*
যখন ইশতার সামনে নির্দেশ করল তখনও তারা কয়েক ক্রোশের বেশি অতিক্রম করেনি। টর্ক তার বাহিনীকে থামাল এবং অদ্ভুত হলুদ আলো ও ঝিক ঝিক করা তাপের পাতলা কুয়াশায় তার চোখ টন টন করে উঠল। চোরা বালির সামনের উপত্যকা সঁচালোভাবে সরু।
ওটা কি? টর্ক জানতে চাইল। মনে হচ্ছিল যেন কোন সামুদ্রিক দৈত্য ওটার ফাঁকা দিয়ে সাঁতার কাটছে। এটার পৃষ্ঠ চূড়া হয়ে হলুদ কাদা থেকে দাম্ভিক ভাবে উঠে এসেছে, কালো ও তীক্ষ্ণ প্রান্ত ওয়ালা।
এটা আমাদের সেতু। ইশতার তাকে বলল। ভাসমান একটা শিলা সুউচ্চ ভূমির এক তীর থেকে অন্য তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের এটা পাড়ি দিতে হবে।
টর্ক তার দুজন বিশ্বস্ত লোককে পায়ে হেঁটে শিলার সেতু পরীক্ষা করতে পাঠাল। তারা হালকাভাবে দৌড়ে পার হল এবং শুকনো স্যন্ডেল নিয়ে অন্য প্রান্তে পৌঁছল। জোরে চেঁচিয়ে টর্কের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ল। ইঙ্গিত পেয়ে টর্ক তার ঘোড়াগুলোর পিঠে চাবুক মারল এবং তাদের অনুসরণ করল। এক সারিতে দলের বাকিরা তার পিছু পিছু পার হল একে একে।
সবাই নিরাপদে অন্য প্রান্তে গেলে টর্ক উত্তর দিকে ঘুরে উপত্যকাটা দেখল যেখানে তারা শেষবার টাইটার ফেরারী দলকে দেখেছিল।
মলিন মেঘের হলদে কুয়াশা বদলে যাবার পূর্ব পর্যন্ত তারা নির্দিষ্ট দূরত্বের অর্ধেকের কম অতিক্রম করতে পারল। একটু আগে ভাগেই রাত নামল। উপত্যকায়। মিনিটের মধ্যেই শেষ আলোটুকুও নিভে গেল এবং গভীর অন্ধকার বাহিনীটাকে থামাতে বাধ্য করল।
ঘোড়াগুলো ক্লান্ত। রাতে থামার সিদ্ধান্তে একটা বীরত্বপূর্ণ চেহারা রাখার চেষ্টা করল টর্ক, যখন তার সঙ্গীরা তার আদেশের জন্য তার চারপাশে জমা হল।
ওগুলোকে পানি দাও এবং লোকদের বিশ্রাম নিতে দাও। আমরা প্রথম আলোয় রওনা দিব। ওয়ারলক পায়ে হেঁটে ও পানি ছাড়া বেশি দূর যেতে পারবে না। আমরা কাল দুপুরের আগেই তাদের ধরে ফেলবো।
*
মিনটাকার পা খুলে সম্ভষ্ট চিত্তে মাথা নাড়ল টাইটা। তারপর সে পা দুটোকে চোরবালির অ্যালাকইলের জলে ধুয়ে এবং পুনরায় ব্যান্ডেজ করে দিল। তার আপত্তি সত্ত্বেও নেফার তাকে তার নিজের স্যান্ডেলটা পরতে বাধ্য করল। ওগুলো তার পায়ের তুলনায় অনেক বড়, কিন্তু ব্যান্ডেজের কারণে কিছুটা খাপ খেয়ে গেল।
তাদের সাথে বহন করার মতো কিছু নেই, না পানি না খাবার, কোন হাতিয়ার অথবা মাল পত্র কিছুই না, শুধু ডুবে যাওয়া রথের তক্তাগুলো সঙ্গী তাদের। অন্য প্রান্তে কৌতূহল নিয়ে হিকস্ সৈন্যরা তখনও তাদের দিকে চেয়ে আছে। নেফার উঁচু বালিয়াড়ির দিকে পথ দেখাল, পূর্ব দিকে। হাফাতে হাফাতে তারা অবশেষে চূড়ায় পৌঁছল। ইতোমধ্যে তৃষ্ণা প্রচন্ড যন্ত্রণা দিতে লাগল সবাইকে।
নেফার শেষ বারের মতো চোরাবালির দিকে তাকাল। টর্কের সৈন্যরা অন্য তীরে তাদের ঘোড়াগুলোর হার্নেস খুলে ফেলেছে, শিবির করছে এবং তাদের মশাল জ্বালাচ্ছে। নেফার তাদের উদ্দেশ্যে একটু নিষ্ঠুর স্যালুট দিয়ে দলের অন্যদের প্রস্তুত হতে বলল। পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টির আড়ালে গেলে তারা একটু জিরিয়ে নিল। প্রতিটি প্রয়াস আমাদের প্রিয় কিছুর হারাতে বাধ্য করবে। আমরা আরো অনেক ঘণ্টা পানি পাবো না।
যখন তাপ দাহে বসে তারা হাপাচ্ছিল তখন উদগ্রীব ভাবে লোকজন ও রথের আওয়াজ শুনল। মনোযোগ দিল। মিনটাকা তাদের ভয়ে আশা দিল, সকলে প্রভুদের কাছে প্রার্থনা করুন যেন টর্ক সেতুটা খুঁজে না পায় এবং রাতের আগে আমাদের খুঁজে না পায়।
পুনরায় শক্তি সঞ্চয় হতেই নেফার সবাইকে মধ্যবর্তী বালিয়াড়ি এবং চোরাবালির উপত্যকার সমান্তরাল ধরে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। কিন্তু তাপদাহের কারণে তারা অল্প দূর যেতে পারল। আবার বিশ্রাম নিতে বসে পড়ল সবাই। তবে সন্ধ্যা নামার পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করার মতো তাদের বেশি সময় ছিল না।
রাত নামলে তাপ থেকে তারা নিস্তার পেল। তারা বালিয়াড়ির চূড়ায় উঠতেই দেখতে পেল নিচে উপত্যকার অন্য পাড়ে অনেকগুলো মশাল জ্বলছে। ঐ শিখাগুলো হিকস্ ক্যাম্প নির্দিষ্ট করার জন্যে যথেষ্ট।
শক্রর রথগুলো শূন্য, চতুর্কোণে থামানো ও ঘোড়াগুলো চাকার সাথে বাঁধা। দুজন সৈন্য আগুনের ছায়ায় তাদের শোবার মাদুরে শুয়ে আছে। তারা আমাদের পূর্বে দিকে যেতে দেখেছে। আমরা অবশ্যই আশা করি তারা বিশ্বাস করে যে আমরা এখানে পূর্ব দিকেই যাচ্ছি এবং আমরা তাদের পিছু তাড়া থেকে মুক্ত। নেফার তাদেরকে বালির নিচে পিছলে নামতে ইশারা করে বলল। তারা ক্যাম্প থেকে কয়েকশ কিউবিট নিচের উপত্যকায় এসে পৌঁছেছে।
তাদের নড়াচড়া ও তাদের যে কোন শব্দ ঢাকার পক্ষে যথেষ্ট দূর তা।
রাস্তা দেখার জন্যে তারা ক্যাম্পের আগুনের হালকা আলো ব্যবহার করে চলল, হাতে হাত ধরল যাতে কেউ অন্ধকারে রাস্তা না হারায় এবং তারা চোরাবালির কিনারে যাওয়ার রাস্তাটা হাতড়ে ফিরল। একত্রে কাছাকাছি থেকে তারা ক্যাম্পের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগোলো এবং ঠিক আগুনের আলোর বৃত্তের বাইরে গুটিসুটি মেরে বসে রইল। দুজন প্রহরী ছাড়া মনে হল পুরো শত্রু শিবির ঘুমাচ্ছে। ঘোড়াগুলো শান্ত ছিল এবং একমাত্র শব্দ ছিল আগুনের শিখার ক্রমাগত পটপট আওয়াজ। হঠাৎ একজন প্রহরী উঠে দাঁড়াল এবং যেখানে তার সঙ্গী বসে আছে। ওখানে হেঁটে গেল। দুজন নিচু গলায় কিছু কথা বলল। এই দেরিতে নেফার অস্থির হয়ে পড়ল এবং প্রায় টাইটার সাহায্যের জন্য বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি তার অজান্তেই তাকে সাহায্য করল। সে তার লাঠিটা ঐ দুটি কালো অবয়বের দিকে নির্দেশ করল। কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের কণ্ঠ নেশাগ্রস্তের মতো শোনাল এবং অবশেষে একজন প্রহরী উঠে দাঁড়াল, প্রসারিত হল এবং হাই তুলে মন্থর গতিতে নিজের আগুনের কাছে ফিরে গেল। নিজের কোলে সে তার তলোয়ার নিয়ে বসল আরাম করে।
