নেফার সিডার গাছের ডাল থেকে পিছলে মাটিতে নেমে এল। টাইটা সেখানে নিরবে ঘুমাচ্ছিল, কিন্তু নেফার তার বাহু স্পর্শ করার আগেই সে তার চোখ খুলল। নকল ফারাও-এর যুদ্ধের সিন্দুক; তাকে ফিফিসিয়ে বলল নেফার। একটি সেনাবহিনী বা সিংহাসন কেনার জন্যে যা যথেষ্ট।
*
পরের অনেক রাত পর্যন্ত নেফার ও ম্যাগোস চাঁদনী ছায়া থেকে সৈন্য সারির সাথে দৃঢ় পদক্ষেপে হাঁটল, এক্কার সাথে সামান্তরাল ভাবে চলল যা ধনরত্ন বহন করছিল, রক্ষীদের রুটিন ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে গেল মনযোগ দিয়ে। প্রথম থেকেই তারা বুঝল যে এক্কা গাড়িগুলো জব্দ করা অসম্ভব হবে এবং পুরো আর্মি তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে ওগুলো নিয়ে পালিয়ে যাওয়াটাও অসম্ভব।
ষাঁড়গুলো যে গতিতে চলছে তাতে আমরা ওগুলোকে নিয়ে এক ক্রোশ যাবার আগেই নাজার রথ আমাদের ধরে ফেলবে; নেফার চিন্তিত ভাবে বলল। তাদের থেকে আমাদের আরও একটু চতুর হতে হবে; টাইটা সম্মত হলো। একমাত্র সময় হলো যখন আমরা সিন্ধুকগুলোর সাথে কিছু করতে সক্ষম হতে পারি তা হচ্ছে দিনের বেলায় যখন তারা পিছিয়ে থাকবে তখন।
প্রহরীদের বিষয়ে কি হবে?
ওহ! টাইটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল। রক্ষীরা একটা সমস্যা বটে।
*
প্রতি দিন ক্রমশ সূর্য যখন উঁচুতে উঠছিল ও তাপ প্রবাহ বেড়ে চলল পুরো বাহিনীর গতি ততোই ধীর হডে পড়ল। রাজ স্ত্রীদের ক্ষুদ্র দল এবং সেই সাথে ধন-রত্ন বহনকারী যানগুলোর দূরত্ব তাদের মূল বাহিনী থেকে বাড়তে লাগল ও পিছিয়ে পড়ল ক্রমশ। বিশ্রাম নিতে থামার পর প্রথমে তারা তাদের বহনকারী প্রাণীগুলোর হার্নেস খুলে দিল ও তাদের পানি এবং খাবার খেতে দিল। তারপর আগুন জ্বালানো হল মধ্যাহ্নের খাবার তৈরির উদ্দেশ্যে। খাবারের পর্ব শেষে হেজারেট, মেরিকারা এবং তাদের দাসীরা তাঁবুতে বিশ্রাম নিতে গেল। যে লোকদের প্রহরার দায়িত্ব ছিল না তারা সারা রাতের এ দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তিতে দ্রুত ছায়ায় গা এলিয়ে দিল।
এদিকে নেফার ও টাইটা তখন তাদের দলের বাকিদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উপত্যকা ঘুরে কন্টক ঝোঁপ পেরিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে শত্রু দলের ক্যাম্পের দিকে এগুতে লাগল।
তাদের কি বিচ্ছিন্ন করার কোনো উপায় নেই? নেফার জিজ্ঞেস করল।
এ কাজের জন্য আমাদের ক্যাম্পের ভেতর থেকে কারো সাহায্যের প্রয়োজন। টাইটা জবাব দিল।
মেরিকারা? নেফার তীক্ষ্ণ দৃষ্ট হেনে তার দিকে তাকাল।
হ্যাঁ, মেরিকারা। টাইটা সম্মতি জানিয়ে বলল।
আমরা কীভাবে তার কাছে বার্তা পাঠাবো? নেফারকে হতভম্ব দেখাল। কিন্তু টাইটা হাসল ও লসট্রিসের কবজটা স্পর্শ করল যা তার নেকলেস ঝুলানো। সে তার চোখ বন্ধ করল। একটু পর নেফার দেখল সে ঘুমিয়ে পড়েছে। বৃদ্ধ লোকটি জানে কীভাবে তাকে ক্ষিপ্ত করা যায়।
অবশেষে তার বয়স তাকে ধরেছে, নেফর রাগান্বিত হয়ে ভাবল এবং তাকে জাগাতে প্রায় ঝাঁকি দিচ্ছিল তখন সে ক্যাম্প থেকে একটা আওয়াজ শুনল এবং সে উপরের দিকে তাকাল।
মেরিকারা তার তাবু থেকে বেরিয়ে এসেছে। সে নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছিল কারণ তার চেহারা লাল এবং বালিশের দাগ মুখে আঁকা। সে আড়মোড়া ভাঙ্গল ও হাই তুলল। সে শুধু একটা নীল লিলেনের স্কার্ট পড়েছে যার ভাজগুলো তার হাঁটুর নিচে ঝুলে আছে, উর্ধ্বাংশ খালি। মেরিকারা তার তাবুর প্রবেশ দ্বারে রক্ষীর সাথে তর্ক করল এবং তার কণ্ঠ উদ্ধত, ফলে নেফার প্রতিটি শব্দ শুনতে পেল। আমি ঘুমাতে পারব না এবং আমি একটু হাঁটতে যাচ্ছি। রক্ষীরা তাকে থামাতে চেষ্টা করছে, কিন্তু সে তার মাথা ঝাকল, কাঁধের উপর তার চুলও তখন নাচল। না, আমি তোমাকে আমার সাথে পাহাড়াদার হিসেবে যেতে দিব না। আমি একা থাকতে চাই। রক্ষীটা জোর করল এবং সে তার দিকে রাগান্বিত ভাবে তাকাল। সরে দাঁড়াও বেয়াদব, নইলে আমি তোমার ব্যবহার আমার স্বামীকে জানাবো। বিষণ্ণভাবে রক্ষী তার আদেশ মানল ও তার বর্শা নামাল। কিন্তু উদ্বিগ্নভাবে পিছু থেকে ডেকে বলল, দয়া করে মহারাণী বেশি সময় থাকবে না অথবা বেশি দূরে যাবেন না। ফারাও যদি এই বিষয়ে জানে তবে এর চাইতে আমার জীবনে করুণ কিছু আর হবে না।
মেরিকারা তাকে এড়িয়ে গেল, ঘোড়ার গাড়ি ও ঝোঁপের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এল যা ক্যাম্পটা ঘিরে আছে। সে শুধু একবার পিছনে তাকাল নিশ্চিত হতে যে তাকে কোনো অনুসরণ করা হচ্ছে না। তারপর সংকেত স্থলের দিকে যেখানে নেফার ও টাইটা শুয়ে আছে সরাসরি সেখানে এল।
নেফার দেখল তার নীল চোখ বিমোহিত ও তার মনোরম চেহারায় একটা অবিনিষ্ট অভিব্যক্তি, যেন সে কোনো গান শুনছে এবং তা সে একাই শুনছে। স্পর্শ করার মতো কাছাকাছি হতেই নেফার তাকে আস্তে করে বলল, মেরিকারা ভয় পেয়ো না, আমি নেফার!
সে একজন ঘুমে হাঁটা লোকের ন্যায় জাগতে শুরু করল এবং তার দিকে অপলক চেয়ে রইল। তারপর তার চেহারা এক অসীম আনন্দে আলোকিত হলো এবং সে তাকে আলিঙ্গন করতে লাফ দিয়ে সামনে এগুলো।
থাম! নেফার আদেশ দিল। আমাদের রক্ষীদের কাছে ধরিয়ে দিও না।
তাকে নিয়ে নেফারের গর্ব হলো, কারণ সে তার কথা শুনল এবং তৎক্ষণাৎ থেমে গেল। সে সব সময়ই বুদ্ধিমতী বটে। সে দ্রুত চারপাশে চোখ বুলালো এবং তার কণ্ঠ কাপল যখন সে আস্তে আস্তে বলল, আমি খুব ভালো ঘুমাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ জেগে গেলাম এবং জানলাম যে আমাকে অবশ্যই মরুতে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা প্রায় যেন একটা কণ্ঠ আমার মাথার ভেতর আমাকে ডাকছিল। সে টাইটার দিকে তাকাল। ওটা কি তোমার কণ্ঠ ছিল ম্যাগোস? তারপর তার চোখ আবার নেফার দিকে ফিরে এল। প্রিয় ভাই তুমি জান না তোমাকে আমার কত মনে পড়েছে। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম তুমি মারা গেছ এবং আমি তোমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে আমার মাথায় ছাই নিয়ে শোক করেছি। এই দেখ কাটা দাগ যেখানে আমি তোমার জন্য রক্ত ঝড়াতে আমার হাত কেটেছিলাম।
