এখন তারা অনুসারীদের কণ্ঠ, চাকার মড় মড় আওয়াজ ও অস্ত্রের ঝন ঝন শব্দ শুনতে পাচ্ছে, বালিয়াড়ির নীরবতায় তা আরো জোড়ালো শোনাচ্ছিল।
হাত মুক্ত করতে টাইটা তার হাতে থাকা লঠিটা বেল্টে খুঁজে নিল; তারপর সে ও বে তার সাথে মিলিত হওয়ার জন্য নেমে এল। প্রত্যেকে মিনটাকার কাছ থেকে একটা করে তা নিয়ে নিজেদের প্রতারক কাদার স্তরে ভাসিয়ে দিল। তিন জন। এক ভিন্ন সাঁতার কাটতে কাটতে পূর্ব তীরের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাল। বালিয়াড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তাদের পিছনে অনুসারী রথগুলোর সারির মাথা দেখা গেল তখন। টর্কের নির্ভুল অবয়ব অগ্রগামী রথে ছিল এবং তার কর্কশ ভারি কণ্ঠে বিজয়ের গর্জন বালিয়াড়ির দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হল। ঔ যে সামনে! ধররা!
রথের অগ্রবর্তী দলটি দ্রুত এগিয়ে এল এবং চোরবালির কিনারে এল। তিন ফেরারী হলুদ কাদার উপর পাগলের মত নিজেদের দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের পিছনে রথীদের চিৎকার জোরালো হলো আরো তখন।
টর্কের ভারি ওজন অন্য যানের থেকে তার চাকাগুলোকে নরম বালিতে অন্যদের চেয়ে আরো বেশি ডুকতে বাধ্য করল এবং যদিও চাবুকের আঘাতে তার ঘোড়াগুলো সর্বাধিক চেষ্টা চালাল, সে ধাওয়া করা প্রথম সারির পিছনে পড়ে গেল। প্রধান দলের অন্য তিনটা রথ অধোমুখে চোরাবালিতে দৌড়ে গেল এবং অন্য যানের ন্যায় দ্রুত ডুবতে লাগল। এর ফলে টর্ক বিপদের ব্যাপারে সচেতন হয়ে গেল। সে তার নিজের দলকে কোন রকমে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বেরিয়ে এল কাদা থেকে।
সে তার বাঁকানো ছোট ধনুকটা তাক থেকে নিয়ে লাফিয়ে নামল। তার পিছনে অন্য রথগুলোও ততোক্ষণে থেমে গেছে এবং দূর থেকে বিশাল স্তূপ লাগছিল সবগুলোকে দেখতে। ধনুক? টর্ক চিৎকার করল, তাদের দিকে তীরের বৃষ্টি বর্ষণ করো। পালিয়ে যেতে দিও না। তীর দিয়ে হত্যা করো।
তীরন্দাজরা দৌড়ে এগোলো এবং চোরাবালির কিনারে এসে সারি গঠন করল। তাদের পিঠে তীর ভর্তি খাপ এবং তীরের গুণ শক্ত করে বাঁধা।
মিনটাকা আরো একবার তার সঙ্গীদের থেকে এগিয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে সে অর্ধেক পথ পেরিয়ে এসেছে এবং যদিও তারা পাগলের ন্যায় দাঁড় বাইছে তবুও টাইটা ও বে পিছনে পড়ে যাচ্ছে বারেবার।
টর্ক লম্বা পদক্ষেপে সারির সামনে এসে দাঁড়াল, তারপর আদেশ দিল, তীরন্দাজরা তোমাদের তীর লক্ষ্য স্থির কর! দেড়শ তীরন্দাজ ধূন টেনে তাদের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করল।
ছেড়ে দাও! টর্ক চিৎকার করল এবং এক সাথে অনেক সংখ্যক তীর ছুটে গেল। তীরগুলো কালো মেঘ বরাবর উঠে গেল। ওগুলো রক্তিম আকাশ বরাবর উঠে গেল, পর্বতের চূড়া সমপরিমাণ এবং কাদা ভেজা তিনটি ক্ষুদ্র অবয়বের দিকে নিচু হয়ে পড়তে লাগল। টাইটা ওগুলো আসতে শুনল এবং পিছনে আকাশের দিকে তাকাল। ভয়ংকর মেঘটা তাদের দিকে ছুটে আসছে, উড়ন্ত বন্য রাজহাসের পাখার হিসহিস আওয়াজের ন্যায় মৃদু ছন্দ তুলে।
কাদার ভিতরে! সতর্ক করে বলল টাইটা। তিন জন দ্রুত তক্তা থেকে পিছলে নেমে পুরু কাদায় ডুবে তক্তাটি তুলে ধরে রইল, যতোক্ষণ না তীরগুলো তাদের পেরিয়ে গেল। তীরগুলো শিলাবৃষ্টির পুরু হয়ে তাদের আশেপাশে পড়ল। একটা তীর একটি তক্তার উপর গভীর ভাবে গেথে গেল যার উপর কয়েক সেকেন্ড আগেও শুয়ে ছিল মিনটাকা।
সামনে, টাইটা আদেশ দিতেই তারা নিজেরদের আবার তক্তায় টেনে তুলল এবং পুনরায় দাঁড় বেয়ে সামনে এগুল। বাতাস আবার তীরের গুন গুন আওয়াজে পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তারা কয়েক গজ এগিয়ে গেল এবং নিজেদের আবার আগের মতই হলুদ কাদার প্রতিরক্ষায় নিক্ষেপ করল তারা।
আরো তিনবার একই ভাবে তক্তা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হল তারা, তবে প্রতিবারে তীরন্দাজদের থেকে তাদের দূরত্বটা বেড়ে গেল এবং লক্ষ্যের নির্ভুলতা কমতে লাগল। মিনটাকা আগের চেয়েও দ্রুত চলছিল এবং আয়ত্তের বাইরে চলে গেল শীঘ্রই।
টর্ক সজোরে তার লোকদের তীর ছুঁড়তে উদ্বুদ্ধ করতে করতে হতাশ হয়ে পড়ল এক সময়। তীরগুলো তাদের আশে পাশে কাদায় টুপ করে পড়ছিল, কিন্তু তাদের পতন ছিল ভুল।
টাইটা বে-কে দেখতে মাথা ঘুরাল, তার বিশাল দাগওয়ালা মাথা কাদা ও ঘামে জ্বলছে। তার লাল চোখটা কোঠরের ভেতর স্ফীত হয়ে আছে এবং মুখ সম্পূর্ণ খোলা, সারিবদ্ধ দাঁতগুলো হাঙ্গরের দাঁতের ন্যায় দেখতে তীক্ষ্ণ।
সাহস রাখ, বে। টাইটা উৎসাহ দিয়ে বলল, আমরা প্রায় পেরিয়ে এসেছি। বলেই সে বুঝল শব্দগুলো যেন প্রভুদের উদ্দেশ্যে সরাসরি একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে গেল।
তাদের পিছনে তীরে দাঁড়িয়ে টর্ক দেখল তার হাত থেকে শিকার ধীরে ধীরে পিছলে যাচ্ছে। তার সৈন্যরা অপেক্ষাকৃত খাটো ও কম শক্তিশালী তীর ব্যবহার করছে যা চলন্ত রথ থেকে ছোঁড়ার জন্য তৈরি করা। এগুলো সর্বোচ্চ ২০০ কিউবিট পর্যন্ত যেতে পারে। টর্ক ঘুরে ক্রুদ্ধ দৃষ্টি নিয়ে তার বর্শা বাহকের দিকে তাকাল, যে তখন দলের ঘোড়াগুলোকে সামাল দিচ্ছিল।
আমার যুদ্ধ ধনুকটা আন। সে চিৎকার করে আদেশ দিল, পুরো বাহিনীতে একমাত্র টক-ই কেবল তার রথে লম্বা ধনুক বহন করছে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তার বাহিনীর বাকিদের যুদ্ধ ধনুকে অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্য ও অতিরিক্ত শক্তি আয়ত্তের জন্য ঠিক হবে না।
