যাই হোক টর্কের অনেক শক্তি ও তার লম্বা হাতের দক্ষতা নিচু লোকদের অভিযোগের ঊর্ধ্বে। সে অধিকাংশ পরিস্থিতিতে খাটো বাঁকানো তীর ব্যবহার করে। তথাপি সে তার রথে তার পাশে একটি বিশেষ তাক বানিয়েছে যেখানে অধিক শক্তিশালী ও অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যের অস্ত্র রাখা থাকে।
তার বর্শা বাহক দৌড়ে এসে তার বিশাল ধনুকটা তার হাতে দিল। সে বিশেষ তীরে পূর্ণ খাপটাও এনেছে, সিংহের চিত্র খোদই করা যা দীর্ঘ হাতের টর্কের জন্য মানান সই।
টর্ক সামনের সারির তীরন্দাজদের কাঁধ দিয়ে ঠেলা মেরে তার রাস্তা করে নিল এবং তারাও সরে তাকে রাস্তা করে দিল। একটা লম্বা তীর ধূনে লাগিয়ে অধবোজা চোখ দিয়ে দূরত্ব পরিমাপ করল তারপর সে।
হলুদ কাদায় দুজন সাঁতারুর মাথা ক্ষুদ্র কালো ফোঁটার মতো দেখা গেল। তার আশে পাশে লোকেরা এখানে দ্রুত তার সাথে তীর নিক্ষেপ করছে কিন্তু তারা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হচ্ছিল, অযথা কাদায় সব পড়ছে। মনে মনে টর্ক হিসেব কষে পা সামনে এগিয়ে তার সঠিক অবস্থান নিল। একটা গভীর দম নিয়ে বাঁ হাত সোজা রেখে গুন টান দিল, যতোক্ষণ না গুনটা তার বাঁকানো নাক স্পর্শ করল। ধনুকটা তার শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করল যেন। তার নগ্ন বাহুর মাংসপেশীটা তখন মনে হলো দৃপ্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সে এক হৃদস্পন্দন পর্যন্ত দম ধরে রাখল। নগ্নভাবে তার লক্ষ্য স্থির করল। তারপর তা ছেড়ে সে দিল এবং বিশাল ধনুকের বেড়িটা বেঁকে গেল ও তার হাতে জীবন্ত প্রাণীর মতো মনে হল লম্বা তীরটা। লেজার মিসাইলের ন্যায় মেঘ বরাবর উপরে সব পিছনে ফেলে উঠে গেল তীরটি। তার সর্বোচ্চ সীমায় উঠে একটা অবনত বাজ পাখির ন্যায় নেমে আসতে লাগল তারপর।
কাদার মধ্যে থেকে টাইটা পতনের তীক্ষ্ণ কর্কশ আওয়াজ শুনল এবং উপরে তাকাল। দেখল একটি তীর ঠিক তার দিকে ছুটে আসছে এবং তীর এড়ানোর জন্যে আগের পদ্ধতি অবলম্বন ও মাথা নিচু করার কোন সময় তখন ছিল না তার।
সে ধ্যান মগ্নের ন্যায় তার চোখ বন্ধ করল, তীরটা তার এতো ঘেঁষে চলে গেল যে সে অনুভব করল ওটার গতির ঝাঁপটায় তার চুল নড়ল। তারপর সে একটা আঘাতের শক্ত ধপাস শব্দ শুনল।
চোখ খুলে সে শব্দের দিকে তার মাথা ঘোরালো। দীর্ঘ তীরটা বে-কে বিদ্ধ করেছে, ওটা তার নগ্ন পিঠের মধ্য দিয়ে ঢুকে দেহে ওখানেই গেঁথে রয়েছে। আর তার পাতলা মাথাটা সে তক্তায় যেখানে সে শুয়েছিল সেখানেই হেলে পড়ে আছে।
বে-র মুখটা তার নিজের দেহ থেকে মাত্র এক হাত দূরে। টাইটা তার গভীর কালো চোখের ভেতর দিয়ে তাকাল এবং দেখল মৃত্যু যন্ত্রণা তাকে গ্রাস করেছে। বে কিছু বলতে তার মুখ খুলল। কিন্তু ঠোঁটের মধ্যে দিয়ে তাজা রক্তের দ্রুতো সব শব্দ ডুবিয়ে দিল তার। অনেক কষ্টে সে তার গলার নেকলেসের দিকে হাত বাড়াল এবং তা খুলে ফেলল। তারপর সে হাত বাড়িয়ে টাইটাকে মালাটা দিল, তার শেষ উপহার, অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন যা তার নখরযুক্ত আঙ্গুলে প্যাচিয়ে আছে।
টাইটা আলতোভাবে শক্ত আঙুল থেকে ওটা খুলে নিল এবং নিজের গলার বাঁধল। সে অনুভব করল এক অদ্ভুত শক্তি তার নিজের মধ্যে প্রভাবিত হচ্ছে; তার শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বে এর মাথা সামনে ঝুলে পড়ে গেল, কিন্তু তীরটা তাকে তক্তা থেকে গড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করল। টাইটা তীরের ডগায় খোদাই করা সিংহটা চিনতে পারল এবং বুঝল কে এটা নিক্ষেপ করেছে। সে আড়াআড়ি পৌঁছে দুটি আঙ্গুল বে-এর কণ্ঠনালীতে রাখল এবং তার চলে যাওয়ার মুহূর্তটা অনুভব করল। বে চলে গেল এবং তার কোন চেষ্টা তাকে ধরে রাখতে পারল না। অগ্যতা টাইটা তাকে ছেড়ে যেখানে নেফার ও মিনটাকা দাঁড়িয়ে তাকে সাহস দিচ্ছে সে দিকে সাঁতরে এগুতে লাগল। আরো চারটা তীর তার আশপাশে কাছাকাছি এসে পড়ল। কিন্তু এদের কোনটাই তাকে স্পর্শ করতে পারল না এবং ধীরে ধীরে সে তাদের আয়ত্তের বাইরে চলে এল। নেফার এগিয়ে এসে তাকে পুরু কাদায় দাঁড়াতে সাহায্য করল। নিজেকে কাদা থেকে বের করে শক্ত ভূমিতে দাঁড়াতে লাঠিটা ব্যবহার করল টাইটা। তারপর ধপাস করে বসে সে হাঁফাস হাঁফাস করে দম নিল। এক মিনিট পরেই সে উঠে বসল এবং চোরাবালির উপর দিয়ে অন্য তীরে যেখানে টর্ক দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে চেয়ে রইল। টর্ক হাত কোমরে বাঁকিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে, চেহারায় রাগ ও হতাশা প্রকাশ পাচ্ছে তার স্পষ্টত। তারপর টর্ক তার হাত মুখে রেখে চিৎকার করল, ভেবো না তুমি আমার কাছ থেকে পালিয়ে গেলে, ওয়ারলক! আমি তোমাকে চাই, সেই সাথে আমার স্ত্রী কুকুরটাকেও। আমি তোমাদের দুজনকেই পাব। আমি তোমাকে পিছু নিয়ে ধরবোই। কখনোই আমি গন্ধটা হারাবো না।
মিনটাকা সামনে হেঁটে গেল যতোটা পারল। সে জানে ঠিক কোথায় সে সব চাইতে দুর্বল এবং কিভাবে তার লোকদের সামনে তাকে করুণ ভাবে তিরস্কার করা যায়। প্রিয় স্বামী, তোমার হুমকি তোমার দেহের মতই থলথলে ও শূন্য। তার উচ্চ মিষ্টি কণ্ঠ পরিষ্কার ভাবে বাতাস বহন করল এবং দুই শত হিকস্ যোদ্ধা এর প্রতিটি শব্দ শুনল। একটা শোকাহত নীরবতা নেমে এল চারপাশে এবং তারপর সৈন্য বাহিনী থেকে উপহাসের হাসির গর্জন ভেসে এল। এমনকি তার নিজের লোকেরাও তার তিরষ্কারে আনন্দ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। টর্ক তার ধনুক মাথার উপর তুলে আন্দোলিত করে অসহায়ভাবে পা দাপাল। তারপর ঘুরে সে তার লোকদের প্রতি ঘোঁত ঘোত করতেই সাথে সাথে তারা চুপ হয়ে গেল, নিজেদের হঠকারিতায় তারা বিব্রত।
