ইশতার আমাদের অন্ধ করে দিয়েছিল; রাস্তার সংযোগ স্থলের দিকে এগুতে এগুতে নেফার বিড়বিড় করে বলল। কিন্তু এবার অন্তত অতো সহজে বোকা হচ্ছি না। তার পর সে অস্বস্তিতে আকাশের দিকে তাকাল এবং শয়তানের বিরুদ্ধে চিহ্ন আঁকল। যদি প্রভুরা দয়ালু হন।
শুধু মাত্র হিল্টো তার যুদ্ধের চোখ দিয়ে তাদের সামনের ধুলার মেঘটা দেখতে পেল। নিচু, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ওটাকে অস্পষ্ট করে রেখেছিল। হিল্টো গতি তুলে টাইটার রথের পাশে এসে চিৎকার করে তাকে বলল, ম্যাগোস! আমাদের সামনে ওগুলো রথ এবং সংখ্যায় অনেক।
তারা লাগাম টানল এবং সামনে তাকিয়ে রইল। তারা যখন তা পর্যবেক্ষণ করছিল ধুলোর মেঘ তখন নড়ছিল।
কতটা সামনে? টাইটা জিজ্ঞেস করল।
অর্ধ ক্রোশ কিংবা তারও কম।
তোমার কি মনে হয় টর্কের পিছনে তার দ্বিতীয় সেনাদল আসছে?
আমার চেয়ে আপনি ভালো জানেন, ম্যাগোস, যে এটা হিকস্দের একটা সাধারণ কৌশল। আপনার কি ডামেন এর যুদ্ধে কথা মনে নইে? কিভাবে অ্যাপেপি আমাদেরকে তাদের দুই বাহিনীর মাঝে চেপে ধরেছিল?
তারা আমাদের ধরার পূর্বেই কি আমরা রাস্তার সংযোগ স্থলে যেতে পারবো? টাইটা জিজ্ঞেস করল এবং হিল্টো তার চোখ সরু করল।
হয়তো পারব। কিন্তু এটা হবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ।
টাইটা ঘুরে পিছন দেখল। টর্ক ইতোমধ্যে আমাদের পিছনের রাস্তায় ধেয়ে আসছে। আমরা তার কজায় ফিরে যাবার সাহস করি না।
রাস্তা ত্যাগ করে বালিতে প্রবেশ করাটাও হবে নিশ্চিত বিপর্যয়। আমরা তাদের জন্য আমাদের অনুসরণ করার একটি পরিষ্কার চিহ্ন ছেড়ে এসেছি। ঘোড়াগুলোও দিনের শেষে ব্যর্থ হবে।
কোন ভুল নেই টর্ক আমাদের উপহাস করবে। মিনটাকা তিক্ত ভাবে বলল।
আমরা আরেক বার মাইনকা চিপায় পড়তে যাচ্ছি। ম্যারন সম্মত হল।
আমাদের অবশ্যই এ থেকে বাঁচতে হবে। নেফার সিদ্ধান্ত নিল।
আমাদেরকে অবশ্যই রাস্তার সংযোগ স্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে এবং তাদের আগে মূল রাস্তায় যেতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র পালানোর পথ।
আমাদের সর্বোচ্চ গতিতে, এমনকি যদি ঘোড়াগুলোকে এই কাজে নিঃশেষিত করতে হয় তবুও, হিল্টো সম্মতি জানাল।
তারা তিনজন একসাথে সামনে গতি তুলল। রথগুলো প্রতিবাদ করে উঠল কিন্তু ঘোড়াগুলো ভালোই যাচ্ছে। সামনের ধূলোর মেঘ তারো ভয়ংকর হয়ে গেল যখন তারা ওটার দিকে ধেয়ে গেল। মনে হল পাথরের স্তূপটা কখনোই আর কাছে আসবে না। বাঁক থেকে তখনো তারা ৫০০ কিউবিটের চেয়ে বেশি দূরে যখন কাছে আসা সেনাবাহিনীর প্রথম রথটা দৃষ্টি গোচর হল, ধুলোয় ও ভয়ানক হলুদ আলোয় অস্পষ্ট।
রথের সারি থামল, ধাবমান যানগুলোর অনিশ্চিত পরিচয় জানতে, যা তারা তাদের দিকে আসতে দেখল।
টাইটা শেষ বারের মতো ঘোড়াগুলোর গতি তোলার চেষ্টা করল কিন্তু অনুভব করল ক্লান্তি তাদের ছেয়ে ফেলছে।
তারা সম্ভাব্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখল, কিন্তু শত্রুরা তাদের মুখোমুখি আসছে এবং তারা পূর্বের রাস্তার মোড়ে পৌঁছাতে পারবে না। অবশেষে টাইটা তার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে থামার নির্দেশ দিল। যথেষ্ট! সে চিৎকার দিল, আমরা কখনোই এই দৌড়ে জিততে পারবো না।
তারা পথে উপর থেমে পড়ল, ঘোড়াগুলো ঘামে একাকার এবং ঘন নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যে ফোঁসছে। রথীরা ধুলায় বিবর্ণ হয়ে গেছে, তাদের দেহ ধূলোয় ঢেকে আছে এবং হতাশা তাদের চোখে স্পষ্টত।
কোন দিকে, ফারাও? হিল্টো চিৎকার করল। তারা ইতোমধ্যে নেতৃত্বের জন্যে নেফারের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে।
একটা মাত্র রাস্তাই খোলা। যে পথে এসেছি সে পথে ফেরা। এবং তারপর এতো আস্তে পরের কথাটা বলল যে শুধু মিনটাকা তা শুনতে পেল।
টার্কের নাগালে। এটা কমপক্ষে আমাকে তার সাথে মোকাবেলার একটা শেষ সুযোগ দিবে। টাইটা সম্মতিতে মাথা ঝাঁকালো এবং সে-ই প্রথম তার রথ পুরো গতিতে ঘুরালো। সে তাদের চোরাবালি বরাবর রাস্তার দিকে নিয়ে চলল। অন্যরা তার পাশে চলল ধুলো অনুসরণ করে। প্রথম দিকে ধুলা তাদের দৃষ্টি অনুসরণে বাধা দিচ্ছিল কিন্তু তারপর গরম বাতাসের এক ঝাঁপটা যখন দক্ষিণ দিকে তা সরিয়ে দিল তখন তারা দেখল ইতোমধ্যে সবাই রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে।
তারা সামনে এগোল কিন্তু নেফার বুঝল তার ঘোড়াগুলো প্রায় নিঃশেষ হতে চলেছে। তাদের চলন ভারি হয়ে আসছে, পাগুলো এলোপাথারি ভাবে পড়ছে এবং তাদের খুর কাত হয়ে পড়তে শুরু করেছে। নেফার জানত এটা প্রায় শেষ। সে একহাতে মিনটাকার কোমর জড়িয়ে ধরল। আমি তোমায় প্রথম যখন দেখেছি তখন থেকেই নিচু। আমি তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসবো।
যদি তুমি আমায় সত্যিই ভালোবাসো তবে তুমি আমাকে আবার টর্কের হাতে পড়তে দেবে না। সর্ব শেষে এটাই হবে আমার জন্য তোমার ভালোবাসা প্রমাণের পথ।
নেফার তাকে দেখার জন্য ঘুরল, হতভম্ব। আমি বুঝলাম না। সে বলল এবং পাশে রাখা তলোয়ারটা স্পর্শ করল।
না! সে প্রায় চিৎকার করে উঠল এবং তার সব শক্তি দিয়ে তাকে সে তার দিকে জড়িয়ে ধরল।
তোমাকে এটা আমার জন্য অবশ্যই করতে হবে, আমার হৃদয়! তুমি আমাকে টর্কের কাছে ফিরিয়ে দিতে পার না। আমার নিজের এটা করার সাহস নেই, তাই তোমাকে আমার জন্য শক্ত হতে হবে।
আমি পারব না; সে আর্তনাদ করে উঠল। এটা হবে দ্রুত ও ব্যথাহীন। অন্যপথ…
