স্বাভাবিকভাবে মধ্যরাত হয়ে গেলে নেফার এই সকল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করতো এবং চুপি চুপি মিনিটাকার কাছে বিছানায় যেতো যেখানে সে তার জন্যে ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করে থাকতো। তারা তখন ভালোবাসা ও এক সাথে ফিসফিস করে কথায় মত্ত হয়ে যেতো। যদিও উভয়েই তাদের পরিশ্রমে ক্লান্ত থাকতো তবুও তারা একজন অন্যজনের বাহুতে ঘুমানোর আগেই প্রায়ই ঊষা নিরব মরুভূমিতে উঁকি মারতো।
সব মিলিয়ে মোট দেড়শ থেকে কম মানুষ ও পঞ্চাশ থেকে কম সংখ্যক ঘোড়া ছিল তাদের। কিন্তু প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে শহরের তিক্ত কুয়াগুলো এ সংখ্যক লোককে সমর্থন করতে পারবে না। প্রতিদিন তারা তা শূন্য করল এবং প্রতিরাতে ওগুলো পূর্ণ হতে বেশি সময় লাগত। এমনকি পানির মানও কমতে লাগল, এটা প্রতিদিন আরো তিতা ও লোনা হয়ে গেল। এমনকি ঘোটকীর দুধ না মিশিয়ে অল্পই তা পানের যোগ্য রইল।
তারা বাধ্য হল পানির ব্যবহার কমাতে। ঘোড়াগুলোর সমস্যা হল বেশি, ঘোটকীগুলো তাদের দুধ হারাল। এখনো মাটির নিচে পানির ক্ষরণ কম।
শেষ পর্যন্ত নেফার তার কমান্ডারদের নিয়ে একটা জরুরি সভা ডাকল। এক ঘন্টার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষে হিল্টো গম্ভীরভাবে তার সার-সংক্ষেপ করল, যদি না হুরাস আমাদের জন্যে একটা অলৌকিক ঘটনা না ঘটান তাহলে কূপগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে এবং আমরা বাধ্য হবো শহরটা ত্যাগ করতে। তখন আমরা কোথায় পালাবো?
তারা নেফারের দিকে তাকাল, যে আশা নিয়ে টাইটার দিকে তখন ঘুরল। যখন পানি শুকিয়ে যাবে, আমরা কোথায় যাবো, ম্যাগোস? সে প্রশ্ন করল।
টাইটা তার চোখ খুলল, এই দীর্ঘ বির্তকের সময় সে নিরবে বসেছিল এবং সবাই ভেবেহেঁসে ঝিমোচ্ছ। আগামীকাল প্রথম আলোতে, আমি প্রতিটি লোককে
চাই যারা হাঁটতে পারে ও কোদাল ব্যবহার করতে পারে। সবাই শহরের ফটকের সামনে জড়ো হবে।
কি উদ্দেশ্যে? নেফার জিজ্ঞেস করল। টাইটা তখন একটি রহস্যজনক হাসি দিল।
ঊষার ঠাণ্ডায় ছাপান্ন জন তোক প্রাচীন ফটকের সামনে অপেক্ষা করছিল যখন টাইটা এগিয়ে এল। সে তার সকল প্রতীক ও চিহ্ন পরিধান করে আছে: মাদুলি, বে এর উপহার এবং তার অন্য সব নেকলেস, ব্রাসলেট ও তাবিজ। সে তার চুল ধুয়েছে যা চমকাচ্ছিল এবং মিনটাকা ওগুলো বেণী করে দিয়েছে। সে তার সাপের মাথার মতো বাঁকানো দন্ডটি হাতে ধরে রয়েছে। নেফার তার পাশে, একটা গম্ভীর ভাব ও বিমূঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে। টাইটা জড়ো হওয়া লোকদের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। যেহেতু সে আদেশ দিয়েছিল তাই তারা সবাই খনন করার যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছে। কাঠের কোদাল ও শাবল, ধাতুর অগ্রভাগ সম্বলিত খনন করার যন্ত্রপতি, কাঠের টুকরো তাদের হাতে শোভা পাচ্ছে। টাইটা সন্তুষ্টিতে মাথা ঝাঁকাল, তারপর পায়ে পায়ে উপত্যকার দিকে রওনা দিল।
নেফারের এক কথায় লোকগুলো তাদের যন্ত্রপাতি কাঁধে নিল ও বৃদ্ধ লোকটিকে অনুসরণ করতে লাগল। স্বভাবিকভাবেই সবাই মিলিটারি গঠনের ন্যায় পদক্ষেপে চলছে। যাই হোক তাদের বেশি দূর যেতে হল না, কারণ টাইটা পাহাড়ের পাদদেশে থামল এবং উচ্চতা দেখল।
নেফারের মনে পড়ল এই সেই জায়গা যেখানে টাইটা গত কয়েক মাসে অনেক সময় ব্যয় করেছে। প্রায়ই সে ও মিনটাকা তাকে এখানে বসে থাকতে দেখেছে, নীল মাথা টিকটিকির ন্যায় চোখ বন্ধ করে সূর্যের মধ্যে সে ঝিমুত, তার লাঠি দিয়ে পাথরের মধ্যে এখানে চাপড়াতে ও খুঁচিয়েছে।
প্রথম বারের মত নেফার এ দিককার পাহাড়ের গঠন লক্ষ্য করল এবং বুঝল এগুলো অন্যদের থেকে আলাদা। পাথরগুলো ভঙ্গুর ও ধূসর। চুনাপাথরের ধারা ভঙ্গুর শিলায় ঢুকে গেছে। একটা গভীর স্তর, ভগ্ন ও তির্যকভাবে খালি। পোড়া পাথরের মুখে দিয়ে বয়ে গেছে এবং কিনারে বিভিন্ন রঙের শিলা স্তর। তখন সে অন্য কিছু খেয়াল করল। সম্প্রতি কেউ একজন কিছু পাথরের উপর দাগ দিয়েছে, দুর্বোধ্য হায়ারোগ্লিফিক চিহ্ন দিয়ে যা সাদা পেস্ট দিয়ে আঁকা, সম্ভবত তা ভাঙ্গা চুনাপাথরের সাথে কুয়ার পানি মিশিয়ে তৈরি করা। সেখানে মাটির উপর পাথরের কিছু স্তূপ জমা করে রাখা।
নেফার, লোকদের অবশ্যই পাঁচটি দলে বিভক্ত হতে হবে। টাইটা তার উদ্দেশ্যে বলল। কথা মতো তারা প্রস্তুত হলে টাইটা প্রথম দলটাকে সামনে এগোনের আদেশ দিল। এখানে পাহাড়ের পাশে একটা কূপ খনন শুরু কর। সে হায়ারোগ্লিফিক চিহ্নের দিকে নির্দেশ করল যেটা উল্লম্ব স্থানের খোলামুখ নির্দেশ করেছে যেখানে সে তাদের খনন শুরু করাতে চায়।
লোকগুলো একে অন্যের দিকে তাকাল, হতভম্ব ও অনিশ্চিত, কিন্তু যখন টাইটা কিছু না বলে তাদের দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকাল, শাবাকো তখন তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে সামলে নিল। তোমরা ম্যাগোসের কথা শুনেছ? কথা মতো কাজ করতে যাও, এখনই এবং ভালোভাবে।
কাজটা ছিল যথেষ্ট কষ্টসাধ্য, যদিও নিচের পাথরগুলো যে বরাবর টাইটা পছন্দ করেছে সেই বরাবর ভাঙা ছিল। তাদের প্রতিটি খন্ড চাপ দিয়ে খুলতে হল, তারপর খোলা মাটি খনন করল যা তার নিচে ছিল। চারপাশে ধুলোর মেঘ উঠল এবং শীঘ্রই তা তাদের দেহে মেখে গেল। এমনকি যদিও তাদের হাত গদা ও তলোয়ার ব্যবহারে শক্ত তবুও তাদের হাতের তালুতে ফোস্কা পড়ল, ছিলে গিয়ে রক্ত পর্যন্ত ঝরল। তারা লিনেন কাপড়ে তা বেঁধে অভিযোগ ছাড়াই কাজ করে গেল। সূর্য উঠার সাথে সাথে তাপ দ্রুত বাড়তে লাগল এবং শাবাকো প্রথম দলটাকে খনন থেকে বিরতি দিল ও পরবর্তী দলটাকে পাঠাল।
