তুমি খুব সুন্দর। সে দম নিল; খুব মসৃণ, শক্তিশালী। সে তাকে আবার চুমু খেল ও কাছে টেনে নিল। নিচে টেনে নিয়ে তাকে সে তার পেট উঁচু করে ধরে রাখল। তারপর দুপা ছড়িয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানালো, তার অনভিজ্ঞতায় সে তা করতে বাধ্য হল।
নেফার ঘোড়ায় চড়ার মতো তার উপর চড়ে বসল। মিনটাকা অনুভব করল একটা শক্ত কিছু তার নিমাঙ্গে প্রবেশ করছে সজোরে। ভালোলাগা ব্যথার এক মিশ্র অনুভূতিতে সে ঝাঁকিয়ে উঠল।
নেফারও তার সাথে অনেক উঁচুতে ও খুব দ্রুত উঠতে লাগল যততক্ষণ না সে জানল যে সে তার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। তারপর অবিশ্বাস্যভাবে তারা ঐ সীমা ও তার বাধার আরো অনেক দূরে গেল। তারপর অবশেষে অনুভব করল এটা তাকে পৃথিবীর সব বন্ধন থেকে মুক্ত করল এবং তাকে স্বর্গের সুখে ভাসাল। তাদের কণ্ঠে এক বিজেতার চিৎকার শুনা গেল। অনেকক্ষণ পরে যখন তারা এক সাথে এই দূরের উচ্চতা থেকে বাস্তবে ফিরল, তারা এক জন অন্যজনের বাহুতে শুয়ে রইল। তাদের ঘাম ও তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস মিশে একাকার তখন।
আমি চাই নি এটা কখনো শেষ হোক, মিনটাকা অবশেষে ফিসফিস করে বলল। আমি তোমার সাথে এই ভাবে সারাজীবন থাকতে চাই।
আরো কিছুক্ষণ পর সে ধীর গতিতে উঠে বসল এবং গুপ্ত জায়গাটার খোলা মুখের দিকে তাকাল। ইতোমধ্যে অন্ধকার হতে শুরু করেছে, নেফার বলল অবাক কণ্ঠে। দিনটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল।
মিনটাকা হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াল, তারপর স্কার্টটা ঠিকঠাক করে নিল। নেফার তার আঁচলের উপর তাজা দাগটা স্পর্শ করল। তোমার কুমারীত্বের রক্ত, সে ভয়ে ফিসফিস করে বলল।
তোমাকে দেওয়া আমার উপহার। সে উত্তর দিল। একমাত্র তোমারই জন্যেই আমার ভালোবাসার প্রমাণ এটি।
সে হাত বাড়িয়ে তাকে ধরল এবং তার স্কার্টের আঁচল থেকে তার কনিষ্ঠ আঙুলের নখের সমান-রক্তমাখা একটু কাপড় ছিঁড়ে নিল।
কি করছ? জিজ্ঞেস করল মিনটাকা।
আমি এটা চিরদিন রেখে দেব এই চমৎকার দিনের স্মরণে। সে তার গলায় পরা লকেটি খুলে কাপড়ের টুকরাটা তার কালো চুলের গোছর সাথে রেখে দিল।
তুমি কি সত্যি আমাকে ভালোবাস, নেফার? সে জিজ্ঞেস করল যখন সে তাকে লকেটটা বন্ধ করতে দেখল।
আমার ধমনীতে যতো রক্ত বইছে তার প্রতিটি ফোঁটা শুনলে যা হবে তার চেয়েও বেশি। অনন্ত জীবনের চেয়েও।
*
যখন তারা প্রাচীন ভবনের কক্ষটায় এল যা তারা ঠিক-ঠাক করে বসবাসের উপযোগী বানিয়েছে, দেখল টাইটা আগুনের কুন্ডলীর কাছে বসে কয়লার উপর রাখা একটি হাঁড়ি নাড়ছে। সে মিনটাকার দিকে তাকাল, সে খোলা দরজায় তার পিছনে দিনের শেষ আলোয় এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র। তার স্কার্ট এখনো ভেজা যা সে কুয়ার অপ্রতুল পানি দিয়ে ধুয়েছে এবং তা তার উরু পর্যন্ত ঝুলে আছে। আমি দুঃখিত আমাদের ফিরতে দেরি হয়ে গেল, টাইটা! সে লাজুকভাবে বলল। আমরা মরুতে গজলা হরিণ অনুসরণ করছিলাম।
মিনটাকা আগে কখনো তাদের ফিরতে দেরি হওয়ার জন্য ক্ষমা চায় নি এবং টাইটা তাদের দুজনের দিকে ভালোভাবে তাকাল। নেফার তার উপর দিয়ে বিমূঢ় অভিব্যক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের ভালোবাসার প্রবাহটা এতো শক্তিশালী যে তা তাদের চতুর্দিকে ঝিকমিক করা প্রভার মতো আলো বিস্তার করতে লাগল এবং টাইটা বাতাসে তার গন্ধ পেল একটা বন্য ফুলের গন্ধের ন্যায়।
তাহলে যা অবশ্যম্ভাবী ছিল অবশেষে তা ঘটল; সে গম্ভীরভাবে ভাবল। একমাত্র বিস্ময় যে তা এতো দেরিতে হল। সে বিরক্তি প্রকাশ করল, কোন মন্তব্য করল না। এটা নিশ্চিত যে তোমরা তাদের ধরতে পার নি। তারা কি খুব জোরে দৌড়ে পালিয়েছে না তোমরা অমনোযোগী ছিলে? তারা অস্বস্তিকরভাবে দাঁড়িয়ে রইল, দ্বিধা ও অপরাধে ঢাকা যা। তারা জানে কারণটা তার কাছে স্পষ্ট।
টাইটা রান্নার হাঁড়ির দিকে ঘুরল। তথাপি কমপক্ষে আমাদের মধ্যে একজন সরবরাহকারী রয়েছে। আমি একজোড়া বন্য পায়রাকে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের অন্তত না খেয়ে ঘুমোতে যেতে হবে না।
.
সামনের দিনগুলো আনন্দের এক সোনালি আভায় কেটে গেল তাদের। তারা ভাবল তারা চতুর হচ্ছে, এবং টাইটার উপস্থিতিতে আলাদা থাকছে। একজন অন্যজনের থেকে চোখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে গেল এবং স্পর্শ করত যখন তারা ভাবত সে দেখছে না।
মিনিটাকা তার নিজের জন্য একটা খালি কক্ষে একটা সাজ-ঘর তৈরি করেছে যা তাদের প্রধান কক্ষ থেকে দূরে। প্রতিরাতে নেফার অপেক্ষা করত যততক্ষণ না টাইটা নরম সুরে নাক ডাকা শুরু করত। তখন নেফার চুপিচুপি উঠে হামাগুড়ি দিয়ে এই ছোট কক্ষে আসতো। প্রতিদিন সকালে মিনটাকা তাকে সকালের অনেক আগেই উঠিয়ে দিত এবং তাকে তার নিজের বিছানায় প্রধান কক্ষে পাঠিয়ে দিত; তারা ভাবত টাইটা তখনো ঘুমাচ্ছে।
তৃতীয় সকালে টাইটা দুর্বোধ্য ভাবে ঘোষণা করল, মনে হচ্ছে এই কক্ষে ইঁদুর অথবা অন্যান্য অদ্ভুত প্রাণী বসবাস করছে। কারণ আমি তাদের চুপচাপ ও ফিসফিসানিতে ঘুমাতে পারছি না। তাদের দুজনকে তখন হচকিত দেখাল এবং সে বলে চলল, থাকার জন্যে আমি আরো অধিক শান্তিময় স্থান পেয়েছি।
সে নিজের বিছানা এবং মালপত্র একটা ছোট ভগ্নাংশে নিয়ে গেল। প্রতি সন্ধ্যায় তারা এক সাথে খাবার খাওয়ার পর সে সেখানে বিশ্রাম করতে চলে যেতে।
