সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল এবং কণ্ঠগুলো আবার এলো। মিনটাকা ও লোকটি পাহাড়ের মধ্যে একটা গিরিখাতে রয়েছে। যখন সে ইতস্তত করছিল তখন সে বালির কচকচ আওয়াজ শুনল, কারো পায়ের নিচে লবণের ক্রিসটাল ভাঙ্গলে যেমন হয়। ঐ লোকটি গিরিখাত থেকে নেমে আসছে যেখানে টর্ক দাঁড়িয়ে আছে সেই বরাবর। টর্ক পাথুরে দেয়ালের পিছনে আড়াল নিল এবং একজন লোক গিরিখাতের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, বিশ কদম দূরে যেখানে টক লুকিয়ে আছে তার কাছেই। অপরিচিত লোকটি দৃঢ় পদক্ষেপে বালিয়াড়ির দিকে যাত্রা করল। খুবই পরিচিত, কিন্তু পরিচয় লুকিয়ে লোকটা টর্ককে এড়িয়ে গেল। তারপর ঘুরে গিরিখাতের দিকে ডেকে বলল, নিজেকে অসঙ্গত ভাবে কষ্ট দিও না, মিনটাকা! তুমি একটা যন্ত্রণাদায়ক অগ্নি পরীক্ষার মধ্যে সময় পার করছ। তার পর সে হাঁটা শুরু করল।
টর্কের মুখ তার পিছনে হাঁ হয়ে গেল। ও তো মৃত, ভাবল সে। এ হতে পারে না। নাজার কাছ থেকে আসা বার্তাটি ছিল পরিষ্কার…। সে সম্ভাবনাটা বিচার করল। একটা জ্বিন বা কোন খারাপ আত্মা সম্ভবত নেফার সেটির রূপ ধারণ করেছে এবং তাকেই সে মরুভূমির দিকে যেতে দেখছে। তারপর সে ঝাপসা চোখে দেখল অন্য তিন জনের সাথে সে যোগ দিচ্ছে। তাদের মধ্যে ওয়ারলকের নির্ভুল অবয়টা সে চিনতে পারল; টর্ক বুঝল, অবশ্যই সে সব কিছুর মূলে, কোনো অদ্ভুত ও রহস্যজনক ভাবে ফারাও নেফার সেটির পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। কিন্তু এখন তার না আছে সময় কিংবা ইচ্ছা এই বিষয়ে ভাবার। তার মনে শুধু একটাই এখন চিন্তা এবং তা হচ্ছে পানি।
যতোটা সম্ভব সে পারল সঙ্গোপনে হামাগুড়ি দিয়ে গিরিখাতে প্রবেশ করল যেখানে মিনটাকার কণ্ঠটা শুনেছে এবং পর্বতের কোনা থেকে উঁকি মেরে ভেতর দেখল। প্রথম দর্শনে সে তাকে চিনতে পারল না; একজন চাষির মতো নোংরা হয়ে আছে সে। তার চুল ও ছিন্ন বস্ত্র বালিতে শক্ত হয়ে আছে। চোখ কোঠরে বসা ও লাল। সে একটা ছোট ঘোড়ার পালের সামনে হাঁটুগেড়ে বসে আছে, ওটাকে পানি করানোর উদ্দেশ্যে একটা পানির পাত্র ধরে রয়েছে হাতে।
পানিই একমাত্র বস্তু যার বিষয়ে টর্ক ভাবতে পারল। সে এই দূর থেকেই তার গন্ধ নিতে পারল এবং তার পুরো দেহ একটা ব্যাকুল কামনায় ছেয়ে গেল। টলতে টলতে মিনটাকার দিকে এগিয়ে গেল সে। মেয়েটির পিঠ তার দিকে ঘুরানো এবং নরম বালি তার আসার শব্দ ঢেকে দিল। মিনটাকা তার সম্পর্কে সচেতন হল না যতোক্ষণ না তার বাহু ধরল সে। ঘুরে তাকে দেখতে পেয়েই মিনটাকা একটা চিৎকার দিল। ততোক্ষণে টর্ক তার হাত থেকে পানির পাত্রটা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং তাকে নিচে ফেলে দিল। যেহেতু পানি পান করতে হাতটা প্রয়োজন তাই সে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে হাঁটুগেড়ে তার ছোট পিঠের উপর চড়ে বসল তাকে বাধ্য রাখতে, যাতে পাত্র থেকে পানি পান করতে সহজ হয়।
সে বড় বড় ঢোক গিলে গলগল শব্দ করে পান করতে লাগল এবং ঢেকুর তুলল। একটু থেমে তারপর আরো কিছু পান করল। মিনটাকা তার নিচে মুচড়াচ্ছিল এবং চিৎকার করল, নেফার। টাইটা! আমাকে বাঁচাও।
টর্ক আবার ঢেকুর তুলে মিনটাকার চেহারা বালির মধ্যে চেপে ধরল তাকে চুপ করাতে এবং পাত্র থেকে শেষ বিন্দুটা পান করল। মিনটাকার তার চার পাশে তাকাল, তার উপর টর্ক এমন ভাবে গুটিসুটি মেরে বসে আছে ঠিক এটা সিংহ তার শিকারের উপর যেমনটা থাকে। গিরিখাতের দেয়ালের সাথে পানি থলেগুলো দেখতে পেল টর্ক, সেই সাথে বলুম এবং তলোয়ারও পাশে রয়েছে।
সাথে সাথে টর্ক দাঁড়িয়ে ওগুলোর দিকে যেতে শুরু করল। তৎক্ষণাৎ মিনটাকা লাফ দিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল কিন্তু টর্ক তাকে আবার লাথি মেরে ফেলে দিল। আর কোন সুযোগ পাবে না, বেশ্যা কুত্তি; কর্কশ কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল টর্ক এবং ঘন বালি মাখা এক মুঠো চুল ধরে তাকে বালির মধ্যে দিয়ে পিছলে টেনে নিয়ে চলল সে যতোক্ষণ না পানির থলের কাছে পৌঁছল। সেখানে পৌঁছে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিল সে। তারপর স্যান্ডেল পরিহিত তার বিশাল পা দিয়ে আবার চেপে ধরল তার পিঠ। হাত বাড়িয়ে পানির থলেটা নিয়ে দুই হাঁটুর মধ্যে খানে মিনটাকাকে চেপে ধরে সে কাঠের ছিপি খুলল। ঠোঁটের কাছে তা তুলে গরম ও লোনা পানির ধারা তার গলা দিয়ে বয়ে যেতে দিল।
যদিও মুখটা বালির মধ্যে চেপে ধরা ছিল তবুও মিনটাকা বুঝল যে টর্ক পানি পানের জন্য কামাতুর হয়ে আছে। সন্তুষ্টি লাভ ও পুরো মনযোগ তার উপর আসার আগেই তাকে যা করার করতে হবে। মিনটাকা জানে তার সহ্যের সীমার চাইতে বেশি অপমান টর্ক সহ্য করেছে এবং আরেক বার তার হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগেই সে তাকে এখানেই হত্যা করবে।
পাগলের মতো সে পাথরের দেয়ালে সাজানো হাতিয়াড়ের বান্ডিলের দিকে হাত বাড়াল। তার আঙ্গুলগুলো একটি বল্লমের ফলার কাছাকাছি রয়েছে। টর্ক তখনো তার মাথা পিছনে হেলে পান করে চলেছে। কিন্তু টর্ক তার নড়াচাড়াটা অনুভব করল। সে পানির থলেটা নামাল, আর ঠিক তখন মিনটাকা তার পেট ও কুচকিতে ছোট কিন্তু ভয়ংকর অস্ত্রটা দিয়ে আঘাত করার জন্য মোচড় দিল। যাই হোক আক্ৰমণটা লক্ষ্য স্থির হয়েছিল, নিচ থেকে তা হওয়ায় শক্তি ছিল কম।
