গত কয়েক মাস ধরে দুই ফারাও তাদের তিন হাজার রথের প্রশিক্ষণ অ্যাভারিসে দিয়েছে এবং এখন তারা প্রায় তাদের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে। তারা ভূমির সেতুর অতিক্রম করবে যা মিশরকে বিশাল তিক্ত হ্রদ ও টিমাশ হ্রদ-এর পূর্বদিকের ভূমির সাথে যোগ করেছে। ইতোমধ্যে তারা এক সারি সৈন্য পাঠিয়েছে ব্যাবিলিয়নের সীমানা বরাবর। তারপর যখন রাস্তা পরিষ্কার হবে তখন তারা গাড়ি ও ওয়াগনে করে দশ হাজার পানির পাত্র পাঠাবে এবং কৌশলে বসানো মজুদ গুদাম ঘরের শক্ত ভূমিতে ওগুলো স্থাপন করবে। দেশটি ছিল উর্বর ও পানিপূর্ণ।
তারা পূর্ণিমায় ভূমির সেতু পার হওয়ার পরিকল্পনা করেছে। রাতের আলো ও ঠাণ্ডা ব্যবহার করে দ্রুত ইশমাইলিয়া এবং খাতমিয়া পাস পেরিয়ে বীরসেবার দিকে যাবে, যেখানে তাদের অনুগত বাহিনী অপেক্ষায় থাকবে।
নেফার ও টাইটা নকল ফারাওদের অতর্কিত হামলা থেকে গালালা রক্ষা জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। তারা জানে এতো দিনে পুরানো শহরে তাদের উপস্থিতি তারা দৃঢ়ভাবে আশা করেছে। নাজা ও টর্ক প্রথমে তাদের দিকে এগুবে, মেসোপটেমিয়ার অভিযানের আগেই। তাই তারা এ স্থগিতাদেশ দেখে অবাক হল।
তারা হুমকিটা গুরুত্বপূর্ণভাবে নেয়নি যে তাদের বর্ডারের খুব কাছে আমাদের অবস্থান। নেফার মহোল্লাসে বলল। যদি এখন তারা আমাদের আক্রমণ করতো এ দুর্বল অবস্থায় আমাদের উড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকতো না।
সম্ভবত তারা তাদের হিসাবে ঐ সম্ভাবনাটা নিয়েছিল, টাইটা সম্মত হলো। সম্ভবত তারা মেসোপটেমিয়া দখলের দিকে বেশি মনোযোগী এবং যে কোন সমর্থন শেষ করে দিতে চায় যা আমরা পূর্ব থেকে পেতে পারি। তারা তখন আমাদের ঘেরা অবস্থায় পাবে। আমার মনে তারা ভুল হিসেব করেছে। কারণ তারা আমাদের আরো শক্তিশালী হওয়ার জন্য কম করে হলেও আরো একটি বছর সময় দিতে যাচ্ছে।
আমরা কি নিশ্চিত হতে পারি যে এটা পরিবর্তিত হবে না? নেফার চিন্তিত প্রশ্ন করল। পূর্বের অভিযান কি একটা ভান? সম্ভবত তাদের প্রকৃত আক্রমণটা আমাদের উপরই আসবে। আমাদের মিথ্যা নিরাপত্তায় ঘুম পাড়ানোর পর।
এই সম্ভাবনা সবসময়ই আছে। টর্ক একটা স্বড় কিন্তু নাজা বিশেষভাবে চতুর ও শঠতাপূর্ণ। সে কোন ধাপ্পাবাজির চেষ্টা করবে।
আমাদের অভিযান মূলত আর্মি প্রহরায় রাখতে হবে। নেফার সিদ্ধান্ত নিল। আমি একদল সৈন্য নিয়ে যাব উত্তরে ইশমাইলিয়ার মধ্যে রাস্তা দেখতে এবং নিশ্চিত হতে চাই যে তারা ঐ রাস্তা অতিক্রম করছে।
আমিও তোমার সাথে যাবো। টাইটা সম্মত হলো।
না, ম্যাগোস, নেফার আপত্তি করল। তোমার এখানে বেশি দরকার আমাদের প্রতিরক্ষাকে সজাগ রাখতে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে যদি নাজা তিন হাজার রথ আমাদের দিকে পরিচালনা করে, তবে লোকজনকে তৎক্ষণাৎ লড়াই-এর জন্য প্রস্তুত করা। এছাড়াও আরেকটা কাজ আছে যাতে আমাকে তোমার দরকার। সে ইতস্তত করল … মিনটাকার খেয়াল রাখা। আমার বিশ্বাস সে এখানকার অন্য মহিলাদের সাথে অসন্তুষ্ট থাকবে এবং বোকার মতো কোন কাজ করতে পারে।
টাইটা হাসল। রাজকন্যার ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার সবসময়ই একটা পৃথক সম্ভাবনা। আমি খুব ভালোভাবেই জানি আমার দায়িত্ব কোথায়। যদিও নেফার অনেকক্ষণ ও জোরালোভাবে তর্ক করল, টাইটা অনড় রইল এবং শেষ পর্যন্ত নেফার স্বস্তি পেল, জেনে যে বৃদ্ধ লোকটা সবসময়ের মতই তার পাশে থাকবে, যেমন ছিল।
এমনকি তাদের দলে সর্বশেষ আগত সেনাদল সহ তারা মাত্র ৩২টি রথ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে পারল এবং একশরও কম ঘোড়া ছিল ওগুলো টানার জন্যে উপযুক্ত।
গালালা প্রতিরক্ষার জন্য তারা অর্ধেক রথ রেখে গেল যাদের নেতৃত্বে থাকবে শাবাকো। হিল্টো ও ম্যারনকে সাথে করে তারা ষোলটা যুদ্ধ রথ নিয়ে বিশাল তিক্ত হ্রদের পূর্বদিকে ছুটল ইশমাইলিয়ার প্রধান সড়ক অধিগ্রহণ করতে। নতুন চাঁদের মাত্র এক দিন পূর্ণ হয়েছে। রাতগুলো অন্ধকার ও আরামদায়কভাবে ঠাণ্ডা। তাই তারা ভালোভাবে এগিয়ে গেল এবং অজানা বুনোপথে তারা যাত্রা শেষ করল চাঁদ চার ভাগের দ্বিতীয় ভাগে থাকার আগেই।
*
গালালা ছাড়ার পনের তম দিনের ভোর বেলা তাদের ইশমাইলিয়ার পূর্বে পাহাড়ের উপর লুকিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা গেল। এখান থেকে দূরে শহরটা দেখতে পাওয়া যায়। প্রধান সড়কটি তাদের প্রহরার নিচ দিয়ে গেছে এবং দুই ফারাও এর আর্মিদের এই রাস্তা দিয়েই যেতে হবে। ইশমাইলিয়া ছিল মিশরের সীমার সুরক্ষিত এলাকা এবং ক্যাম্পেইন শুরুর স্বাভাবিক স্থান।
মনে হয় আমাদের বুদ্ধিটা যথেষ্ট ভালো, নেফার নিচে টাইটাকে ডেকে বলল। সে সামনের পাহাড়ের ঢালের একটা লম্বা সিডার গাছে চড়েছে এবং সেখান থেকে সে সমতলের অনেক ক্রোশ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে দেখতে পারল। শহরটা ব্যস্থতায় পূর্ণ। ঘোড়ার লাইন এবং দুর্গের দেয়ালের বাইরে তাঁবুর একটা শহর দেখা যাচ্ছে। সে তার চোখের উপর হাত রাখল আরো ভালোভাবে দেখতে। ডেল্টা থেকে রাস্তা দিয়ে ধুলার ঝড় আসছে। মিশরের সকল ওয়াগন ও রথের এগিয়ে আসার মতো দেখাচ্ছে।
ঐদিন সকালের বাকিটা সময় সে ম্যাগোসকে তার দৃশ্যত সব কিছু বলে চলল যতোক্ষণ না তাপ তেতো হয়ে উঠল ও শহরের বাকি কর্মতৎপরতা নিদ্রালু দুপুরে ঢাকা পড়ে গেল। তখন সে নেমে এল এবং দলের বাকিদের মতো ছায়া খুঁজতে গেল। অপেক্ষার পর পড়ন্ত বিকেলে বাতাস ঠাণ্ডা হলে তারা নিজেদের ঘোড়াগুলোকে খাবার দিতে ও পানি পনি করানোর জন্য তুলল। তারপর নেফার তার প্রহরার স্থানে চড়ল আবার। তৎক্ষণাৎ প্রতীয়মান হলো যে তারা ঠিক সময়েই পৌঁছেছে। পূর্ব দিকে রাস্তাটা বিশাল সৈন্য বাহিনীর জীবনাশক্তির একটা স্পন্দনে ভরে গেছে। দল পর দল, ৫০টি শক্তিশালী রথ ইশমাইলিয়ার প্রবেশ পথ দিয়ে বেঁকে প্রবেশ করল। প্রতিটির পিছনে ওয়াগন অনুসরণ করছে তাদের মালপত্র ও গবাদিপশুর খাবার ভর্তি যান। তাদের গোপন স্থানের পাশ দিয়ে ঝর্ণা ধারার ন্যায় এগিয়ে যেতে লাগল তারা। অগ্রবর্তী দলটা যেখানে নেফার বসেছিল তার এতো কাছে দিয়ে গেল যে তারা সবাই স্বতন্ত্র রইল।
