টর্ক চকচকে ব্রোঞ্জের তীক্ষ্ণ প্রান্ত ঝলকাতে দেখল শুধু। একটি হতভম্ব চিৎকার করে সে লাফ দিয়ে পিছু সরে গেল আঘাতটা এড়িয়ে যেতে। বিশ্বাস ঘাতক নোংরা মেয়ে মানুষ। সে পানির থলেটা ফেলে দিয়ে তাকে ধরতে সামনে এগোল দ্রুত। কিন্তু সেই সময় তার উপর থেকে ওজন সরে গেলে মিনটাকা লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল। সে তার হাত থেকে গলে দৌড়ে প্রবেশ দ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করল প্রাণপণে। কিন্তু টর্ক তার রাস্তা আটকে দাঁড়িয়েছে এবং তার দীর্ঘ বাহু বাড়িয়ে তাকে ধরতে হাত বাড়াল, তার কাপড়ের আঁচল ধরে ফেলল সে। কিন্তু লাফিয়ে এক পাশে সরে গেল মিনটাকা। আঁচলের লিনেন সুতায় টর্কের আঙুল ছিঁড়ে গেল এবং সে মোচড় দিয়ে তার থেকে সরে দাঁড়াল। কিন্তু গিরিখাতের মধ্যে তখনো মিনটাকা বন্দী অবস্থায়। একটা কর্কশ শব্দ করে তাকে টর্ক ধরতে এল কিন্তু মিনটাকা তখন পর্বতের দেয়ালের দিকে দৌড় দিল এবং ওটা আরোহণ করতে শুরু করল, একটা বিড়ালের ন্যায় নমনীয় ও দ্রুত গতিতে।
টর্ক তাকে ধরার আগে সে তার নাগালের বাইরে চলে গেল, উপরে উঠে গেল দ্রুত। এদিকে টর্ক তাকে অনুসরণ করার আশা ততোক্ষণে ছেড়ে দিয়েছে। সে বলুম ছুঁড়ে মারল, কিন্তু সে তার বাম হাত ব্যবহার করছে এবং নিক্ষেপের শক্তিটা ছিল অল্প।
মিনটাকা মাথা নিচু করতেই বল্লমটা তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল ও তার সামনে পাথরে ঢুকে গেল। ভয় পেয়ে সে আরো দ্রুত উঠতে লাগল। টর্ক টলতে টলতে অন্য একটা বল্লম তুলে নিল এবং পুনরায় নিক্ষেপ করল যা তার এক হাত দূর দিয়ে চলে গেল ব্যর্থ হয়ে। টর্ক রাগ ও হতাশায় বিরক্তি প্রকাশ করল এবং তৃতীয় বল্লামটা টেনে নিল। কিন্তু মিনটাকা তখন হামাগুড়ি দিয়ে তার দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে। সে নিজেকে একটা পাথরের সাথে আড়াল করে লুকিয়ে রইল। সেখান থেকে সে টর্ককে তার উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করতে ও কসম খেতে শুনল। এমনকি তার দুরাবস্থার মধ্যেও তার নোংরা শব্দ তাকে অসুস্থ করে তুলল যা সে বলছিল উদ্দেশ্যে করে।
অন্য একটি বলুম যেখানে মিনটাকা শুয়ে আছে তার উপর দিয়ে উড়ে গেল এবং তার ঠিক উপরে পাথরের মুখে লেগে ঠনঠন শব্দ তুলল। খাড়া তাক বরাবর পড়ছিল ওটা এবং পুনরায় গিরির মেঝেতে পড়ার আগেই মিনটাকা তা ধরে ফেলল। সে তাকের কিনারা দিয়ে উঁকি দিল ও পিছু হটার জন্য প্রস্তুত। অনিশ্চিতভাবে টর্ক তার দিকে তাকিয়ে আছে, তার আঘাত প্রাপ্ত হাত তার পাশে ঝুলছে। তার মাথা দৃশ্যত হলে দেখা গেল রাগে ও আঘাতের ব্যথায় তার চেহারা বিকৃত হয়ে আছে এবং সে সামনে বাড়ল যেন তার দিকে চড়তে চায়।
মিনটাকা তখন তাকে বলুমের তীক্ষ্ম মাথাটা দেখাল, হা, উপরে এসো; সে তাকে শাসালো, এবং এটা তোমার ঐ শূকরের মতো পেটে ঢোকাতে দাও।
থেমে গেল টর্ক। তাকে আরো এক হাত চড়তে হবে এবং নিজেকে অক্ষত একটা হাত দিয়ে রক্ষা করতে হবে। সে দেখল তার হুমকি সত্য। যখন সে ইতস্তত করল, মিনটাকা তখন চিৎকার করতে লাগল। নেফার! টাইটা! হিল্টো! আমাকে বাঁচাও।
তার কণ্ঠ পর্বতে প্রতিধ্বনিত হয়ে গিরিখাতে বেজে উঠল বারবার। টর্ক তার চারপাশে হতাশ হয়ে তাকাল, আশা করল অস্ত্রহাতে শত্রুরা তার দিকে ছুটে আসবে এখনই। হঠাৎ করেই টর্ক একটা সিদ্ধান্ত নিল। সে পানির থলে তুলে ওটা তার কাঁধে ঝোলালো, ভেব না তুমি আমার কাছ থেকে চিরদিনের মতো পালিয়ে যেতে পারলে। একদিন আমি তোমার দেহের সকল আনন্দ মিটিয়ে দিব এবং তারপর তোমাকে আমি একটা খেলনার মতই আমার সৈন্য বাহিনীর কাছে তোমাকে তুলে দেবো। তার উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল সে এবং তারপর ঘোটকীটার উপর উঠার চেষ্টা করল। কিন্তু প্রাণীটা এতো দুর্বল ছিল যে তার বিশাল দেহ বইতে পারল না এবং তার নিচে পড়ে গেল।
টর্ক তখন তার নিজের পায়ের উপর ভর করে উঠে দাঁড়িয়ে পা টানতে টানতে গিরি থেকে বেরিয়ে গেল।
মিনটাকার একটু সন্দেহ হল তার এ চলে যাওয়া হয়তো কোন চাল হবে। সে পর্বতের নিরাপদ উঁচু স্থানটা হতে নামার সাহস করল না। সে বন্য ভাবে চিৎকার করে গেল, নেফার! আমাকে সাহায্য কর।
সে তখনো চিৎকার করছিল যখন নেফার দৌড়ে তার নিচে পাথুরে গিরিতে ফিরল, হাতে তার একটা তলোয়ার ধরা, হিল্টো ও ম্যারন তার পিছনে কাছাকাছি।
কি হয়েছে? নেফার জানতে চাইল, যখন সে পর্বত থেমে নেমে তার বাহুতে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
টর্ক! সে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল তাকে নিরাপদে ধরে রাখায় স্বস্তি পেয়ে। টর্ক জীবিত। সে এখানে ছিল।
সে বোকার মত কি হয়েছে খুলে বলল। তার তথা শেষ হবার আগেই নেফার অন্যদের আদেশ দিল নিজেদের অস্ত্রে সজ্জিত হতে।
টকর্কে ধাওয়া করতে যাবার প্রস্তুতি নিতে।
*
টাইটা তাদের সাথে যোগ দিতে ফিরে এসেছে। সে মিনটাকার সাথে থাকল যখন বাকি তিন জন টর্কের পায়ের ছাপ অনুসরণ করছিল, এতো সতর্ক ভাবে যে যেন তারা একটা আহত সিংহকে অনুসরণ করছে। তারা পর্বতের ভিত্তি ধরে এগেলো যতক্ষণ না তারা চিড়টায় পৌঁছল যেখানে টর্ক খামসিনের ক্রোধ থেকে বাঁচার জন্যে আশ্রয় নিয়েছিল। নেফার এলোমেলো বালি পরীক্ষা করল এবং সংকেতগুলোর অর্থ করল। তারা দুইজন। সে বলল, তারা ঝড়ে সমাহিত হয়েছিল যেমনটা আমরা হয়েছি। তারা নিজেদের খুঁড়ে বের করেছে। একজন এখানে অপেক্ষা করেছিল। পশমের একটা সুতা তুলে নিল সে যা পাথরের সাথে দৃঢ়ভাবে লেগে ছিল এবং ওটা আলোর মধ্যে ধরে বলল, কালো। এ ধরনের কালো রং মিশরীয়রা কদাচিৎ পরিধান করে। প্রায় নিশ্চিত এটা যাদুকর মেডির।
