আরো একবার টাইটা হাটুগেড়ে বসল এবং তার চেহারা মাটির কাছাকাছি রাখল। এবার নেফার তাকে আরো মনযোগ দিয়ে দেখল এবং লক্ষ্য করে দেখল যে
সে. প্রার্থনা করছে না বরং বালির স্তরের কাছের মাটি শুঁকছে। তখন সে বুঝল আসলে সে কি করছে। সে টর্ক বাহিনীর সমাহিত রথের সন্ধান করছে, সে ফিসফিস করে মিনটাকাকে বলল। তার লাঠিটা হচ্ছে একটি ঐন্দ্রজালিক দন্ড এবং সে বালির নিচে পচনের গন্ধ খুঁজছে।
টাইটা হঠাৎ অস্বস্তি নিয়ে দাঁড়াল এবং হিল্টোর উদ্দেশ্যে মাথা নাড়াল। এখানে খনন কর, সে আদেশ দিল।
তারা সবাই জনাজীর্ণ হয়ে সামনে হামাগুড়ি দিল এবং বাটির মতো করে হাত দিয়ে বালি খুঁড়তে লাগল। তাদের বেশি দূর যেতে হল না। এক হাত গভীরে তাদের হাত শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেল এবং তারা কাজের গতি তখন প্রায় দ্বিগুণ করল।
দ্রুত তারা একটা রথের চাকার কিনারা বের করল যা রথটার পাশেই পড়ে ছিল। পাগলের মতো খননে তাদের আরো কয়েক মিনিট গেল এবং তারা একটি পানির থলে টেনে বের করল। তারা ওটার দিকে হতাশা নিয়ে তাকিয়ে রইল কারণ ওটা ফেটে গেছে, সম্ভবত যখন রথটা উল্টে গিয়েছিল। থলেটা শুকনো, যদিও তারা পাগলের মতো ওটা পিষল তবুও তা থেকে এক ফোঁটা মূল্যবান তরল বের হল না।
নিশ্চয়ই আরেকটা থাকবে। নেফার শুষ্ক স্ফীত ঠোঁটের মধ্যে দিয়ে বলল। আরো গভীরে খনন করো।
তারা বালিতে তাদের শক্তির শেষ হতাশ জনক বিস্ফোরণে থাবা দিল এবং যখন গর্তটা আরো গম্ভীর হল মৃত ঘোড়ার দুর্গন্ধ তখন জোরালো হল এবং বমির উদ্রেক হল। ওগুলো তাপের মধ্যে এই দিন গুলোতে পড়েছিল।
হঠাৎ নেফার গর্তের গভীরে হাত ঢুকাল এবং কিছু একটা নরম ও নমনীয় বস্তু অনুভব করল। সে ওটার চাপ দিল এবং তারা সবাই পানির গর গর শব্দ শুনল। সে আরো আলগা বলি সরিয়ে ওগুলোর মধ্যে থেকে একটা ফোলানো পানির থলে তুলে আনল। তাদের তৃষ্ণা তখন আরো বেড়ে গেল ও কাতর স্বরে আর্তি জানাল সবাই। টাইটা ছিপি খুলে চামড়ার মগে কিছু পানি ঢালল যা পানির থলের পাশে গর্তের মধ্যে পড়ে ছিল।
পানির তাপমাত্রা ছিল রক্তের উষ্ণতার সমান। টাইটা মগটি মিনটাকার ঠোঁটের কাছে নিয়ে ধরল। সে তার চোখ বন্ধ করে পরমানন্দে পানি পান করল।
প্রথমেই বেশি নয়; টাইটা তাকে সর্তক করল, তার কাছ থেকে মগটা নিয়ে নেফারকে দিল। তারা পর্যায়ক্রমের পান করল। তারপর আবার মিনটাকা পান করল এবং মগটা আরো একবার ঘুরল সবার হাতে হাতে।
এরইমধ্যে টাইটা আরো অনুসন্ধান চালানোর জন্য তাদের ত্যাগ করল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে আবার তাদের খনন করতে ডাকল। এইবার তারা সৌভাগ্যবান; অল্প বালির নিচে শুধুমাত্র রথই না সেখানে পানির তিনটি থলেও ছিল এবং একটাও নষ্ট হয়নি।
এবার ঘোড়াগুলো; টাইটা তাদের বলল এবং তারা একে অপরের দিকে দোষীর মতো তাকাল। ওগুলোর কথা তারা ভুলে গিয়েছিল, পানির থলেগুলো নিয়ে তারা পা টেনে টেনে বালির মধ্যে দিয়ে পর্বতের পাদদেশে ফিরে চলল। সরু গিরিখাতটায় যার মধ্যে তারা ঘোড়াগুলোকে বেঁধে রেখেছিল অবশ্যই খামসিনে পূর্ণ শক্তি সত্ত্বেও বাঁধার দেওয়ার জন্য তা ভালোভাবে কাজ করে থাকবে। তারা খননে কাঠের কোদাল ব্যবহার করল যা তারা সমাহিত রথের মালপত্রের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিল। যাইহোক, গন্ধ তাদের সতর্ক করল কি আশা করতে হবে। পশুটা মৃত এবং ওটার পাকস্থলি গ্যাসে ফুলে বেলুনের মতো হয়ে আছে। তারা পশুটির আশা ত্যাগ করে পরের পশুটার জন্য খনন করল।
এবার তারা আরো বেশি ভাগবান। এটা একটা ঘোটকী, ঘোড়াগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ইচ্ছুক এবং শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান যা তারা চোরাবালির ওখান থেকে ধরে এনেছিল। প্রাণীটা জীবিত, কিন্তু কোনমতে। তারা তার বাঁধনটা কেটে দিল যা তাকে নিচে ধরে রেখেছিল, কিন্তু প্রাণীটা এতো দুর্বল ছিল যে চিকিৎসা ছাড়া নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারল না। সবাই তাকে ধরে তুলল। দুর্বল ভাবে পশুটা দাঁড়াল এবং কাঁপছিল ও দুলছিল। আবার মনে হল পড়ে যাবে, কিন্তু মিনটাকা যখন তার সামনে পানির বালতিটা ধরল তখন সে লোভীর মতো তা পান করল এবং মনে হল তৎক্ষণাৎ উন্নতি হল তার।
এরই মধ্যে লোকেরা অন্য ঘোড়াগুলোর জন্য খনন শুরু করেছে। তারা আরো দুটি তৃষ্ণার্ত অথবা দম আটকে যাওয়া মৃত ঘোড়া পেল, কিন্তু অন্য দুটা এখনো জীবিত। প্রাণীগুলো সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিল যখন তাদের পানি দেওয়া হলো।
তারা মিনটাকাকে তিনটি দুর্বল ঘোড়া দেখাশুনা করার জন্য রেখে রথের কাছে ফিরে গেল। এবার গবাদিপশুর খাবার খুঁজতে বালি খোঁড়া আরম্ভ করল তারা। অবশেষে শস্যের থলে ও অন্য একটা পানির থলে নিয়ে তারা ফিরল।
তুমি দেখছি তাদের সাথে ভালোই ভাব জমিয়েছো; নেফার মিনটাকাকে বলল, ঘোটকীর ঘাড়ে হাত বোলাতে বোলাতে। কিন্তু ভয় হচ্ছে চলার মতো তাদের সামর্থ আছে কিনা।
সে তার দিকে তীব্রভাবে ঘুরল; আমি তাদের সবগুলোকে সুস্থ করে তুলব। আমি দেবীর সাথে শপথ করেছি। আমি নিশ্চিত বাইরে বালির নিচে আরো শত শত গবাদিপশুর খাবার ও পানির থলে রয়েছে। আমাদের এখানে আরো অনেক দিন থাকতে হতে পারে। আর যখন আবার যাত্রা করবো তখন এই সাহসী জন্তুগুলো আমাদের এখান হতে বাইরে নিয়ে যাবে।
