নেফার মরদেহটার পাশে হাঁটুগেড়ে বসে মৃত মেয়েটার গলায় নেকলেসের সূতা বাধল এবং আংটি ও চুরিগুলো কংকালসার আঙ্গুল ও কব্জিতে পড়িয়ে দিল। সে মেরিকারার স্কার্ট ও নিতম্বের পোশাক ওটার শক্ত পায়ে পরাতে পারল না। অগ্যতা সে তা ছিঁড়ে ময়লা মাখাল। তারপর সে তার নিজের বৃদ্ধাঙ্গুল ছুরি দিয়ে কাটল এবং সুন্দর কাপড়ের উপর সতেজ রক্ত ঝড়ালো। নিকটে থাকা ক্ষুধার্ত হায়েনা দলের সমোচ্চারিত চিৎকার ও ডাকাডাকি ভেসে এল সাথে সাথে তখন।
মেরিকারা কেঁপে উঠল। তারা দেহটার গন্ধ পেয়েছে।
তারা নাজাকে বিশ্বাস করানোর জন্য খুব অল্পই প্রমাণ রেখে যাবে। সবাই ভাববে যে তোমাকে বন্য পশুরা খেয়ে ফেলেছে। সে উঠে দাঁড়াল। এখন আমাদের যেতে হবে।
ঝর্ণার উজানে একটু দূরে রথগুলো অপেক্ষা করছিল। নেফার তাদের চিহ্ন মৃত মেয়েটার দেহের কাছাকাছি ফেলে যেতে চাইল না। সে মেরিকারাকে তার পাশে পাদানিতে তুলে পূর্ব দিকে তাকাল। ভোরের তারা, সে শান্ত ভাবে বলল। এক ঘণ্টার মধ্যে আলো ফুটবে। আমরা বাকি অন্ধকারে দ্রুত এগিয়ে যাবো।
যখন উষা ফুটল, গোলাপ ও মিষ্টি হলুদ ফুলের সুবাস তাদের পিছনের আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। তারা তখন মালভূমির ঢালে অর্ধেক পথ নিচে নেমে গিয়েছে এবং তাদের নিচে মরুভূমি ছড়িয়ে আছে বিস্তৃত প্রান্তর জুড়ে।
এ এমন মহিমান্বিত দৃশ্য যে না চাইতেও তারা ঘোড়ার লাগাম টানল এবং শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভয়ে সোনালি বালুর সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল অপলক দৃষ্টিতে, ম্যারন ছাড়া বাকি সবাই। বাতাসে যারা প্রভুদের সান্নিধ্য পেতে অর্ধ পৃথিবী জুড়ে ভ্রমণ করেছে তাদের নামে সে পূজা করল। তারপর মেরিকারার দিকে তাকিয়ে রইল যে প্রথম রথে তার ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। দীর্ঘ রাতের যাত্রায় সে তার কাছ থেকে অন্ধকার দিয়ে লুকানো ছিল। কিন্তু এখন সকালের সূর্য তার উপর পড়তেই সে তাকিয়ে রইল মুগ্ধ নয়নে। সে তার জীবনের বেশির ভাগ সময় তাকে জেনেছে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, দুষ্ট বালিকা হিসেবে। দুই বছরের মধ্যে এই প্রথমবার সে তার দিকে দৃষ্টি দিল। সময় তার মাঝে এক অলৌকিক পরিবর্তন এনেছে। এখন প্রতি মুহূর্তে তার প্রতিটি নড়াচড়া ও তার মাথার প্রতিটি ঘূর্ণন মাধুর্যময়। তার চেহারার কোনো অংশ সরু, দেহের প্রতিটি বাঁক মনোরম। তার ত্বক ক্রিম ও মুক্তার ন্যায়। তার চোখ যে কোন পান্নার চেয়ে সবুজ ও উজ্জল। তার কণ্ঠ ও হাসি সবচেয়ে মনোহরিণী সঙ্গীত যা সে এ পর্যন্ত শুনেছে।
টাইটা তার অভিব্যক্তি ধরল এবং মনে মনে হাসল। এমনকি সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে জীবন নিজেকে নতুন করে লড়াই করতে শেখায়, সে ভাবল। তারপর উচ্চস্বরে বলল, মহামান্য! আমাদের এখানে দেরি করা ঠিক নয়। ঘোড়াগুলোর পানি দরকার।
পাহাড়ের পাদদেশে তারা প্রধান সড়ক ছেড়ে দক্ষিণে বিশাল তিক্ত হ্রদ বরাবর রওনা দিল। তারা চলতে থাকল যততক্ষণ না তারা প্রথম পানি পাত্রের গুপ্ত ভান্ডারে এসে পৌঁছল যা তারা তাদের ফিরতি যাত্রার জন্য ফেলে গিয়ে ছিল এবং দেখল হিল্টো সেখানে ছিল তাদের পূর্বে। তার রথের দাগ থেকে তারা বলতে পারল যে তার রথগুলো স্বর্ণের বাটে বোঝাই ফলে খুব ধীরে তা চলছে এবং সে সামনে খুব বেশি দূরে নয়।
তারা স্বস্তি পেল যে সে সব পানি শেষ করেনি বরং চারটা জার অস্পর্শ রেখেছে যা তাদের ঘোড়াগুলোর জন্যে যথেষ্ট। এ দিয়ে তারা পরবর্তী মরুদ্যান যিনাল্লাতে পৌঁছতে পারবে।
যদিও মেরিকারা নেফার ও টাইটার সংস্পর্শে উৎফুল্ল ও প্রাণবন্ত ছিল, কথা বলল ও হাসি তামাশা করল তবুও সে কোন কারণে ম্যারনকে খেয়াল করল না অথবা তার দিকে তাকাল না। যখন সে বুঝল যে তা করা নিরাপদ চুপিসারে একবার তার দিকে চোখ তুলে তাকাল। যদিও তা বেশিদিন আগে নয় সে তাকে প্রভুত্বের তাচ্ছিল্য নিয়ে বিবেচনা করেছে, তবুও ম্যারন এখন খুব দমিত তার সাথে সরাসরি মুখোমুখি হতে। কারণ সে হল রাণী, যদিও হোক না ভূয়া: ফারাও এর। এখন তার চোখে সে কমপক্ষে একজন দেবী।
এক শত বার হবে তারা থেমেছে আর এখন সে নিজেকে তার দিকে সরাসরি নিষ্পাপভাবে চোখ রেখে ছড়ানো একাসিয়া গাছের অপ্রতুল ছায়ায় বিশ্রাম নিল। এবার মেরিকারা তার দিকে চোখ তুলল এবং মাথা বাঁকাল। তখন একটা রাজকীয় আনুগত্য প্রকাশ করল ম্যারন। অভিবাদন মহারাণী, আমি আনন্দিত আপনাকে নিরাপদ দেখে। আমি আপনার নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক ভাবে চিন্তিত ছিলাম।
সে তার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল, খুঁজল ও হিসেব করল তার বর্ধিত উচ্চতা এবং তার কাঁধের আত্মবিশ্বাসী শক্তিশালী গঠনটা। সে দেখল তার চুল কত ঘন ও বড় হয়েছে। এই দিনে শুধু এ প্রথমবার নয় সে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা খেয়াল করল। ম্যারন ক্যামবাসিয়েস, তার গলা কেঁপে উঠল;
শেষ বারের হিসেবে তোমার সাথে আমার একটা লেনদেন বাকি আছে। তুমি আমার প্রিয় ঘুড়িটা ভেঙে দিয়েছিলে। আমি কি আবার তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি?
আপনার জীবন দিয়ে। সে আন্তরিক ভাবে বলল।
*
ঘোড়াগুলো ক্লান্ত ছিল ও বিশ্রাম নিল। চলার সময় হলে মেরিকারা তার ভাইকে আকস্মিকভাবে বলল, তোমার ঘোড়াগুলো সারারাত আমার অতিরিক্ত ওজন বহন করেছে। আমার মনে হয় আমার এখন তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত।
