যাশ বোর্ডে ঝুঁকে রথীকে চেনার চেষ্টা করল, কিন্তু সে তখনো অনেক দূরে।
দেখুন মালকিন! সে নীল ছোট পতাকা উড়াচ্ছে। শাবাকো রং করা কাপড়ের একটা টুকরোর দিকে নির্দেশ করল যেটা রথের উপর একটা লম্বা বাঁশের উপর পড়ে দুলছে।
এটা নেফার! ওহ্ দেবীকে সকল প্রশংসা, এটা সে!
মিনটাকা তার মাথার কাপড় টেনে খুলে তা নাড়ালো। নেফার দ্রুত গতিতে চলে এল তার কাছে।
আমাকে নামতে দাও! সে শাবাকোর কাধ ধরে বলল, তার আদেশ জোরালো করার জন্য। তার ঘোড়াগুলো দুলকি চালে ধীর করল শাবাকো। মিনটাকা রথটা থামার আগেই লাফ দিল। তারপর সে তার দুই বাহু প্রসারিত করে দৌড় দিল এগিয়ে আসা রথের সাথে সাক্ষাৎ করতে।
পিছনে আসতে আসতে টাইটা ভাবল যে তার ব্যাকুলতায় নেফার হয়তো রথটা থামাবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে সরে এল এবং যখন রথটা গতি হারাল সে ককপিটের পাশ দিয়ে অনেক খানি ঝুঁকে গেল এবং মিনটাকার জন্যে হাত বাড়াল, বিশ্বস্তভাবে সেও নিজেকে তার বাহুর বৃত্তে নিক্ষেপ করল। যদি সে ইতস্তত করত বা পিছিয়ে যেত তবে সে ছুটন্ত ঘোড়াগুলোর নিচে পিষ্ট হত অথবা ধাতুর চাকার নিচে পড়ত নিশ্চিত। কিন্তু সে তাকে ধরে তুলে নিল, তাকে উঁচু করে দুলালো এবং সেও তার বাহুতে হাসল।
