সেনা দলটা অসীম নদীর মতো বয়ে গেল, ব্রোঞ্জের হাতিয়ারগুলো প্রতিফলনে ঝিকঝিক করছে, এর ধুলো ঘন মেঘ হয়ে এতো উপরে উঠল যেন তা সূর্যকে ঢেকে ফেলার হুমকি দিল।
চারটা দল অগ্রণীদল গঠন করল এবং তার পর এল একটা ফাঁকা স্থান। স্পষ্টতভাবে এটা ধুলা সরে যাওয়ার জন্যে এবং রাজকীয় দলটার অস্বস্তি উপশম করানোর জন্য তা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে দুটি রথ পাশাপাশি এল। উভয় রথই এতো ভারি ও স্বর্ণের পাতে ঢাকা ছিল যে প্রতিটায় ছয়টা ঘোড়া দরকার হলো তা টানার জন্যে। নেফারের মনটা পিত্তরসের ন্যায় বিতৃষ্ণ হয়ে গেল যখন সে চালকদের চিনতে পারল।
সবচেয়ে কাছের রথটার লাগাম টর্কের হাতে। তার চওড়া কাঁধ ও দাড়ির কালো ঝোপে কোন ভুল নেই যে সে-ই। সে একটা স্বর্ণের হেলমেট পরিধান করে আছে যা দেখতে মৌচাকের মতন। ফেনার ন্যায় সাদা অস্ট্রিচের পুচ্ছের ঝুটি দিয়ে তা সাজানো।
তার কাঁধে ঝুলছে দ্বিগুণ বড় ঢাল, প্রতিটি পাত তার বৃদ্ধাঙ্গুলের মতো পুরু, এতো ভারি যে এটা বলা হয় থাকে তার আর্মির মধ্যে একমাত্র সেই তা ব্যবহার করতে পারে, ঠিক যেমন বিশাল যুদ্ধ ধনুকটা তার ডান হাতের পাশের তাকে রাখা।
অন্য আরেকটি বিশাল রথে রয়েছে ফারাও নাজা কাইফান। সে স্বর্ণের ও দামী পাথরের একটা বর্ম পরিধান করেছে যা লাল সূর্যের আলোতে চমকাচ্ছে। ধুলার মেঘ দিয়ে সে বেরিয়ে এল। মাথায় সে পড়েছেন মিশরের নীল মুকুট এবং তার পাশে ছিল রুপা ও ইলেকট্রনের খাপে ভরা সবুজাভ নীল রত্ন ও লেপিজ লাজুলিতে খচিত বিখ্যাত নীল তলোয়ার, যা সে নেফারের পিতার দেহ থেকে লুণ্ঠন করেছে।
অদ্ভুতভাবে যদিও সে শারীরিক উচ্চতায় টর্কের থেকে কম, তবুও নাজা দুজনের মধ্যে বেশি হুমকি স্বরূপ।
স্বর্ণের রথগুলো অতিক্রম করল এবং নেফাররা ধুলোর মেঘে হারিয়ে গেল। নেফার সিডার গাছের শাখার সাথে মিশে রইল যখন রণ সাজে সজ্জিত দলটা নিচ দিয়ে বেড়িয়ে গেল।
সূর্য দিগন্তের নিচে পিছলে গেল, কিন্তু তখনো যথেষ্ট আলো ছিল এই সীমহীন মিছিলের পরবর্তী অংশ চিহ্নিত করার জন্যে। নেফার নতুন মজা ও আকর্ষণ নিয়ে সোজা হল তা দেখতে।
প্রধান সড়কের উপরি ভাগ যা ইতোমধ্যে শত শত রথ ও ওয়াগনের ঢাকা দাগে পিষ্ট তা দিয়ে দোলতে দোলতে ও গড়াতে গড়াতে দুটি মহিষে টানা পালকি এল। ওগুলো এতো বিশাল ও তাদের সিল্কের পর্দাগুলো এতো বিশাল এবং স্বর্ণের ঝালর ও নকশা দিয়ে সাজানো যে নেফার বুঝল ভেতরের যাত্রীরা রাজ হারেমের মহিলা হবে। নেফার কল্পনা করতে পারল না টর্ক তার স্ত্রীদের বা উপপত্নীদের তার সাথে ক্যাম্পেইন করতে নিয়ে যাচ্ছে। সে শুনেছে টর্ক তার আনন্দের জন্য বন্দীদের উপর নির্ভর করে যাদের সে দখলকৃত শক্রদের শহর থেকে আনে এবং ছেলে অথবা মেয়েদের সাথে একই সমান আনন্দ উপভোগ করে থাকে।
ঠিক তখন পালকির পর্দা এক পাশে সরে গেল, একটা মেয়ে লাফ দিয়ে ধুলার রাস্তায় নামল এবং মহিষগুলোর পাশ বরাবর লাফালো। যদিও সে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে যখন সে তাকে শেষ বার দেখেছিল, তবুও তার সন্দেহ রইল না যে এই সুন্দর সৃষ্টি হচ্ছে মেরিকারা, তার ছোট বোন। সে বাচ্চাদের ন্যায় পাশে চুল বেঁধেছে, তার চুল তার কাঁধে পর্যন্ত কর্তন করা এবং তার আইভ্রর সমতলে পুরু সোজা প্রান্ত ধরে তা কাটা। তার ঝুটি হারানোর অর্থ হল সে নারীত্বে পদার্পণ করেছে। নেফার একটা ব্যথা অনুভব করল যে তার হাস্যকার ছোট বোনটা আর বাচ্চা নেই। তখন তার মনে পড়ল মেরিকারাকে তার বিছানায় নিতে নাজার আর কোন বাধা নেই। সে শুনেছে নাজা একটা কামুক প্রকৃতির লোক এবং তার ছোট বোনকে সে বলঙ্কার করছে এই ধারণা নেফারকে এতো বেশি বিদ্রোহী করে তুলল যে সে তার গলার পেছনে পচা মাছের স্বাদ পেল, তিক্ত।
সে মেরিকারার সথে কথা বলার একটা বিমোহিত আশা অনুভব করল, জানতে চায় সে সুখী কিনা, যদি কিঞ্চিৎও তা না থাকে তবে সে তাকে অধিক সহজ করে দেওয়ার জন্যে তা করতে পারে। তারপর তার মনে হলো তাকে উদ্ধার করে তাকে গালালায় নিয়ে যাবে। সে জানে এসব চিন্তা বিপদজনক এবং তার সঙ্গীরা তাকে এই রকম আত্মঘাতী কল্পনা থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
পালকির পিছনে খুব কাছাকাছি সে দেখল নকল ফারাও-এর যুদ্ধের সিন্দুক বহন করা এক্কা গাড়িটা। এখানে একটা উদ্দেশ্য ছিল যা অন্যরা বুঝবে। ওগুলো ছিল অলংকারহীন এক্কা, মলিন গম্ভীর নীল রঙে অংকিত। কিন্তু মজবুত। কার্গোর বিশাল ওজন ঠেকানোর জন্য দৃঢ় ভাবে তৈরি করা। ধাতু পরিহিত চাকা রাস্তার উপরিভাগে গভীর ভাবে কেটে যাচ্ছে। ট্রাকের মেঝের পিছনের দরজাগুলো ছিল চেইন দিয়ে আটকানো ও বন্ধ এবং অস্ত্রধারী সৈন্য ওগুলোর পাশে হাঁটছে। এসব হলো ধন-সম্পদ পরিবহনের আদর্শ যান, যা ছাড়া কোন আর্মি কুচকাওয়াজ করে না। নেফারের জানা মতে ওগুলো স্বর্ণের বার বহন করছে। যেগুলো বার, আঙুলের আংটি ও ক্ষুদ্র গুটিকায় রূপান্তর করা। এগুলো সৈন্যদের বেতন দিতে ব্যবহার হতে পারে এবং ছোট রাজ্য ও জমিদারদের ক্রয় করার জন্য, ব্যাবিলিয়ন ও অ্যাশিরিয়ান মিত্রদের কিনতে এবং শত্রুবাহিনীর গুপ্তচর ও তথ্যদানকারীদের ঘুষ দেওয়ার জন্যে।
