এ নিরবতার মাঝেই টর্ক চিৎকার করে ডাক দিল, ইশতার! ইশতার দি মেডি, সামনে এসো!
*
চোরা বালির কিনারে অন্য প্রান্তের ক্ষুদ্র দলটার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইশতার। তার চেহারা বিভিন্ন ট্যাটুতে ঢাকা। চোখের চারপাশে লাল গোলাপি চিত্র অংকন করা; টেরা চোখ রূপালি থালার ন্যায় জ্বল জ্বল করছে। বিন্দু বিন্দু লাল দাগের দুই সারি তার নাকের নিচ পর্যন্ত নেমে এসেছে।
তার চিবুক ও গালে ফার্ণের মতো রূপরেখা অংকিত। তার চুল লাল গালা পাতা যুক্ত লম্বা শক্ত কীলক দিয়ে আটকনো। ইচ্ছাকৃত ভাবে সে তার শরীরের কাপড় খুলে ফেলল এবং তা বালিতে পড়ে যেতে দিল।
সে সম্পূর্ণ নগ্ন দাঁড়িয়ে রইল এবং তার পিঠ ও কাঁধ সিংহের ব্যাজ দিয়ে ঢাকা। তার পেটে বিশাল একটি লাল তারা অংকিত এবং স্বর্ণ ও রূপোর ক্ষুদ্র ঘণ্টা ঝুলছে তার শূন্যে। সে টাইটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। ম্যাগোসও তাকে মোকাবেলা করতে সামনে অগ্রসর হল। তাদের মধ্যকার দূরত্ব মনে হল কমে গেল যখন তারা একজন অন্যজনের দিকে চেয়ে রইল এক দৃষ্টে।
ধীরে ধীরে ইশতারের বিশেষ অঙ্গটা স্কীত হল। ঘণ্টাগুলো টুংটাং শব্দে বাজল যখন ওটা শক্ত হয়ে ভারি খাড়া দন্ডে পরিণত হল। সে তার নিতম্ব সামনে বাড়িয়ে দিল, রাগান্বিত লাল মাথাটা টাইটার দিকে নির্দেশ করে। এটা একটা সরাসরি চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে–যা দিয়ে টাইটার খোঁজা অবস্থা এবং ইশতারের পুরুষত্ব তার উপর প্রয়োগ করে।
টাইটা তার লাঠিটা উঠিয়ে মেডির লিঙ্গ বরাবর তাক করল। অনেকক্ষণ ধরে কেউ নড়ল না, নিক্ষিপ্ত বর্শার মতো তাদের শক্তি একে অপরের উদ্দেশ্য তারা প্রয়োগ করে চলল।
হঠাৎ ইশতার ঝাঁকিয়ে উঠে বীর্যপাত করে বসল, সব বীজ বালিতে ছড়িয়ে পড়ল তার। বিশেষ অঙ্গটি সাথে সাথে কুচকে ছোট হয়ে গেল। ভাজ পড়ল ও আর্যকর হয়ে গেল। ইশতার হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে দ্রুত তার কাপড় তুলে নিল নিজের অপমান ঢাকতে। ওয়ারলকের সাথে তার প্রথম মোকাবেলায় সে হেরে গেছে। সে টাইটার দিকে তার পিঠ ঘুরিয়ে পা টেনে টেনে যেখানে সেথের যাজক ও নুবিয়ান ছলকারীরা আসন করে বসে আছে সেখানে ফিরে গেল। তাদের দলে যোগ দিয়ে হাতে হাত ধরে মন্ত্র পড়তে লাগল।
তারা কি করছে? নেফার বিচলিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
আমার মনে হয় তারা বালিয়াড়ির চারপাশের রাস্তা জানার চেষ্টা করছে। মিনটাকা ফিসফিসিয়ে বলল।
টাইটা তাদের থামাবে; নেফার বলল, তবে ততোটা আত্মবিশ্বাস সে অনুভব করল না। ইশতার লাফ দিয়ে তখন উঠে দাঁড়াল নতুন শক্তি নিয়ে। সে দাঁড় কাকের মতো কর্কশ ভাবে একটা চিৎকার দিল এবং দক্ষিণের বালির উপত্যকা দিকে নিদের্শ করল।
সে ঐ রাস্তাটা খুঁজে নিয়েছে যা বাজ পাখিটা আমাদের কাছে প্রকাশ করেছিল। শান্ত কণ্ঠে বলল টাইটা। আমরা এখানে নিরাপদ নই।
টার্কের সৈন্যরা ঘোড়ায় চড়ে বসল। ইশতার টর্কের পাশে প্রধান রথে চড়ে দক্ষিণ দিকে ভয়ানক কাদার নদী অনুসরণ করে চলল। তারা যখন অতিক্রম করছিল তখন সৈন্যরা চিৎকার করে হুমকি ও অবজ্ঞা প্রকাশ করল বিপরীত তীরে দাঁড়ানো নিঃসঙ্গ দলটিকে উদ্দেশ্য করে।
ধুলোর ঝড় শান্ত হওয়ার পর তারা দেখল পাঁচটি রথ ও দশ জন মানুষের একটা ছোট দলকে টর্ক অন্য পাড়ের বালিয়াড়ির ক্যাম্পে রেখে গেছে, যারা তাদের পর্যবেক্ষণে রাখবে। শীঘ্রই বাকি অনুসারী দলের শেষ রথটা হলুদ তাপের পর্দার মধ্য দিয়ে হারিয়ে গেল এবং উপত্যকার ফাঁকে দেয়ালের ভেতর লুকিয়ে গেল যেন।
রাতের আগেই টর্ক আমাদের পাশে আসার রাস্তাটা পেয়ে যাবে; টাইটা ভবিষ্যৎ বাণী করল।
আমাদের এখন কি করা। নেফার জিজ্ঞেস করল।
টাইটা তার দিকে ঘুরল তখন। তুমি ফারাও। তুমি দশ হাজার রথের অধিকারী। আমাদের তোমার আদেশ দাও, মহামান্য।
নেফার তার দিকে এক দৃষ্টে চেয়ে রইল, এই বিদ্রুপে সে একেবারে ভাষা হীন। নিশ্চিত টাইটা তাকে বিদ্রূপ করছে। তারপর সে তার ঐ প্রাচীন বহু চেনা চোখের ভেতরে গভীর ভাবে তাকাল এবং দেখল ওখানে কোন উপহাস নেই। রাগে তার কণ্ঠ নালী পর্যন্ত উঠে এল তিক্ত স্বাদের একটা সেঁকুর।
সে প্রায় প্রতিবাদ করে উঠল, নির্দেশ করে বলল যে সে তার সব কিছু হারিয়েছে, খাদ্য ও পানির থলে সব কিছু। তাদের সামনে একটা জ্বলন্ত মরুভূমি এবং তাদের পিছু তাড়া করছে নির্মম অনুসারী সৈন্য দল, কিন্তু মিনটাকা তার বাহু স্পর্শ করে তাকে স্থির করল। সে এক দৃষ্টিতে টাইটার চোখে চেয়ে রইল। আর ঠিক তখন তার মধ্যে একটা স্পৃহা জাগল যা এল সেখান থেকে।
সে তার পরিকল্পনা তাদের খুলে বলল, এবং শেষ করার পূর্বেই হিল্টো তা শুনে দাঁত বের করে হাসতে লাগল এবং সম্মতি সূচক মাথা দোলালো। ম্যারনও হাসল, তার হাতটা অপর হাতে এক সাথে এনে ঘষতে লাগল উত্তেজনায়। মিনটাকাও তার আরো কাছে এসে তার পাশে দাঁড়াল দাম্ভিক ভঙ্গিতে।
এরপর সে তার আদেশ যখন দিল, টাইটা সম্মতিতে মাথা নাড়ল। এটাই একজন সত্যিকার ফারাও-এর যুদ্ধের পরিকল্পনা। সে বলল। তার কণ্ঠ নিরস ও আবেগহীন কিন্তু চোখে অনুমোদের স্ফুলিঙ্গ। অবশেষে বুঝতে পারছে লসট্রিস তাকে যে দায়িত্ব অর্পন করেছে তা শীঘ্রই শেষে হবে। আর নেফারও প্রায় প্রস্তুত তার নতুন লক্ষ্যের দায়িত্ব নিতে।
