খিদাস! টাইটা চিৎকার করল এবং দেয়ালটায় তার লাঠি দিয়ে আঘাত করল। প্রবেশ দ্বারের লোকগুলো সংকুচিত হয়ে পিছিয়ে গেল, কারণ এটা ছিল ক্ষমতার শব্দ।
ম্যানসোর!
তারা ভয় পেল এবং সে আবার আঘাত করল।
নকুব! সে তৃতীয় বারের মতো সে আঘাত করল এবং শেষ বার আঘাত করে পিছিয়ে এল।
কিছুই ঘটল না এবং নেফার ডুবন্ত হতাশা ও নিরাশা অনুভব করল। টাইটা অনড় দাঁড়িয়ে রাইল। ধীরে ধীরে সূর্য আরো উঁচুতে উঠল এবং ছায়া পাথুরে দেয়ালে পড়ল।
হঠাৎ নেফার উত্তেজনার এক শিহরণ অনুভব করল এবং তার চারপাশের লোকজন নড়ে উঠল ও ফিসফিস করতে লাগল। পাহাড়ের মুখের মধ্যবর্তী স্থানে, অংকিত চোখের নিচে একটা কালো ভেজা দাগ দৃশ্যত হলো তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল এবং আর্দ্রতার এক ফোঁটা চুঁইয়ে পড়ল, সূর্যালো তাতে একটা ক্ষুদ্র মণির ন্যায় জ্বলজ্বল করল। তারপর তা টিপটিপ করে দেয়াল বেয়ে নেমে এল এবং মেঝের ধুলোয় দলা পাকিয়ে এগুতে লাগল।
টাইটা ঘুরল ও খনি কুপ থেকে বেরিয়ে গেল। তার পিছনে একটা তীক্ষ্ণ শব্দ হচ্ছিল। একটা শুকনো ডাল ভাঙ্গার ন্যায় এবং পাহাড়ের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটা সুন্দর চিড় লম্বালম্বি ভেঙে গেল। পানি মেঝেতে ঝরে পড়ল, ফোঁটার পর ফোঁটা পড়ার গতি দ্রুত টুপটপে উন্নিত হলো।
অন্য একটা শব্দ, মাটির হাঁড়ির টুকরা আগুনের শিখায় মট করে ভাঙ্গার মতন এবং এক খন্ড পাথর দেয়াল থেকে খসে পড়ল। হলুদ কাদার রেখা সেখান দিয়ে চুঁইয়ে বের হল। তারপর একটা গর্জন দিয়ে সমগ্র পাহাড়ের মুখ ধসে পড়ল কাদার তীব্র প্রবাহ নিয়ে এবং স্বচ্ছ উজ্জ্বল পানির একটা প্রবল বিস্ফারিত ঝর্ণার উদয় হলো সেখানে, হাঁটু পর্যন্ত গভীর যা।
ধুলোয় মাখা লোকদের মাঝ থেকে বিস্ময়, প্রশংসা ও অবিশ্বাস্যের চিৎকার উঠল, হঠাৎ ম্যারন দৌড়ে সামনে গেল এবং মাথা পর্যন্ত প্রবাহমান ধারায় ডুবিয়ে দিল। তারপর সে দুই হাত পূর্ণ করে পানি তুলে তা গলধঃকরণ করল। মিষ্টি! সে চিৎকার করে উঠল। এটা মধুর মতো মিষ্টি।
লোকজন তাদের কাপড় ফেলে দিল এবং নগ্ন হয়ে দৌড় দিল ঝর্ণায়, পানির ঝাঁপটা দিল, কাদা ছোঁড়াছুড়ি করল, একে অন্যকে পানিতে চুব দিল এবং হাসি দিয়ে চিৎকার করল। নেফার লোভ সামলাতে পারল না। সে সকল গাম্ভীর্যতা ঝেড়ে লাফ দিয়ে ম্যারনের উপর পড়ল এবং পানির নিচে তার সাথে কুস্তি করতে লাগল পরমানন্দে।
ঝর্ণার তীরে দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলার দিকে সহৃদয় অভিব্যক্তি নিয়ে নিচে তাকিয়ে রইল টাইটা, তৃপ্ত অভিব্যক্তি নিয়ে। তারপর সে মিনটাকার দিকে ঘুরল, তোমার মন থেকে চিন্তাটা সরিয়ে রাখ।
কোন চিন্তা? মিনটাকা নির্দোষ ভান করল।
এটা একটা অবমাননা হবে একজন মিশরের রাজকন্যাকে এই কর্কশ নগ্ন সৈন্যদের সাথে লাফালাফি করতে পাওয়া। সে তার হাত ধরল এবং পাহাড়ের নিচে পথ দেখাল। কিন্তু সে বিষণ্ণ ও ব্যাকুলভাবে আনন্দোৎসবের দিকে ফিরে তাকাল।
তুমি এটা কীভাবে সম্ভব করলে, টাইটা? সে জিজ্ঞেস করল। তুমি কীভাবে ঝর্ণাটাকে দৃশ্যত করলে? এটা কোন ধরনের যাদু ছিল?
স্বাভাবিক জ্ঞান ও পর্যবেক্ষণের যাদু। পানি ওখানে শতাব্দী ধরে ছিল, শুধু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল খনন করে নিচে নামিয়ে আনার।
কিন্তু প্রার্থনা ও শক্তির শব্দগুলোর ব্যাপার কী? ওগুলোর কি কোন প্রভাব ছিল না?
মাঝে মাঝে মানুষের উৎসাহের দরকার হয়। সে মুচকি হাসল এবং তার নাকের পাশটা স্পর্শ করল। একটা ছোট্ট যাদু ঝিমিয়ে পড়া উদ্যমতার জন্য সর্বোত্তম টনিক।
*
তারপরের কয়েক মাস প্রতিটি লোক পাহাড়ের পাশ থেকে পানির প্রবাহ কুয়া পর্যন্ত আনার জন্য খাল খননের কাজ করে গেল। ফলে তা বসতিটির জন্য মজুদ জলাধার হয়ে গেল। যখন তা ছাপিয়ে পড়ল তখন টাইটা উপত্যকার নিচু শেষ অংশের পুরানো জমিগুলো অবলোকন করল যেগুলো এখন পাথুরে উৎপাদন। যাই হোক পুরানো সেচের গর্তগুলোর সীমারেখা এখনো দেখা যায়। তাদের স্তর পুরানো অধিবাসীদের দ্বারা বের করা। তাদের সীমারেখা বের করতে ও তাদের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত পানি বইয়ে দিতে অল্পই কষ্ট হল তাদের।
মরুর মাটি ছিল উর্বর দেবীর আশির্বাদে কোন ভারি বৃষ্টিপাত দ্বারা তা নিষ্কাশিত হয় নি। অবিরাম সূর্যালো এবং পানির প্রচুরতার এক অলৌকিক প্রভাব আছে এখানে। তারা শস্য রোপণ করল। সকল মিশরীয়রা প্রাকৃতিকভাবে ও ঐতিহ্যগতভাবে কৃষক ও মালী, তারা তাদের দক্ষতা জমি ও শস্যের উপর ব্যয় করল। কয়েক মাসের মধ্যে তারা প্রথম শস্য কাটার দুররা উৎসব পালন করল। তারপর তারা তাদের পশুর জন্য ঘাস বপন করল, যা তাদের বর্তমান প্রয়োজনের অনেক বেশি ছাড়িয়ে গেল। মহিলারা গবাদিপশুর খাবার বন্টন, শুকানো ও সাজানোর কাজে যোগ দিল এবং বছরের মধ্যে একদল যুদ্ধ সেনা ধারণের জন্য তাদের যথেষ্ট খাদ্য উৎপাদন হলো যদিও তখনো তাদের ঘোড়া ছিল কম।
প্রায় প্রতি বছর ফেরারি লোকেরা শহরে ছেড়ে নকল ফারাও এর স্বৈরাচারী শাসন থেকে পালিয়ে মরু পাড়ি দিয়ে এখানে এসে যোগ দিতে লাগল। তারা একা অথবা ছোট দলে আসল, ক্লান্ত, তৃষ্ণায় ও ক্ষুধায় প্রায় মুমূর্ষ অবস্থায় আসতো। পাহাড় বরাবর তাদের অধিগ্রহ করার জন্যে প্রহরী রাখা হল এবং তারপর প্রথমে তাদের হিল্টোর কাছে পাঠানো হতো। সে তাদের ফারাও নেফার সেটির প্রতি অনুগত থাকার শপথ করাতো। তারপর তাদের রেশন অনুমোদন করত এবং উপযোগিতার উপর নির্ভর করে তাদের প্রশিক্ষণ রেজিমেন্টে পাঠিয়ে দিত অথবা তাদের মাঠে কাজ করতে পাঠাতে কিংবা পুরানো শহরের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলো পুনঃনির্মাণে লাগিয়ে দিত। যাই হোক এসব গৃহহীন ও নাম পরিচয়হীনরাই একমাত্র সদস্য ছিল না, নকল ফারাও-এর আর্মি থেকে পরিত্যক্ত একটা দল তাদের বলুম নিয়ে বীর দর্পে এগিয়ে এল এবং দেয়ালের নিকটবর্তী হয়ে নেফার সেটির প্রশংসায় চিৎকার করতে লাগল। তারপর বিশটি রথের একটা দল, আনখা রেজিমেন্টের কর্নেল যার নাম টিমোস প্রথমে রথ চালিয়ে অস্ত্র নিয়ে এল এবং ফারাও নেফার সেটির রেজিমেন্টে উৎসাহ নিয়ে শপথ করল। টিমোস গুরুত্বপূর্ণ একটা খবর নিয়ে এসেছে। সে জানালো নাজা ও টক অবশেষে ব্যাবিলিয়ন ও অ্যাশিরিয়ার রাজা সারগনের বিরুদ্ধে তাদের যুগ্ম আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত।
