আমি জীবিত, মেরিকারা। আমাকে বিশ্বাস কর, এটা কোনো ছায়া নয় তুমি যা দেখছ।
আমি জানি, নেফার। সারা দুনিয়া এখন জানে তুমি কিভাবে মিনটাকাকে অ্যাভারিসের মরুতে নিয়ে গেছ এবং আমার হৃদয় বলেছে একদিন তুমি আমার জন্যও আসবে। সে সুখের কান্নায় হাসল। আমি জানতাম তুমি আসবে।
হ্যাঁ! নেফার বলল, আমরা তোমাকে আমাদের সাথে নিয়ে যাব। কিন্তু প্রথমে তোমাকে আমাদের সাহায্য করার জন্য কিছু করতে হবে।
তোমার ও টাইটার জন্যে যে কোনো কিছু, সে তৎক্ষণাৎ রাজি হলো।
দ্রুত ও জরুরিভাবে কথা বলে টাইটা বলল তাকে কি করতে হবে এবং তারপর সে তাকে দিয়ে তার পুনরাবৃত্তি করাল। মেরিকারা একদম নির্ভুল ভাবে সব বলল।
তুমি একটা চালাক মেয়ে আমার ছোট্ট সোনামণি। টাইটা বলল। এটাই তা যা আমরা চাই তুমি কর। সে তাকে একটা ছোট প্যাকেট দিল। এই যে পাউডার, মনে রেখ প্রতি পাত্রে তোমার নখ পরিমাণ শুধু।
প্রথমে তুমি আমাকে চালাক বললে এবং তারপর তুমি আমার সাথে এমন ব্যবহার করলে যেন আমি বোকা, সে বিরক্তি প্রকাশ করল।
আমাকে ক্ষমা করুন, মহারাণী। টাইটা ক্ষমা ভঙ্গি করল।
আমাকে আর কখনো ও নামে ডাকবে না। এবং আমি বিরক্ত, কোন সাপকে বিয়ে করা আমি ঘৃণা করি এবং এখন আমি জানি সে আমাকে কি করতে যাচ্ছে। আমি তা আরো বেশি ঘৃণা করি।
তোমাকে সহজে খুশি করা যায় না, মেরিকারা। এখন রক্ষীরা তোমাকে খুঁজতে আসার আগেই ক্যাম্পে ফিরে যাও।
সে দ্রুত ঝুঁকে নেফারকে তার ঠোঁটে চুমু দিল। কাল পর্যন্ত, আমার প্রিয় ভাই।
*
পরের দিন দুপুরে মিশরীয় বিশাল আর্মি উঁচু মালভূমির নিচে ক্যাম্প করল যেখানে বালুময় মরুভূমি ও শুকনো ভূমিটা শেষ হয়েছে। তারা প্রায় সংযোগস্থল সম্পন্ন করেছে এবং কাল তারা যাবে উপরে অধিক ঠাণ্ডা স্থান দিয়ে যেখানে থেকে মরুদ্যানগুলো একদিনের পথ, যেখানে বন ও জমি রয়েছে; আঙ্গুর জন্মে এবং সারা বছর পাহাড়ী ঝর্ণা বয়ে যায়।
রাজ স্ত্রীদের রক্ষীরা যখন দিনের জন্য ক্যাম্প করতে শুরু করল তখন তারা দেখল যে তরুণ রাণী মেরিকারা খিটখিটে ও স্বেচ্ছাচারীত্ব দেখাচ্ছে, তার স্বাভাবিক মিষ্টি ও মাধুর্যময়তা একেবারেই নেই। সে তার তাবু তার বোন রানী হেজারেটর কাছ থেকে দূরে স্থাপন করতে চাইল এবং যখন এটা শেষ হল সে জোর করল যেন তারা যানগুলো সরিয়ে দেয় যেগুলো যুদ্ধের সিন্দুকসমূহ বহন করছে। ওগুলোকে সরু ওয়াদির মধ্যে মূল ক্যাম্প থেকে ২০০ কদম দূরে সরাতে বলল। বৃথাই রক্ষীদের কমান্ডার বলল যে ওয়াদির স্তর নরম ও বালুময় এবং ভারি যানগুলোর চাকা গভীরভাবে গেঁথে যাবে।
আমি তোয়াক্কা করি না ওগুলো পুরোপুরি বালিতে ডুবে গেল কিনা; সে তাকে বলল। আমি ঐ কুৎসিত যানগুলো দেখে দেখে এবং মহিষগুলোর ডাক শুনে ক্লান্ত। ওগুলো আমার চোখের সামনে থেকে নিয়ে যাও।
কমান্ডার ভাবল ফারাও নাজা কাইফান এর কাছে আবেদন করতে তার ছোট স্ত্রীর এই অযৌক্তিক আদেশকে দূর করার জন্য। তারপর বিষয়টা সে ভাবল যে সৈন্য বাহিনী মরুতে প্রায় চার ক্রোশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত। এটা বাহিনীর মাথায় ফারাও এর কাছে পৌঁছাতে এক ঘণ্টার কঠোর যাত্রা হবে এবং তারপর ফিরে আসাটা হবে এরকম কষ্টকর। এই দিনটা চলে যাওয়া দিনগুলো থেকে অধিক গরম এবং তাছাড়া মেরিকারা তারই এক দাসী মেয়ের সাথে তার গোপন সাক্ষাৎ করার কথাটা জানে যে একটা মোহিনী ছোট কালো নুবিয়ান যে কিনা প্রশিক্ষিত বানরের চাইতে বেশি কৌশলী। তা প্রকাশ পেলে তাকে বিপদে পড়তে হবে। সে গাড়িগুলোকে ওয়াদির তলদেশে সরালো, বিবেকের তাড়নায় সেখানে রক্ষী প্রহরা দ্বিগুণ করল।
নিজের মন মতো সব পেয়ে মেরিকারা আবার প্রিয় বালিকা হয়ে গেল যাকে তারা সবাই খুব ভালোবাসে। আমি দুঃখিত, আমি তোমার সাথে কঠোর আচরণ করছি, মারাম। এটা অবশ্যই এই ভয়ংকর তাপের জন্য যা আমাদের সবাইকে আক্রমণ করেছে। সে রক্ষীদের গার্ডকে তার লোকের সামনে মিষ্টি করে বলল। আমি আমার ব্যক্তিগত ভান্ডার থেকে মিশাকে দিয়ে তোমার জন্য পাঁচ পাত্র মদ পাঠিয়ে দিচ্ছি তোমাদের সতেজ করার জন্য। নিশ্চয়ই তুমি তা তোমার লোকদের সাথে সমান ভাগ করবে কারণ আমি তাদের অতিরিক্ত কাজ করিয়েছি ও সমস্যাও দিয়েছি।
মিশা, খোদাই করা নিশ্চল মূর্তির মতন নুরিয়ান দাসীটি দ্রুত এক জোড়া বাহনে করে মোরামের তাঁবুতে মদের পাত্র নিয়ে এল এবং লোকেরা তাদের অংশ নেওয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়াল। রাণী মেরিকারা উপর প্রভুর আশীর্বাদ ও তার সুস্বাস্থ্য কামনা করল সবাই যখন তারা ফেনায়িত মদের প্রথম ফোঁটা পান করল।
মেরিকারার কাছে তার ওয়াদা সত্ত্বেও মদটা এতো বেশি চমৎকার ছিল যে মোরাম তার নিজের অংশের চেয়ে বেশি পান করল। যখনই তারা তার তাবুতে একা হল মোরাম ও মিশা তাদের গোপন অভিলাষে মত্ত হল। কিন্তু মোরাম ধীরে ধীরে কাত হয়ে পড়ে গেল। সমঝোতা পৌঁছার আগেই দ্রুত ঘুমিয়ে গেল সে। মিশা বিস্ময়ে তার দিকে চেয়ে রইল। এই ক্ষুদ্র কিন্তু ব্যস্ত জীবনে এরকমটা তার সাথে পূর্বে কখনো হয়নি। মোরামের নাক দিয়ে আওয়াজ বেরিয়ে আসল যা দূরে বজ্রপাতের ন্যায় বারবার প্রতিধ্বনিত হলো। মিশা লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে তার স্কার্ট নামাল একং তার ঘুমন্ত দেহে একটা হিংস্র লাথি মারল। তারপর ঝড়ের বেগে তাঁবু থেকে বেরিয়ে তার মালকিনের কাছে ফিরে এল। রাজকীয় তাবুর প্রবেশ দ্বারে প্রহীরটাও একইভাবে মরার মতো ঘুমাচ্ছিল।
