তারা তখনো অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়েছিল ও সন্দেহের দৃষ্টি বিনিময় করল, তখন অন্য একটা অবয়ব মনে হলো বাতাস থেকে সৃষ্টি হল। একটা জ্বীনের মতো সে পাথরের উপর নেফারের পাশে উদয় হয়েছে। এ লোকটিতে তারা ভালোভাবেই জানে, সম্মানে ও চেহারায় দুভাবেই।
ও টাইটা, ওয়ারলক, সবাই ভয়ে জোরে শ্বাস নিল।
আমি জানি তোমরা কি দুর্দশা সহ্য করেছে, টাইটা তাদের এমন কণ্ঠে বলল যা সবার কান পর্যন্ত পৌঁছল, এমনকি ওয়াগনের অসুস্থ ও আঘাতপ্রাপ্তদের কাছেও।
আমি জানি তোমরা আততায়ী ও দখলদার স্বৈরচার রুখতে কি মূল্য দিয়েছে। আমি জানি তোমারা এখানে এসেছে তোমাদের প্রকৃত রাজা এখনো জীবিত কিনা তা খুঁজতে।
তারা সম্মতিতে গুঞ্জন তুলল এবং হঠাৎ নেফার বুঝল তারা কারা। এরা হচ্ছে নাজা ও টর্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীকারীদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন। হিল্টো তাদের কোথায় পেয়েছে এ রহস্যজনক, কিন্তু এসব ভগ্ন অবশিষ্টাংশ লোকগুলো এক সময় ছিল যুদ্ধের সৈন্য, সম্মানী রথী ও যোদ্ধা।
এ হচ্ছে যেখান থেকে আবার শুরু হবে, টাইটা তার পাশে থেকে নরম সুরে তাকে বলল, হিল্টো তোমার ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর বীজ নিয়ে এসেছে। তাদের উদ্দেশ্যে কথা বল।
নেফার তাদের আরো কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করল, তাদের সামনে দাম্ভিক ও লম্বা হয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে। সে সেনাদল থেকে একজনকে বেছে নিল, যে অন্যদের থেকে বয়স্ক, চুলে মাত্র পাক ধরেছে তার। লোকটির চোখ তীক্ষ্ম ও অভিব্যক্তি বুদ্ধি দীপ্ত। ছেঁড়া কাপড় ও অর্ধাহার দেহ সত্ত্বেও তার মাঝে কর্তৃত্ব ও আদেশের একটা ভাব বিদ্যমান। আপনি কে, সৈন্য? আপনার পদবি ও আপনার রেজিমেন্ট কি?
লোকটি তার মাথা তুলে তার রোগা কাঁধটা প্রসারিত করল, আমি শাবাকো, দশ হাজার বাহিনীর সর্বোত্তম। রেড রোড পাড়ি দিয়েছি। যুদ্ধের ময়দানে দক্ষ স্মাট রেজিমেন্টের কমান্ডার।
একজন সিংহ পুরুষ! নেফার ভাবল, কিন্তু বলল, আমি আপনাকে অভিবাদন জানাই, শাবাকো। তারপর নেফার তার স্কার্ট উপরে তুলে তার উরুর উপরের চিহ্নটা প্রকাশ করল, আমি নেফার সেটি, উচ্চ ও নিম্নরাজ্যের প্রকৃত ফারাও।
কাকতাড়ুয়া বাহিনীর মধ্য দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ও গুঞ্জন বয়ে গেল যখন তারা রাজকীয় চিহ্নটা চিনতে পারল। প্রকৃত প্রজার ন্যায় তারা আনুগত্যে নিজেদের মাটিতে নিক্ষেপ করল।
বাক হার! পবিত্র একজন, প্রভুদের প্রিয়।
আমরা আপনার আনুগত প্রজা, ফারাও। আমাদের জন্য প্রভুদের কাছে অনুনয় করবেন।
মিনটাকা টাইটার সাথে এসেছে এবং নিচে দাঁড়িয়ে। নেফার নিচে নামল এবং তার হাতটা নিল। সে তাকে তার পাশে পাথরের উপর তুলে আনল। আমি আপনাদের রাজকন্যা মিনটাকে দিলাম, যে অ্যাপেপির বংশধর। মিনটাকা, যে হবে আমার রাণী এবং আপনাদের সর্বোচ্চ সম্মানী মহিলা।
হিল্টো ও শাবাকো আপনাদের নির্দেশ দিবে, নেফার ঘোষণা করল। বর্তমান সময়ের জন্য গালালা হবে আমাদের ঘাটি যতক্ষণ না আমরা থেবস ও অ্যাভারিসে বিজয়ীর ন্যায় ফিরছি।
সবাই উঠে দাঁড়াল, এমনকি মারাত্মক আহতরাও তাদের স্ট্রেচার থেকে উঠার চেষ্টা করল, এবং তারা তাদের সম্বোধন করল। তাদের কণ্ঠ পাতলা এবং মরুর বিশালতায় প্রায় হারিয়ে গেল, কিন্তু শব্দটা নেফারকে গর্বিত করল ও তার সংকল্প ও সিদ্ধান্তকে নতুন শক্তি দিল। সে প্রথম রথে উঠল। ম্যারেনের কাছ থেকে লাগাম নিয়ে তার ছোট্ট ছিন্ন ভিন্ন সেনাবাহিনীকে তার ভাঙ্গা রাজধানীতে পথ দেখিয়ে এগিয়ে চলল ধীর লয়ে।
*
ভগ্ন শহরে তাদের ব্যারাক স্থাপন করা শেষ হলে নেফার শাবাকো, হিল্টোকে এবং অন্য অফিসারদের ডেকে পাঠাল। প্রথম রাতের শেষ প্রহর পর্যন্ত এবং পরের অনেক রাতের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সে তাদের সাথে বসত। তাদের বিদ্রোহের কারণ, যুদ্ধ ও দুই ফারাও এর যুদ্ধ শক্তি এবং তাদের পরাজয়ের কথা বিস্তারিত শুনে গেল। তারা তাকে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলল যা টর্ক ও নাজা বিদ্রোহীদের উপর চালিয়েছে যারা তাদের হাতের মুঠিতে পড়েছিল।
নেফারের আদেশে তারা নতুন মিশরীয় আর্মির যুদ্ধ কৌশল বর্ণনা করল; কমান্ডারদের নাম, সদস্য এবং তাদের রেজিমেন্টের নাম ও মোট লোক সংখ্যা, রথের ও ঘোড্রার সংখ্যা যা নাজা ও টর্কের দখলে আছে সবকিছুর পরিসংখ্যান সে নিল। পলাতকদের মধ্যে তিনজন সেনা অনুলেখক ছিল এবং নেফার তাদের কাজে লাগিয়ে দিল সাথে সাথে। তারা এসব বিষয় লিখে রাখল ও শত্রুদের রক্ষী, সেনাদের ও দুর্গের তালিকা লিখে রাখল মাটির ফলকের উপরে।
এ সময় মিনিটাকার সাহায্যে টাইটা একটি আরোগ্যশালা স্থাপন করল, যেখানে সকল আহত ও অসুস্থ লোকদের রাখা হল। হিল্টো তার সাথে ১২ জন বা ওরকম সংখ্যক মহিলা এনেছিল। পলাতকদের কয়েকজনের স্ত্রী ছিল তারা। শুধুমাত্র ক্যাম্প অনুযায়ী টাইটা তাদের সেবিকা ও বাবুর্চি হিসেবে নিল। টাইটা সারাদিন ভাঙ্গা হাড়
ঠিক করা, ভাঙ্গা তীরের মাথা মাংস থেকে বের করা, তার স্বর্ণের ছুরি দিয়ে তলোয়ারে কাটা সেলাই করার কাজ করে গল এবং কোন ক্ষেত্রে এমনকি ফাটা, চাপা খুলিতে অস্ত্রোপাচার করল যা যুদ্ধকালীন সময় শক্ত কাঠের গদার সজোর আঘাত পেয়ে হয়েছে।
যখন আলো ক্ষীণ হতো এবং আর অসুস্থদের সাথে কাজ করতে পারতো না তখন সে নেফার ও তার কমান্ডারদের সাথে যোগ দিতো। তারা শক্ত ভেড়ার চামড়ার ওপর আঁকা মানচিত্রে ঝুঁকে পরিকল্পনা করে ও বিন্যাস করে রাত অতিবাহিত করতে তেলের প্রদীপের আলোতে। যদিও নেফার তাদের মনোনীত সর্বোচ্চ কমান্ডার, বাস্তবিকভাবে সে ছিল যুদ্ধ কৌশলের একজন ছাত্র এবং ঐসব বৃদ্ধ সৈন্যরা ছিল তার নির্দেশক, তাদের কাছ থেকে সে যা শিখল তা অমূল্য।
