অধিকারের কারণে আমি এটা বহন করি। নেফার বলল। আমি ফারাও নেফার সেটি।
না! না! বন্দীটি উত্তেজনা ও ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। মিনটাকা লাফ দিয়ে রথ থেকে নেমে তাদের নিকট এল। সে লোকটির সাথে বন্ধুত্ব পূর্ণ কণ্ঠে কথা বলল। তুমি জান আমি কে?
আপনি মহামান্য রাণী মিনটাকা। আপনার পিতা ছিল আমার প্রভু ও কমান্ডার। তাকে আমরা খুব ভালোবাসতাম। তাই আমি আপনাকে নিচু ও সম্মান করি।
মিনটাকা খাপ থেকে ছুরি বের করে তার বাধন কেটে দিল, হ্যা; সে বলল, আমি মিনটাকা এবং এ হচ্ছেন ফারাও নেফার সেটি যে আমার বাগদত্ত। একদিন আমরা মিশরে ফিরবো আমাদের জন্মধিকার দাবি করতে এবং ন্যায় ও শান্তিতে শাসন করতে।
নেফার ও মিনটাকা উঠে দাঁড়াল এবং সে বলে চলল, এই বার্তা তোমার সহ যোদ্ধাদেরকেও দিও। লোকদের বলল যে আমরা জীবিত এবং আমরা এই মিশরে ফিরে আসছি।
লোকটি হাঁটু দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সামনে এগিয়ে তার পায়ে চুমু খেল এবং তারপর সে নেফারের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে গেল এবং তার একটি পা নিয়ে সে ওটা তার মাথার উপর রাখল।
আমি আপনার প্রজা। সে বলল, আমাদের কাছে শীঘ্রই ফিরে আসুন, মহান ফারাও।
অন্য বন্দীরা আনুগত্যের ভালোবাসায় দৃঢ়ভাবে তার সাথে যোগ দিল। জয়, ফারাও, আপনি হাজার বছর বাঁচুন ও শাসন করুন।
নেফার ও মিনটাকা তাদের দখল করা রথে উঠল এবং মুক্ত হওয়া বন্দীরা তখন চিৎকার করে উঠল, বাক-হারা! বাক-হারা!
ধ্বংস প্রাপ্ত ক্যাম্প থেকে তিনটা যান বেরিয়ে গেল। টাইটা যানে একা, কারণ সে ইশতারের কুমন্ত্রণা প্রতিহত করতে সবচেয়ে সামর্থ পূর্ণ এবং সেই সাথে সঠিক রাস্তা আবিষ্কার করতে যা তাদের কাছে লুকায়িত। নেফার ও মিনটাকা কাছাকাছি থেকে তাকে অনুসরণ করল এবং হিল্টো ও ম্যারন পিছনে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত। যে পথে এসেছে সে পথ অভিমুখেই তারা চলল।
তারা চোরা বালির উপত্যকার একটু পথ গিয়েছে মাত্র এবং ক্যাম্পটা এখনো দৃষ্টি গোচর তখন টাইটা থামল ও পিছনে তাকাল। অন্য দুটো যানও তার পিছনে থামল। কি হয়েছে? নেফার জিজ্ঞেস করল এবং টাইটা তার হাত উঠাল। স্তব্ধতায় তারা দূরে অন্য তীর বরাবর টর্ক বাহিনীর আগমন শুনল। তারপর হঠাৎ ভোরের শেষ হতে যাওয়া লাল আভায় তারা দূরবর্তী বালিয়াড়িতে তার বাহিনীকে উদয় হতে দেখল।
অগ্রবর্তী যানে টর্ক তীব্রভাবে লাগাম টেনে ইশতারের উদ্দেশ্যে চেঁচালো, সেথের রক্ত ও বীজের নামে, ওয়ারলক তোমাকে আবার বোকা বানিয়েছে। তুমি কি আগেই দেখনি যে তারা ফিরে আসতে পারে ও আমাদের প্রহরী দল থেকে রথ কজা করবে?
আপনি কি এটা আগে দেখে ছিলেন? ইশতার তার উদ্দেশ্যে ঘোঁত ঘোত করল, আপনি মহান সেনাপতি।
টর্ক তার এই ধৃষ্টতায় তার উল্কি আঁকা মুখের চাবুক মারার জন্যে চাবুক ধরা হাতটা তুলল, কিন্তু যখন মেডির কালো চোখে চোখ পড়ল তখন সে আবো ভালো কিছু চিন্তা করল এবং চাবুক নামাল। এখন কি, ইশতার? তুমি কি তাদের বাধা বিহীন ভাবে পালিয়ে যেতে দিবে?
তাদের ফিরে যাওয়ার একটাই রাস্তা আছে এবং যানদার দুই শত রথ নিয়ে সে পথে আসছে। তাদের এখনও আপনি শান পাথরের মাঝে পাবেন। ইশতার গম্ভীর কণ্ঠে বলল। টর্কের মুখ একটা বন্য হাসিতে উজ্জ্বল হল। রাগে সে প্রায় যানদারকে ভুলে গিয়েছিল।
সূর্য মাত্র উদিত হয়েছে। এখনও আপনার হাতে নরম শিলার সেতুটা পার হওয়ার জন্য সারা দিন রয়েছে এবং তাদের অনুসরণ করার, ইশতার বলে চলল। আমার নাসিকায় তাদের গন্ধ পাচ্ছি। আমি আমার যাদুর জাল বিছাবো তাদের ফাঁদে ফেলতে এবং একটি বিশ্বস্ত কুকুরের ন্যায় আমি আপনাকে শিকারের কাছে নিয়ে যাবো।
টর্ক তার ঘোড়া বাড়িয়ে জলার কিনারের শক্ত ভূমি দিয়ে এগিয়ে অন্য তীরের তিনটি রথের বিপরীত দিক দিয়ে দাঁড়ালো। সে কোন রকমে একটু হাসি, যাকে বন্য হাসি বললে ভুল হবে না তা দিয়ে বলল,
আমি তোমাদের চেয়ে এটা বেশিই অনুভব করছি, আমার বন্ধুরা। প্রতিশোধ হল এমন খাবার যা ঠান্ডা খেতেই সর্বাধিক মজা! সেথের কসম, আমি এর স্বাদ নেবো।
তোমাকে অবশ্যই রান্না করার পূর্বে তোমার খরগোশ ধরতে হবে। মিনটাকা প্রতিত্তর করল।
আমি তা-ই করবো। নিশ্চিত থাকো। এখানে কিছু বিস্ময় রয়ে গেছে তোমাদের আনন্দ দিতে। তার হাসি মলিন হল যখন তিনটা রথ বালিয়াড়ির মধ্যে দিয়ে সামনে চলতে শুরু করল। মিনটাকা উচ্ছ্বাসে তার দিকে হাত নাড়ল। যদিও টর্ক জানে এটা সে করেছে তাকে রাগাতে, তবুও এটা তার নিকট এতো বেশি আবমাননাকর মনে হল যে রাগে তার নাড়িভূড়ি পর্যন্ত গরম ও তিতা হয়ে গেল।
ফিরে চল; সে তার লোকদের উদ্দেশ্যে চেঁচালো। সেতুটা পার হয়ে ফিরে চল।
*
যখন তারা চলছিল তখন টাইটা বার বার আকাশের দিকে তাকাচ্ছিল। তার অভিব্যক্তি গম্ভীর ও চিন্তিত। সে সালফারের মেঘটি মাটির কাছাকাছি নেমে আসতে দেখল।
আমি কখনো এমন আকাশ দেখি নি; হিল্টো বলল, যখন পূর্বাহের মাঝামাঝি সময়ে তারা ঘোড়াগুলোকে পানি খাওয়াতে থামল। প্রভুরা নারাজ।
তাদের কাছে এটা অদ্ভুত লাগল যখন নির্দ্বিধায় তারা সঠিক রাস্তাটা খুঁজে পেল। বিভক্তিটা যেখানে তাদের দ্বিধায় ফেলেছিল এখন তা দূর থেকে দেখতে সমতল দেখাচ্ছে। মনে হল তারা সম্ভবত লম্বা পাথরটা এবং লোহিত সাগরের প্রধান রাস্তা, যেখান দিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করে, আরো গভীরভাবে তা মাড়ানো; দৃশ্যত হালকা দাগের রাস্তা দিয়ে তারা চোরাবালির উপত্যকায় অনুসরণ করেছে।
