আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমন সময় তারা আমাকে জাগাল, সে মেরিকারাকে বলল। আমি এই আনাড়ি ক্যারাভান চালকটার নামে আমার স্বামী উচ্চ মিশরের ফারাও এর কাছে রিপোর্ট করবো।
আমি নিশ্চিত এটা তোমার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে, তার পিঠ থেকে ছাল তুলে ফেলাটা, মেরিকারা সম্মত হল, মিষ্টি উপহাস সহকারে। হেজারেট তার মাথা দুলালো ও ঘুরে গেল।
ঐ মুহূর্তে একটা নাইটিংগেল আমি ডাক দিয়ে উঠল উজান থেকে। মেরিকারা শব্দটায় কেঁপে উঠল। ছোট থাকতে নেফার তাকে এই ডাকটা ও পাখির গান কিভাবে অনুকরণ করতে হয় তা শিখাতে বহুবার চেষ্টা করছে, কিন্তু সে কখনো তা শিখতে পারে নি। পাখিটা তিনবার ডাকল, কিন্তু একমাত্র সে তা লক্ষ্য করল। অন্যরা তখন বেঢপ পালকিগুলো পারাপার করতে ব্যস্ত। তাদের সামনের হাজার হাজার যান জলাভূমির তলদেশে আটকে আছে এবং পারাপার শেষ হতে মধ্যরাত পেরিয়ে গেল এবং তারা শেষ রত্নের গাড়িটা সজোরে টানছে পাড়ে উঠানোর জন্য। জোরে টান দাও! আদেশ ও চাবুকের তীক্ষ্ণ আওয়াজ অন্য তীরের উপর আছড়ে পড়ল।
তখন ক্যারাভানের প্রধান রাজ স্ত্রীদের জন্য দুটি বহনকারী বিশাল চেহারার চেয়ার নিয়ে এল। তারা আসনে বসল এবং দাসদের দল তাদের বয়ে নিল। যখন তারা অন্য তীরে পৌঁছল তখন সেখানে আরো হৈচৈ ও দ্বিধা জমে উঠল কারণ একটা রত্নের গাড়ির চাকা হারিয়েছে এবং সামনের রাস্তা আটকে দিয়েছে। এই দুর্ঘটনার ধাক্কায় দাসরা যারা হেজারেটকে বহন করছিল কিছুটা ভারসাম্য হারাল। ফলে চেয়ারের পাদানি উপচে পানি তার পায়ের উপর দিয়ে বয়ে গেল যা তার স্যান্ডেল ভিজিয়ে দিল। হেজারেট তখন জোরালো ভাবে আদেশ করে বলল যেন ঐ দাসদের ওখানেই শাস্তি দেওয়া হয়। কর্ম সর্দারের চাবুকের আওয়াজ ও দুরাচারীদের আর্তনাদ ও চিৎকার চেঁচামেচির সাথে যোগ হলো।
এগুলো ছাপিয়ে মেরিকারা আবার নাইটিংগেল-এর ডাক শুনল এইবার আরো নিকটে এবং ঝর্নার একই পাশে। আমাকে নিরাশ করো না, সে মিশাকে বলল।
আমার জীবন আপনার, মালকিন। মেয়েটি উত্তর দিল এবং মেরিকারা তাকে চুমু খেল।
তুমি তা আগেও প্রমাণ করেছ এবং আমি তা কখনও ভুলব না। সে মিশার কাছ থেকে ঘুরল এবং শান্ত ভাবে অন্ধকারে হাঁটা শুরু করল।
শুধুমাত্র হেজারেট তাকে একটু লক্ষ্য করল। তুমি কোথায় যাচ্ছো, মেরিকারা?
খারাপ পরীদের তাড়াতে। তাদের শিশুকালের সুভাষণ ব্যবহার করল মেরিকারা। হেজারেট আর কিছু না বলে পাদানিতে পা রেখে তার নিজের পালকিতে চড়ল এবং পর্দা টেনে দিল।
রাস্তা থেকে আড়াল হতেই মেরিকারা থেমে তার নিজের অদক্ষ পাখির ডাক দিল। তৎক্ষণাৎ একটা শক্ত হাত তার ঊর্ধ্ব বাহুটা ধরল এবং তার ভাইকে তার কানে ফিসফিস করে বলতে শুনল, দোহাই থাম, ছোট্ট সোনামণি। এখান থেকে বীরসেবা পর্যন্ত সকল নাইটিংগেলকে দেখছি তুমি ভয় পাইয়ে দেবে।
সে ঘুরে তার সব শক্তি দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল ও এতো আবেগ আপ্লুত হয়ে গেল যে কোন কথা বলতে পারল না। আলতোভাবে নেফার বন্ধনটা খুলে তাকে অন্ধকারে নদীতে নিয়ে চলল। নেফার দ্রুত চলছিল এবং শব্দ না করে। মনে হল তার বুঝি সিংহের ন্যায় রাতের দৃষ্টি আছে কারণ সে কখনো হোঁচট খেল না বা ইতস্তত করল না। সে কোন কথা বলছিল না শুধুমাত্র ফিসফিসিয়ে মাঝে মাঝে সতর্ক করছিল যখন কোনো গর্ত বা বাধা এল রাস্তায়। মেরিকারা তাকে অন্ধের মত অনুসরণ করে গেল। অর্ধরাতের পর সে থামল তাকে বিশ্রাম দিতে।
মিশা কি জানে কি করতে হবে? নেফার জিজ্ঞেস করল। সে পালকির পর্দা বন্ধ রাখবে এবং জিজ্ঞেস করলে সবাইকে বলবে যে আমি ঘুমাচ্ছি এবং বিরক্ত হতে চাই না। কেউ জানবেই না যে আমি চলে গেছি।
যতোক্ষণ না তারা কাল থামছে; নেফার শুধরে দিল। আমাদের মাত্র ওটুকু সময়ই আছে পালানোর জন্য। তুমি চলার জন্যে প্রস্তুত? আমাদের এখানে নদী পার হতে হবে।
খুব সহজে সে তাকে কোলে তুলে বহন করে পার করল। মেরিকারা তার ভাই কতটা শক্তিশালী হয়েছে দেখে অবাক হয়ে গেল। তার হাতে তাকে একটা পুতুল মনে হচ্ছিল। বিপরীত পারে তাকে সে নামালো এবং তারা চলতে লাগল আবার। একটু পর সে তার নাকে হাত দিল। ঐ জঘন্য গন্ধটা কিসের? সে বিতৃষ্ণা নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
এটা তুমি; নেফার তাকে বলল। এমন একজন যে তোমার স্থলাভিষিক্ত হবে। কথাটা শেষ হওয়ার পূর্বে দুটি কালো অবয়ব তারার আলোয় তাদের সামনের পথে পা বাড়িয়ে বেরিয়ে এল এবং মেরিকারা ভয়ে একটু আওয়াজ করে উঠল।
এরা টাইটা ও ম্যারন, তাকে নিশ্চিত করতে বলল নেফার। তারা তাকে ছোট ছোট গাছের ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেল। তারপর নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে ম্যারন লিলেনে ঢাকা শবটা খুলল যা সে বহন করছিল? ক্ষীণ হলুদ আলোয় মেরিকারা বিভীষিকাময় বস্তুটি মাটিতে ছড়িয়ে থাকতে দেখে নেফারকে ভয়ে আঁকড়ে ধরল। একটা মৃত দেহ এতো ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে বলা মুশকিল এটা কোনো মানুষ এবং মহিলা।
এখন দ্রুত? নেফার তাকে বলল। তোমার সব গহনা ও কাপড় আমাকে দাও।
মেরিকারা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে সবকিছু নেফারের হাতে তুলে দিল। পরিবর্তে টাইটা অতিরিক্ত এক প্রস্ত কাপড়, জামা, স্কার্ট ও স্যান্ডেলের একটা বান্ডিল দিল তাকে।
