ঈশ্বরের দোহাই! বৃদ্ধ জারজটা কি মরবে না? আসমরের কণ্ঠ বিস্ময় ও হতাশা মিশ্রিত।
নাজা দেয়াল ধরে পানিতে কোমর সমান নামল। সে তার একটা পা ক্রাতাসের গলার উপর রেখে চাপ দিয়ে পানির নিচে তার মাথাটা চেপে ধরল। কাতাস তার পায়ের নিচে সংগ্রাম করছিল, পানি তার রক্তে লাল হয়ে গেল এবং নদীর কাদা তার সাথে মিশে গেল। নাজা তার সমস্ত ভর দিয়ে তাকে চেপে ধরে রাখল। ছোট বাচ্চার ঘোড়ায় চড়ার আনন্দের মতো মজা লাগছে! সে দম ফাটা একটা অট্ট হাসি হাসল। সাথে সাথে পাড়ে দাঁড়ানো সৈন্যরাও তাতে যোগ দিল। তারা হাসির গর্জন তুলল।
জীবনের শেষ তৃষ্ণা মিটিয়ে নে, বৃদ্ধ বোকা কাতাস।
বৃদ্ধ লোকটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ল এবং তার ফুসফুসের শেষ বাতাসটুকু কতগুলো বুদবুদ তুলে পানির উপর হারিয়ে গেল এবং অবশেষে সে স্থির হল। নাজা তখন পানি থেকে উঠে এল। ক্রাতাসের দেহটা ধীর লয়ে পানির উপরে ভেসে উঠল এবং নিচের দিকে মুখ করে তা ভেসে রইল।
একে নিয়ে যাও। নাজা আদেশ করল। একে সম্মান জনক ভাবে মমি না করে অন্যান্য দেশদ্রোহীদের সাথে ভেলি অফ দ্য জ্যাকেল এ ফেলে দাও। তার কবরের কোন চিহ্ন দেবে না। আর এভাবে ক্রাতাস স্বর্গ গমন থেকে বঞ্চিত হবে। অন্তত কাল অন্ধকারে ঘুরে বেড়াবে আর এটাই তার শাস্তি।
এরই মধ্যে অন্য সকল সভ্যগণ চলে এসেছে। তারা সবাই কাতাসের করুণ ভাগ্য নিজের চোখে দেখেছে। যখন নাজা তাদের সামনে নীল তরবারিটা খুলে দাঁড়াল তখন তারা ভীত ও সন্ত্রস্ত এবং ভয়ে কাঁপছিল। হে আমার মহান লর্ডগণ! বিদ্রোহের পরিণাম মৃত্যু। আপনাদের মধ্যে এ ব্যাপারে কারো কোন প্রশ্ন আছে? সে একে একে সবার দিকে তাকাল এবং তারা সকলে চোখ নামিয়ে নিল। ফেট গার্ডরা দেয়ালের কাছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। যেহেতু ক্ৰাতাস চলে গেছে সেহেতু তাদের নির্দেশনা দেবার কেউ রইল না।
হে লর্ড মেনসেট, নাজা কাউন্সিলের সভাপতিকে বলল। আপনার কি মনে হয় না যে ক্রাতাসের উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ মেনসেট চুপ করে রইল। মনে হল যেন সে নাজার কথার প্রতিবাদ করবে। কিন্তু অবশেষে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে ফিস্ ফিস করে বলল। সঠিক শাস্তি হয়েছে।
কাউন্সিল কি নাজার নিয়োগ ও তাকে মিশরের রাজ-প্রতিভূ হিসেবে মেনে নিয়েছে? নাজা নরম সুরে জিজ্ঞেস করল কিন্তু তার কথা কক্ষের মধ্যে ভয়ংকর এক নিরবতা এনে দিল।
মেনসেট চোখ তুলে অন্য সদস্যদের দিকে তাকাল কিন্তু কেউ তার দৃষ্টি অনুসরণ করল না। সভাপতি ও অন্য সদস্যগণ রাজ প্রতিভূকে স্বীকার করে নিল। অবশেষে মেনসেট নাজার দৃষ্টি বরাবর সরাসরি তাকাল কিন্তু সেখানে সে একটা ভয়ংকর তিক্ত ও নিষ্ঠুর দৃষ্টি খুঁজে পেল। আগামী ভরা পূর্ণিমার আগেই নিশ্চিত তাকে তার বিছানায় মৃত দেখা যাবে। কিন্তু এখন নাজা শুধু মাথা নাড়ল।
আমি সে গুরু দায়িত্ব যা আপনারা আমার উপর ন্যস্ত করেছেন তা গ্রহণ করলাম। সে তার তরবারি খুলে সিংহাসনের দিকে তুলে ধরল। আর রাজ-প্রতিভূ হিসেবে আমার এখন প্রথম দায়িত্ব হল কিভাবে ফারাও ট্যামোস খুন হলেন তা কাউন্সিলের কাছে বর্ণনা করা। সে তাৎপর্য সহকারে এক মুহূর্ত থামল এবং পরবর্তী এক ঘণ্টা রাজার মৃত্যুর কাহিনী বর্ণনা করে গেল। যখন আমি তাকে পাহাড়ের নিচে নিয়ে আসছিলাম তখন তার শেষ কথা যা তিনি আমাকে বলেছিলেন তা হল আমার একমাত্র পুত্রের খেয়াল রেখো। যতোদিন সে এই দ্বৈত মুকুট পড়ার যোগ্যতা অর্জন না করবে ততোদিন তুমি নেফারের দেখ-ভালো ও ওকে রক্ষা করো। আমার দুই কন্যাকে তোমার ছায়ায় রেখো এবং দেখো যাতে তাদের কোনো ক্ষতি না হয়।
তার অসীম দুঃখ লুকানোর জন্যে লর্ড নাজা একটু ভনিতা করল। তারপর আবার বলে গেল, আমি আমার প্রভু ও বন্ধু ফারাওকে হারতে দেবো না। ইতোমধ্যে প্রিন্স নেফারকে থেবসে ফিরিয়ে আনার জন্যে রথ পাঠিয়ে দিয়েছি। সে থেবসে পৌঁছা মাত্রই তাকে সিংহাসনে বসিয়ে সমস্ত দায়িত্ব আমি বুঝিয়ে দেবো।
এতোক্ষণে সভাসদগণ গুঞ্জন করলেন এবং লর্ড নাজা বলে চলল, এখন রাজ কন্যাদের আমার কাছে দ্রুত নিয়ে আসা হোক।
যখন তারা দ্বিধাগ্রস্থ ভাবে দরজা দিয়ে ঢুকল তখন বড় মেয়ে হেজারেট তার ছোট বোন মেরিকারার হাত ধরা ছিল। মেরিকারা তার বন্ধুদের সাথে খেলা করছিল। সে ক্লান্ত এবং তার পুরো শরীর ঘামে ভিজে আছে। তার পাগুলো লম্বা, যেখানে মেয়েলি ভাব এখনো ফুটে উঠেনি এবং বুক এখনো বালকদের ন্যায় সমতল। সে তার কালো লম্বা চুলগুলো একপাশ করে বেঁধেছে এবং তার লিনেন স্কার্টটি এমন এলোমলা ভাবে পরিধান করা যে এর এক পাশ কোমর থেকে নিচ দিকে নেমে আছে। সে এই গুরুগম্ভীর পরিবেশে সভাসদগণের সামনে লাজুক হাসি হাসল এবং নিজের হাতের উপর তার বোনের হাতের তার চাপ অনুভব করল।
হেজারেট মাত্র প্রথমবারের মত ঋতুবতী হয়েছে এবং একটা স্কার্ট ও পরচুলা পরিধান করেছে, যার ফলে তাকে একজন বিবাহ যোগ্য মহিলার ন্যায় দেখাচ্ছিল। বৃদ্ধ লোকগুলো তাকে অবাক বিস্ময়ে দেখতে লাগল কেননা সে তার দাদী রাণী লসট্রিসের সৌন্দর্য ধারণ করেছে। দুধে আলতা ত্বক তার। নিতম্বটা মসৃণ ও সুঠাম গড়নের এবং তার উন্মুক্ত বুক যেন চাঁদের ন্যায়। তার অভিপ্রায় শান্ত ছিল কিন্তু তার ঠোঁটের কোণায় এক বিদ্রুপের হাসি ফুটে উঠেছে এবং তার বড় বড় গাঢ় নীল চোখে সন্দেহের ছায়া স্পষ্টত।
