নেফার এতোটাই হতাশার মধ্যে ছিল যে সে প্রায় টাইটার রথের পিছনে ধাক্কা খাচ্ছিল যখন ওটা হঠাৎ থামল তাদের সামনের রাস্তায়। টাইটা সামনে নির্দেশ করল।
টর্ক! এমনকি দূর থেকেও তারা তার ভালুক দেহটাকে প্রথম সারির সম্মুখে চিহ্নিত করতে পারল। তাদের দিকে সে সোজা আসছে। তারা পিছনে দেখল এবং অন্য শক্রর দলটাও দ্রুত কাছাকাছি হচ্ছে।
একটা শেষ যুদ্ধ! হিল্টো খাপ থেকে তার তলোয়ারটা বের করল। প্রথমটি সবচাইতে খারাপ। দ্বিতীয়টাও একই রকম। আর শেষ খেলাটা সর্বোত্তম। এটা যুদ্ধের ময়দানে একটা প্রবোচন এবং সে প্রকৃত মনোবাসনা নিয়েই কথাটা বলল।
টাইটা পিত্ত রঙের আকাশটার দিকে তাকাল এবং বাতাসের একটা ঝটকা তার চুলের উপর বয়ে গেল, রূপালি ঘাসের মাঠের মধ্যে দিয়ে যেমন বাতাস বয়।
মিনটাকা নেফারের বাহু চেপে ধরল। আমাকে কথা দাও! সে ফিসফিস করে বলল এবং তার চোখ অশ্রুতে ভরে উঠেছে।
আমি তোমাকে ওয়াদা করছি; সে বলল এবং শব্দগুলো তার মুখ ও গলাকে দগ্ধ করল যেন, এবং তারপর আমি নিজে হাত টর্ককে খুন করবো। যখন তা শেষ করবো, আমি তোমার পিছনে খুব কাছে থেকে অন্ধকার যাত্রায় তোমাকে অনুসরণ করব।
টাইটা জোরে কথা বলল না কিন্তু তা সবার কাছে পৌঁছে গেল: এই পথে, আমার চাকার দাগ সবাই ভালোভাবে চিহ্নিত কর ও বিশ্বস্ততার সাথে অনুসরণ কর।
তাদের অবাক করে দিয়ে টাইটা রাস্তা থেকে ডান দিকে বালিয়াড়ির বরাবর রথটা ঘোরালো, নেফার ভেবেছিল সঙ্গে সঙ্গে চাকার কেন্দ্রমূল পর্যন্ত ঢেবে যাচ্ছে। কিন্তু হয়তো কোন ভাবে সে নরম উপরিভাগের নিচে শক্ত স্তরটা খুঁজে পেয়েছে। সে দৃঢ় ভাবে দুলকি চালে এগুলো এবং তারা তাকে খুব কাছে থেকে অনুসরণ করল, যদিও তারা জানে এটাই শেষ, ভাগ্য পরীক্ষা। পিছনে তাকিয়ে নেফার তখনো পূর্ব ও পশ্চিম থেকে তাদের অভিমুখে আগত দুই শত্রু বাহিনীর ধুলোর মেঘ দেখতে পারল। একটুও সুযোগ নেই, তারা তাদের নাগাল পাবেই; যদি না টাইটা লুকিয়ে থাকার একটা যাদু ব্যবহার করে ইশতারকে বোকা বানায়। কিন্তু ওটা এক হতাশ জনক সুযোগ। ইশতার প্রমাণ করেছে যে সে এই রকম ডাইনী বিদ্যা দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয় না এবং টর্ক তার নিজের চোখ দিয়ে অবশ্যই দেখতে থাকবে যে তারা রাস্তা থেকে একপাশে ঝাঁপ দিয়েছে।
তারপর সে সামনে তাকাতেই দেখল টাইটা লসট্রিসের স্বর্ণের কবজ ডান হাতে ধরে রেখেছে এবং কোমরে ঝুলিয়ে রেখেছে নেকলেসটা যা বে-এর উপহার। সে তার অনুসারীদের দিকে ফিরে দেখল না, কিন্তু তার চেহারা ভীতিকর, আকাশের দিকে তোলা এবং অভিব্যক্তি বিমোহিত। তাদের মনে হল আশাহীন কিন্তু নেফার একটা অযৌক্তিক ও উল্টো আশার আলো অনুভব করল। সে বুঝল কোন রহস্যজনক ভাবে, বে-এর উপহার বিজ্ঞ বৃদ্ধ লোকটির দুর্জেয় শক্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। টাইটার দিকে তাকাও, সে ফিসফিসিয়ে মিনটাকাকে বলল। সম্ভবত এখনই এটা শেষ নয়। সম্ভবত আমাদের জন্য বাও এর গুটির আরেক চাল বাকি আছে, খেলার ফলাফল এখনও বাকি।
*
টর্ক দ্রুত গতি তুলে সেই স্থানে এল যেখানে সে শত্রুর রথ তিনটিকে এদিকে ঘুরে বালিয়াড়িতে চলে যেতে দেখেছে। তাদের চাকার দাগ বালিতে গভীর ভাবে বসেছিল। আর ঠিক তখন যানদার বিপরীত দিক থেকে কলামের সম্মুখে এসে উপস্থিত হল।
ভালো করেছ! তুমি শিকারকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমরা, তাদের এখন পেয়েছি, টর্ক তার উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল।
এটা একটা ভালো তাড়ানো হয়েছে, কর্নেল যানদার গর্জন করল। আপনি এখন আমার কাছ থেকে কি রকম বিন্যাস চান?
আবারও পেছনের রক্ষী হও। চার সারিতে। আমাকে অনুসরণ করো। সে আসামীদের অনুসরণ করতে ঘুরল, তার দুটি রথের ডিভিশন পিছনে পড়ে গেল। সে সম্মুখে তাকাল। টাইটা তার ক্ষুদ্র দলসহ এরই মাঝে উঁচু বালির পাহাড়ের চুঙ্গির আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেছে। তাদের মধ্যকার গভীরতা অন্ধকার ও ছায়াময় নিচু হওয়া আকাশ ঢেকে রেখেছে। সে ২০০ কিউবিটও যায়নি তার সারির বাইরের রথগুলো নরম বালিতে আটকে গেল। তখন সে বুঝল কেন টাইটা এরকম দৃঢ় বিন্যাস বজায় রেখে এগিয়েছে। একমাত্র মাঝের লাইনটা একটি রথের ভার বহনের জন্য যথেষ্ট শক্ত।
এক লাইন করে আগে বাড়ো! সে তার বিন্যাস পাল্টাল। আমার পথে থাকো। দুটি যৌথ বাহিনী অর্ধ ক্রোশের চেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে প্রসারিত হয়ে অচেনা পথে টর্ককে অনুসরণ করল। সৈন্যরা সচকিত ভাব নিয়ে উঁচু বালির দেয়াল ও কদাকার আকাশের দিকে তাকাল। টর্ক তার ঘোড়াগুলোকে মরণাপন্ন গতির জন্যে জোর করল না এবং তারা হাঁটার গতিতে নেমে এল। কিন্তু সে চাকার দাগ ট্রাক করতে পারল যা টাইটা তাদের জন্য ফেলে গেছে, তাই সে আরো ধীরে চলছে।
তারা আরো এক ক্রোশ পথ চলল তারপর আকস্মিক ভাবে আগের ভূমিটা বদলে গেল। নরম বালির ঢেউ থেকে তারা একটি কালো পাথরের দ্বীপ উঠে এল। এটা ছিল ছোট শিল্প-কর্মের ন্যায় বালিয়াড়ি যা সমুদ্রে হারিয়ে গেছে। এটার পাশগুলো গুহায় পূর্ণ এবং সহস্র বছরের বালি ঝড়ে ও ভারি বাতাসের ঘর্ষণে ক্ষয়ে গেছে। কিন্তু চূড়াটা কোন পৌরণিক দৈত্যের দাঁতের ন্যায় তীক্ষ্ম।
চূড়ার উপর, দূরত্বের কারণের ক্ষুদ্র, পাতলা ও লম্বা রূপালি চুলের বন্য ঝোঁপ নিয়ে একটা নির্ভুল অবয়ব এগিয়ে চলছে যা অদ্ভুত ও ভয়ার্ত আলোতে রহস্যময় দেখাচ্ছে।
