তার বড় কালো চোখগুলো দিয়ে গজলা হরিণটি তৎক্ষণাৎ তাদের উঠার ছোট নড়াচড়া ধরে ফেলেছে। সে তার মাথা ঘুরিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল, তীর ছাড়ার মুহূর্তে ধনুকের গুণের আওয়াজে সে সামনে লাফ দিল, তীরটা তখনো বাতাসে। সে দৌড় দিল, ধুলোর ক্ষুদ্র ঝাঁপটা উঠিয়ে। তীরটা পাথরে লেগে ঝনঝন শব্দ করল, এক মুহূর্ত আগেও প্রাণীটা ওখানে দাঁড়িয়ে ছিল। মিনটাকা লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল এবং তাকে যেতে দেখে নেফার হাসল। শিকার ধরতে না পারায় তার মাঝে কোন হতাশা দেখা গেল না।
তার দৌড় দেখো, আবাবিল পাখির মতোই উড়ে চলছে।
টাইটা নেফারকে শিখিয়েছে প্রকৃত শিকারী তার শিকারকে ভালোবাসে ও সম্মান করে। ঐ প্রাণীগুলোর জন্যে তার সহানুভূতি দেখে মিনটাকার প্রতি নেফারের আরো বেশি ভক্তি ও প্রশংসা বৃদ্ধি পেল। সে তার দিকে ঘুরল, এখনো সে হাসছে। আমি দুঃখিত আমার হৃদয়, তোমাকে আজ রাতে ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই বিছানায় যেতে হবে।
না, টাইটা রান্নার আগুনে এই বাতাস থেকেও খাবার তুলবে।
তার দুজনে তীরটা কুড়াতে গেল। মিনটাকা একটু আগে ওটার কাছে পৌঁছালো। সে ওটা তোলার জন্য ঝুকতেই তার ছোট ছিন্ন স্কার্টের পিছনের দিক উঠে গেল। তার ঊরু মসৃণ ও বাদামী এবং নিতম্বটা সুষম গোলাকার। তার ত্বক মলিন ও নিখুঁত যেখানে সূর্য কখনো স্পর্শ করেনি, পূর্বের সিল্কের মতই কমনীয়।
সে সোজা হয়ে এক ঝটকায় ঘুরল তার চোখের অভিব্যক্তি ধরার জন্য। যদিও সে কুমারী, তার নারীসুলভ স্বভাব পূর্ণ বিকশিত। সে তার নিষ্পাপ ভঙ্গিটা দেখতে পেল যা তার মাঝে এক ধরনের আবেগ তৈরি করল এবং ওটা তাকে নাড়াও দিল। সে তাকে কতটা চায় তা দেখে সেও তাকে গভীর ভাবে চাইল যা ছিল যন্ত্রণাদায়ক। সে অনুভব করল তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার ভালোবাসায় বিগলিত হয়ে যাচ্ছে। শান্ত ভাবে দুলতে দুলতে সে তার দিকে এগুলো। কিন্তু নেফার শারীরিক ইচ্ছায় উষ্ণ, একটা লজ্জা অনুভব করল যা তাকে আবার প্রায় বিমোহিত করে তুলল। সে তার কাছে করা তার ওয়াদাটা স্মরণ করল, আমি বরং মরে যাব তবুও আমার শপথ ভাঙ্গবো না এবং তোমার অসম্মান করবো না। নেফার তাকে বলেছিল এবং এই স্মৃতি তাকে তার দিক থেকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করল। সে দেখল তার হাত কাঁপছে এবং তার কণ্ঠ কর্কশ শুনাল যখন সে বলল, চোখ অন্যদিকে সরিয়ে, আমি জানি অন্য পালটা কোথায়, কিন্তু আমাদের জলদি যেতে হবে যদি আমরা তাদের অন্ধকারে আগেই খুঁজে পেতে চাই। নেফার তার দিকে পিছু না তাকিয়ে রওয়ানা দিল এবং একটা বিতৃষ্ণা অনুভব করল। এই ভূমিতে মিনটাকা বেশিই কিছু চেয়েছে। সে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে নেফারকে অনুসরণ করল। তার অদ্ভুত অনুভূতিগুলো সে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে যা তাকে প্রায় ঘিরে ধরেছিল। কিন্তু এতো সহজে সব সরে যাওয়ার নয় :
সে দ্রুত তার নাগাল ধরল এবং তাকে পিছনে ফেলে কয়েক কদম দুলকি চালে এগিয়ে গেল। নেফারের দৃষ্টি তার পিঠে মনোযোগ দিল। সে দেখল কীভাবে তার ঘন কালো কোকড়া চুল কাঁধের উপর লাফাচ্ছে। সে অবাক হয়ে দেখল তার কাঁধ বেশ প্রশস্ত হয়েছে সেই সময় থেকে যখন সে তার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ করেছিল। তারপর সে আরো নিচের দিকে তাকাল এবং অনুভব করল তার গাল গরম হয়ে পড়ছে যখন সে দেখল তার নিতম্ব তার খাটো পাতলা কাপড়ের নিচে আন্দোলিত হচ্ছে। নিজের অনুভূতিতে সে নিজেই লজ্জা পেল।
তাড়াতাড়িই তারা দীর্ঘ ওয়াদির কিনারে পৌঁছে গেল যা পর্বতের সাথে দৃঢ় ভাবে এটে আছে। নেফার মাথা ঘুরিয়ে তাকে দেখার জন্য ঘুরল এবং তার দেহ নিরীক্ষণ করতে লাগল। ঠিক একই সময়ে মিনটাকাও তার চোখের দিকে তার দৃষ্টি তুলল।
পর্বতের নিচে শত শত কবর আছে। আমি এগুলো প্রথম দেখেছিলাম যখন আমার পিতা আমাকে এই পথে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তার… সে থেমে গেল। শেষ দিনটা যখন সে ট্যামোস-এর সাথে ব্যয় করেছিল সেই দিনের স্মৃতিতে দুঃখী হয়ে গেল।
কাদের কবর? মিনটাকা জিজ্ঞেস করল যন্ত্রণায় কিছু থেকে তার মনযোগ সরানোর জন্য।
টাইটা বলে তারা হাজার বছরের পুরানো, চিওফস ও চেফ্রেন-এর সময় থেকে যারা গিজার বিশাল পিরামিড তৈরি করেছিল।
তাহলে তারা প্রায় ম্যাগোসের মতোই বৃদ্ধ। মিনটাকা মুচকি হেসে বলল।
তুমি কি কখনো ওগুলো খুঁড়েছো? সে তাকে প্রশ্ন করল।
নেফার তার মাথা নাড়ল, যখন আমি এখানে প্রথম আসি, আমি প্রায়ই তা করার কথা ভাবতাম, কিন্তু কখনো কোন সুযোগ ছিল না।
তাহলে চল এখন আমরা তা করি, মিনটাকা বলল।
নেফার দ্বিধান্বিত। আমাদের দড়ি ও প্রদীপ থাকতে হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে মিনটাকা চূড়া থেকে নামতে শুরু করে দিয়েছে এবং সেও বাধ্য হল তাকে অনুসরণ করতে।
ভিত্তি মূলে পৌঁছে তারা শীঘ্রই দেখতে পেল যে বেশির ভাগ কবর তাদের আয়ত্তের বাইরে, খাড়া পর্বত মুখের অনেক উপরে যাদের নিচে ভয়ংকর খাদ।
কিছুক্ষণ পর নেফার একটা প্রবেশ পথ খুঁজে পেল এবং ভাবল তারা হয়তো পৌঁছতে সক্ষম হবে। তারা একটা অংশে উঠল যেখানে চূড়ার মুখ ভেঙে পড়েছে এবং একটা সরু তাকেতা পৌঁছেছে। ওটা দিয়ে তারা সতর্ক ভাবে এগিয়ে চলল, নেফার সামনে। অবশেষে সে অন্ধকার প্রবেশ দ্বারে পৌঁছতে পারল এবং ওটার মধ্য দিকে উঁকি দিতে ঝুকল। অবশ্যই এটা মৃতদের আত্মা দিয়ে প্রহরারত। সে কৌতুকের মতো করে এটা বলার চেষ্টা করল, কিন্তু মিনটাকা তার আসক্তি বুঝতে পারল এবং সেও এটা দ্বারা আক্রান্ত হল।
