ওটা ওয়ারলক, টর্ক ইশতারের দিকে চোখ ছোট করে তাকাল। তারা পাথরে আশ্রয় নিয়েছে। আমি আশা করি তারা সেখানে আমাদের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করবে। তারপর সে তার যুদ্ধবাদককে বলল, যুদ্ধের বাজনা বাজাও।
*
যখন নেফার ও মিনটাকা পাথরের স্তূপটাকে সম্মুখে আবছাভাবে স্পষ্ট হতে দেখল, দুজন তখন অবাক হল। টাইটা কি আগে থেকেই জানতো এটা ওখানে ছিল? মিনটাকা জিজ্ঞেস করল।
সে কিভাবে জানবে? উত্তরে বলল নেফার।
তুমি একবার আমায় বলেছিলে সে সব জানে। নেফার চুপ হয়ে গেল। নিজের অনিশ্চয়তা ঢাকার জন্য পিছনে তাকাল সে এবং খুব কাছের অনুসারীকে দেখল। সূর্যহীন আকাশ হলুদ আভার সাথে মিশে উঠছে।
এটা কোন ব্যাপারই না। ওটা আমাদের কি উপকারে আসবে? নেফার প্রশ্ন করল। আমরা হয়তো কিছু সময়ের জন্য ঐ পাথরগুলোতে নিজেদের রক্ষা করতে পারবো, কিন্তু টর্কের লোক শত শত। আমরা প্রায় শেষ। সে পানির মশকটা স্পর্শ করল যা তার পাশে দন্ডটার সাথে ঝুলানো।
মশকটা প্রায় শূন্য, এমনকি ঘোড়াগুলোকে আরো একদিন বাঁচিয়ে রাখার মতোও কোন পানি নেই।
আমাদের অবশ্যই টাইটাকে বিশ্বাস করতে হবে, মিনটাকা বলল, নেফার তিক্ত ভাবে হাসল।
মনে হচ্ছে প্রভু আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন। টাইটা ছাড়া আর কে আছে এ মুহূর্তে বিশ্বাস যোগ্য?
তারা সামনে এগোল, ঘোড়াগুলোকে প্রায় জোর করে চালাতে হচ্ছে। তাদের পিছনে তারা তাদের অনুসরণকারীদের ক্ষীণ আওয়াজ শুনল। দল নেতা তার সৈন্য বাহিনীকে এক লাইনে আসতে বলছে। খোলা অস্ত্রের আওয়াজ ও গোঙানি এবং শুকনো চাকার ক্যাচ ক্যাচ ধ্বনি জোরালো হচ্ছিল প্রতি নিয়ত।
অবশেষে তারা কালো ও ধূসর রঙের পাথরের পাহাড়ের কাছে এসে পৌঁছল। উচ্চতায় পাথরটা একশ ফুট প্রায় উঁচু, তাপের কিরণে তার গা থেকে বাষ্প উদগিরিত হচ্ছে। কোন উদ্ভিদ পাথটির গায়ে নিরাপদ স্থান খুঁজে পায় নি কিন্তু বাতাস ওটার গায়ে চিড় ও খাজের সৃষ্টি করেছে। রথগুলোকে পর্বতের কাছাকাছি নিয়ে এসো, টাইটা আদেশ দিল এবং তারা নির্দ্বিধায় তা মানল। এবার ঘোড়া গুলোকে মুক্ত করে তাদের এই পথে আনো। পাথর মুখের কোনার পাশে নিজের দলটাকে নিয়ে গিয়ে টাইটা দেখিয়ে দিল কোথায় আসতে হবে। এখানে পাথরের মধ্যে খাজ গভীর চিড় তৈরি করেছে।
এই পথে। সে তাদের পথ দেখাল, যতো দ্রুত সম্ভব তারা এগুল গভীর খাজের বালির মেঝে দিয়ে। এখন ঘোড়াগুলোকে শুইয়ে দাও। সকল যুদ্ধের ঘোড়াগুলোকে এ কৌশল রপ্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে। তাদের চালকের উৎসাহে তারা নিজেদের হাঁটু ভেঙে বসল এবং তারপর নাক দিয়ে আওয়াজ করল ও নিশ্বাস ছাড়ল। তারা মেঝেতে এক পাশে হয়ে শুয়ে রইল।
এই ভাবে! টাইটা তাদের বলল। সে রথ থেকে একটা বিছানার রোল এনেছে। ওটা থেকে কাপড় টুকরো করে সে ঘোড়াগুলোর চোখ বেঁধে দিল তাদের শান্ত ও চুপ রাখার জন্য। তারপর নরম মাটিতে সে একটা বলুম গেঁথে ওটাকে খুঁটি রূপে ব্যবহার করল। পোতা খুঁটিটা ঘোড়াগুলোকে আবার উঠা থেকে রোধ করবে। সবাই তার উদাহরণ অনুসরণ করল।
এখন পানির যতোটুকু বাকি আছে তা নিয়ে এসো। এটা করুণ সে ঘোড়াগুলোকে শেষ বিন্দু পান করানোর মত যথেষ্ট নেই কিন্তু আমাদের নিজের প্রতিটি ফোঁটা দরকার হবে।
যেন সে ওটার অস্তিত্বের কথা জানত, কেননা টাইটা তাদের পবর্তের একটি অগভীর তাকের কাছে নিয়ে গেল। তাকের নিচে প্রধান কক্ষটি এতো নিচু যে কেউ প্রবেশ করার চেষ্টা করলে হাত ও হাঁটুতে ভর দিয়ে বসতে হবে।
পর্বতের খোলা পাথর ব্যবহার করে এটাকে ভিতর থেকে বন্ধ করে দাও।
একটা জেবরা দেয়াল? নেফারকে হতাশ দেখাল। আমরা এই স্থানটাকে রক্ষা করতে পারব না। একবার আমরা গুহায় ঢুকে গেলে আর দাঁড়াতে পারব না। অস্ত্র চালানোর কথা তো বাদই দিলাম।
তর্ক করার কোন সময় নেই। টাইটা তার দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকাল। যেমন বলছি কর।
মিনটাকার জন্যে নেফারের ভয় হল এবং গত কয়েক দিন যেভাবে তারা কষ্ট করে বাস করেছে তাতে সে ক্লান্ত। সে টাইটার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টি নিয়ে তাকাল। অন্যেরা কৌতূহল নিয়ে দেখল তা। তরুণ ষড় একটি বৃদ্ধ ষাঁড়কে চ্যালেঞ্জ করছে। কয়েক সেকেন্ড চলে গেলে হঠাৎ নেফার তার বোকামিটা বুঝল। একমাত্র এই একজন ব্যক্তিই তাদের রক্ষা করতে পারে এবং সে আত্মসমর্পণ করল। নিচু হয়ে খোলা পাথরের স্তূপ থেকে একটি বড় পাথর তুলে নিয়ে টলমল পায়ে অগভীর গুহার দিকে চলল সে। জায়গামতো ওটা রেখে সে আরেকটার জন্যে দৌড়ে এল। অন্যরাও কাজে যোগ দিল, এমন কি কাজে ভাগ বসাতে শিলার এক টুকরা বহন করল মিনটাকাও। দেয়ালের পিছনের সংকীর্ণ জায়গাটা বন্ধ করে দেয়ার পূর্বে দেখা গেল তার হাতের চামড়াটা ছিঁড়ে গেছে।
আমরা এখন কি করব? নেফার জোর গলায় জিজ্ঞেস করল, এখনও ম্যাগোসের সাথে তর্ক করতে তার দ্বিধা হচ্ছে।
পান কর। টাইটা জবাবে বলল।
নেফার পানির থলে থেকে একটি চামড়ার মগে পানি ঢেলে তা মিনটাকার দিকে এগিয়ে দিল। সে কয়েক চুমুক খেয়ে তা টাইটাকে সাধল।
টাইটা মাথা নেড়ে বলল, পান কর এবং গভীরভাবে।
তারা পেট ভরে পান করার পর নেফার আবার টাইটাকে জিজ্ঞেস করল, এখন কি?
এখানে অপেক্ষা করো। টাইটা আদেশ করল এবং তার লম্বা লাঠিটা তুলে নিয়ে সে পাথরের খাজ বেয়ে চড়তে শুরু করল।
