আপনি যে ভাবে আদেশ দিলেন সে ভাবেই আমি করব, মহামান্য।
যতোটা দরকার তার চেয়ে বেশি সতর্ক থাকবে। তোমাকে অবশ্যই খবর সংগ্রহ করতে হবে। নকল ফারাও এর সব বিষয়ে জানবে।
আমি রাতেই রওনা দিচ্ছি, ফারাও! হিল্টো সম্মত হল।
পুরো দীর্ঘ উষ্ণ দিনটি তারা চাঁদোয়ার নিচে ছায়ায় শুয়ে পরিকল্পনা করে কাটাল যা তারা একটা সমাহিত রথ থেকে উদ্ধার করেছে। যখন সূর্য দিগন্তে ডুবে গেল এবং তাপ হারাতে শুরু করল তখন তারা আলাদা হয়ে গেল। হিল্টো ও ম্যারন পশ্চিম দিকে থেবসের দিকে এবং টাইটা, নেফার ও মিনটাকা গেল পূর্ব দিকে।
আমরা তোমাদের জন্যে গালালার ভগ্নাংশে অপেক্ষা করব। হিল্টোর উদ্দেশ্যে নেফারের শেষ কথা ছিল এটি। তারপর তারা তাকে ও ম্যারনকে বড় রাস্তা নিতে দেখল এবং পড়ন্ত সন্ধ্যায় তারা অদৃশ্য হয়ে গেল দ্রুত।
টাইটা, মিনটাকা ও নেফার ক্যারাভান ধরে গালালার দিকে পথ নিল। বিশ দিন পর মাত্র কয়েক ফোঁটা পানি থলেতে অবশিষ্ট নিয়ে তারা তাদের সে নিদর্শন ভগ্নস্থানে পৌঁছল।
*
সপ্তাহ পার হয়ে মাস হয়ে গেল এবং তারা গালালায় অপেক্ষা করেই চলল। টাইটা তার দিনগুলো একেকটি পাহাড়ে কাটাতে লাগল, যেগুলো শহরটা ঘিরে আছে। নেফার ও মিনটাকা মাঝে মাঝে তার দেখা পেত। দূর থেকে তাকে দেখতে যখন সে উপত্যকা ও গিরিখাতগুলোতে ঘুরঘুর করতো। প্রায়ই তারা তাকে তার লাঠি দিয়ে পাথর চাপড় দিতে ও খোঁচাতে দেখতো। অন্য সময় সে শহরের দেয়ালের বাইরে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া কুয়াটার পাশে বসে থাকতো, গভীর খাড়া নিচের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত শুধু।
যখন নেফার তাকে পরোক্ষভাবে প্রশ্ন করল, সে তা এড়িয়ে যেতে চাইল। এক দল আর্মির পানি দরকার। এই ছিল যা সে বলল।
আমাদের খুব অল্পই পানি আছে; নেফার জানাল, একজন আর্মি তো কথা পরের কথা। টাইটা মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং পাহাড়ের দিকে চলে গেল তার লাঠি পাথরে চাপড়াতে চাপড়াতে।
মিনটাকা ভগ্নাংশের মধ্যে তাদের জন্য একটা কক্ষ তৈরি করল এবং নেফার তার উপরে ছাদ দিল ছেঁড়া কাবাকো দিয়ে। হিকস্ রাজকন্যা হিসেবে মিনটাকাকে কখনো খাবার রান্না করতে বা ঘর ঝাড় দিতে হয়নি, তাই তার প্রথম চেষ্টাটা ছিল বিব্রতকর। মুখ ভর্তি খাবার চিবাতে চিবাতে একবার টাইটা বলল, আমরা যদি টর্কের আর্মি ধ্বংস করতে চাই তবে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হবে তোমাকে তাদের কাছে বাবুর্চি হিসেবে পাঠানো।
যদি তুমি ততোখানি দক্ষ হও, তবে তো তুমিই তোমার রান্নার দক্ষতা দিয়ে আমাদের সম্মানিত করতে পারো।
হয় তাই করতে হবে, নয় অনাহারে কাটাতে হবে, টাইটা সম্মত হল এবং তাকে আগুনের কাছে নিয়ে গেল। নেফার তার পুরনো শিকারীর ভূমিকায় গেল এবং মরুভূমিতে তার প্রথম দিন শেষে ফিরল একটা সুঢৌল তরুণ গজলা হরিণ ও চারটি চমৎকার পাখির ডিম নিয়ে। তবে একটু পচা ছিল তা। মিনটাকা তার অংশের ডিমের ওমলেট শুঁকে দেখল, যা টাইটা তৈরি করেছে এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। এই কি একই ব্যক্তি যে আমার রান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল? সে আগুনের আড়াআড়ি নেফারের দিকে তাকাল। তুমিও তার চেয়ে কম দোষী নও, নেফার। ডিম পর্যন্ত চিনতে পারলে না। পরের বার আমি তোমার সাথে যাব নিশ্চিত করতে যেন অল্প হলেও খাওয়ার যোগ্য কিছু আনা যায়।
একটা অগভীর ওয়াদির মধ্যে তারা পাশাপাশি শয়ন করল যা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে খাজ কেটে চলে গিয়েছে এবং সেখান হতে এক পাল দাজলা হরিণকে দেখল তারা।
ওগুলো পরীদের মতো সুন্দর! মিনটাকা ফিসফিস করে বলল, কত সুন্দর!
যদি তোমার অস্বস্তি লাগে, আমি তীর নিক্ষেপ করছি; নেফার তাকে বলল।
না; সে তার মাথা নাড়ল। আমি বলিনি যে আমি তা করব না। তার কণ্ঠে দৃঢ় সংকল্প এবং এতো দিনে সে তাকে যথেষ্ট জেনেছে তার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন বিদ্ধ না করতে। পুরুষ হরিণটা তার দল থেকে এগিয়ে গেল। তার পিঠ কমনীয় দারুচিনি রঙের এবং তলপেটটা ছিল দিগন্তে ওঠা কোন বজ্রের মাথার ন্যায় রূপালি সাদা। সূঁচালো ক্র্যাকৃতির কান দুটোর মধ্য স্থানে তার শিং দুটো বীনা আকৃতির ও মসৃণ। সে তার দীর্ঘ বাঁকানো ঘাড়ের উপর তার মাথাটা ঘুরালো এবং তার ছোট দলটার দিকে তাকাল। একটা বাচ্চা লাফাতে শুরু করল তার লম্বা পায়ের উপর। পুরুষটা তার নাক উঁচিয়ে এটার পাশ গিয়ে তার লাফানো ধুর স্পর্শ করল। এটা হল সতর্কীকরণ আচরণ।
এই ছোট প্রাণীটা শুধু অনুশীলন করছে এবং দেখাচ্ছে। নেফার হাসল।
পুরুষ হরিণটা এই প্রদর্শনীতে আকর্ষণ হারাল এবং সামনে এগেলো যেখানে তারা ওত পেতে শুয়ে আছে। সে পাথুরে ভূমি দিয়ে তার রাস্তা নিল ও বিচক্ষণ মাধুর্যতায় কয়েক কদম পর পর থামছে চিন্তিত ভাবে বিপদের আশংকায় আশপাশ দেখার জন্য।
সে আমাদের দেখে নি, কিন্তু সে শীঘ্রই দেখবে, নেফার ফিসফিস করে বলল। আমাদের পাশে টাইটা নেই যে তাকে ধোকা দিবে।
সে আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে; মিনটাকা ফিসফিস করে বলল।
পঞ্চাশ কদম, আর নয়, তীর নিক্ষেপ কর নইলে সে যে কোন সময় চলে যেতে পারে। মিনটাকা অপেক্ষা করল যততক্ষণ না পুরুষ হরিণটা আরো একবার তার মাথা ঘোরালো। তারপর সে ধীরে ধীরে তার হাঁটুতে ভর দিয়ে উঠে ধনুকটা তুলে নিল। এটা একটা ছোট বাকানো অস্ত্র যা তারা সমাহিত রথ থেকে এনেছে। সে তীরটা ছুঁড়ল এবং তা মলিন মরুর আকাশে একটু বাঁক নিল।
