কালো পাথরগুলো বাতাস বাহিত বালিতে অদ্ভুত আকৃতি ধারণ করেছে। কয়েকটার আকৃতি মানুষের মাথার ন্যায় এবং অন্যগুলো তাদের রথের মতই বড়। নেফার উন্মাদ ঘোড়াগুলোকে কোনভাবে পাথটার দিকে চালাল কিন্তু ওগুলো দুটি সবচেয়ে বড় পাথরের মধ্যবর্তী ফাঁক দিয়ে চলল। ফাঁকটা এতো সরু ছিল যে ওরা বেরিয়ে যেতে পারল না। পিছনের চাকা স্পোক পাথরের আঘাত লেগে ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেল এবং বাকিটা উড়ে বাতাসে নিক্ষিপ্ত হল। গাড়িটা অক্ষ দন্ডের উপর ভেঙে পড়ল ও পিছনের ঘোড়াকে টেনে ভূপাতিত করল। যা পরবর্তী পাথরে নিক্ষিপ্ত হল। নেফার প্রাণীটার সামনের পাগুলো লাকড়ির টুকরোর ন্যায় মটমট করে ভাঙতে শুনল, যদিও সে ও মিনটাকা ততোক্ষণে ওটা থেকে লাফিয়ে নেমে গেছে।
তারা পরম বালিতে লাফিয়ে পড়ে কোন রকমে পাথরের আঘাতটা এড়াতে পেরেছে যা ঘোড়াটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একটু দাঁড়ানোর অবস্থা হলে নেফার অনুভব করল তখনও সে মিনটাকাকে তার বাহুতে ধরে রেখেছে। সে তার পতন রক্ষা করেছে এবং একটা দম নিয়ে জানতে চাইল, তুমি ঠিক আছো? তুমি কি ব্যথা পেয়েছো?
না, সাথে সাথে সে জবাব দিল। তুমি?
নেফার হাঁটুগেড়ে বসে ভাঙ্গা রথ ও ঘোড়াটার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল।
হায়! হুরাস। সে চিৎকার করে বলল, আমরা শেষ, রথটা ভর্তা হয়ে গেছে। ঠিক করার আর কোন আশাই নেই, একটা ঘোড়া চির দিনের জন্য শেষ, ওটার সামনের পা গুড়ো হয়ে গেছে। অন্যটা তখনো দাঁড়িয়ে আছে, মোহ গ্রস্থ ও রথের একটি কুবর গলায় লাগানো তার, কিন্তু একটা পা ওটার সরে যাওয়া বাঠ থেকে আলতো ভাবে ঝুলছে।
অস্বস্তিকরভাবে নেফার তার পায়ের উপর দাঁড়াল এবং তারপর মিনটাকাকে টেনে তুলল। তার এক জন অন্য জনকে জড়িয়ে ধরে রইল যতক্ষণ না টাইটা রথ চালিয়ে তাদের কাছে এল। ম্যারনের হাতে লাগাম দিয়ে সে লাফ দিয়ে পাদানি থেকে নিচে নেমে বড় পদক্ষেপে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে? ঘোড়াগুলোর পালানোর কারণ কি?
তুমি কি ওটা দেখেছ? নেফার জিজ্ঞেস করল, এখনো সে কাঁপছে এবং হতভম্ব।
কি ছিল ওটা? টাইটা জানতে চাইল।
একটা বস্তু, কালো ও বিশাল বড় পর্বতের মতো। বালিয়াড়ি দিয়ে গড়িয়ে তা আমাদের উপর এল। নেফার অন্ধের মত শব্দ খুঁজল কি দেখেছে তা বর্ণনা করতে।
ওটা হাথোরের মন্দিরের মতোই বড় ছিল। মিনটাকা বলল সায় জানিয়ে।
ভয়ংকর ছিল। তুমিও নিশ্চয় ওটা দেখেছে।
না, টাইটা উত্তর দিল। এটা তোমার মন ও দৃষ্টির ভ্রম। আমাদের শত্রুরা ওখানে কিছু করেছে।
ডাইনী বিদ্যা! নেফার হতবুদ্ধি হয়ে গেল। কিন্তু ঘোড়াগুলো তা দেখেছে।
টাইটা তাদের থেকে সরে এসে হিল্টোকে ডেকে আদেশ করল, ওই হতভাগ্য জগুলোকে মেরে ফেলে। সে আহত ঘোড়াগুলোকে নির্দেশ করল। তাকে সাহায্য কর, নেফার। টাইটা তাকে দুর্ঘটনাটা ও তার ফলাফল থেকে অমনোযোগী করতে চাইল।
ভারাক্রান্ত মনে নেফার পড়ে থাকা ঘোড়ার মাথাটায় আদর করল। তারপর সে জটার কপালে আঘাত করল এবং ওটার চোখ তার রুমাল দিয়ে বেঁধে দিল যাতে নিজের আসন্ন মৃত্যু প্রাণীটা দেখতে না পায়।
হিল্টো একজন পুরনো যোদ্ধা এবং যুদ্ধের ময়দানে এই দুঃখের কাজ সে বহু বার করেছে।
সে চাকুর তীক্ষ্ণ প্রান্ত প্রানীটার কানের পিছনে ঢুকিয়ে দিল এবং যা এক ধাক্কায় প্রাণীটির মাস্তিষ্কে পৌঁছে গেল। ঘোড়াটা শক্ত হল, কাপল এবং তারপর স্থির হয়ে গেল। তারপর তারা দ্বিতীয় প্রাণীটার কাছে গেল। হিল্টোর এক আঘাতেই ওটা পড়ে গেল এবং আর নড়ল না।
টাইটা ও বে এক সাথে দাঁড়িয়ে এই করুণ মর্ম-বিদারী কাজ দেখছিল। বে নরম স্বরে বলল, আমি যতোখানি ভেবেছিলাম তার চাইতে দেখছি মেডি বেশি শক্তিশালী। সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি খুঁজে বের করেছে এবং তার শক্তি তাদের দিকে চালনা করেছে।
তার সাথে তার শক্তি বাড়াতে টর্কের অন্য যাদুকরেরাও রয়েছে। এখন থেকে সামনের পথটায় আমাদের হিল্টো ও ম্যারনের উপর দৃষ্টি রাখতে হবে। টাইটা সম্মত হল। যতোক্ষণ না আমি আমার নিজের শক্তি একত্রিত করতে পারছি ইশতারের সাথে ততোক্ষণ লড়াইতে আমরা মহা বিপদে থাকছি।
সে বে-এর পাশে থেকে সরে এল। তাদের দুজনকে এক সাথ গোপনে আলোচনা করতে দেখলে তা অন্যদের সমস্যা করতে পারে। এখন তাদের মনন শক্তি উজ্জীবিত রাখা হল সবচেয়ে জরুরি কাজ। পানির থলেগুলো আনো, টাইটা আদেশ করল। ধাক্কায় একটা ফেটে গেছে এবং অন্য দুটা অর্ধ পূর্ণ। তারা ওগুলো বাকী রথের সাথে বেঁধে নিল।
এখন থেকে সামনে থাকবে ম্যারন আর হিল্টো বে এর সাথে যাবে। আমি মহামান্যদের আমার সাথে নেবো।
পানির মশক ও অতিরিক্ত যাত্রীর ওজনে রথগুলো এখন অতিরিক্ত বোঝাই করা। যখন ঘোড়াগুলো সামনে বাড়ল মনে হল যেন তারা তীব্র তাপে আঁট সঁট হয়ে গেল, গনগনে সূর্যটা অদ্ভুত হলুদ আলোতে অস্পষ্ট।
টাইটা লসট্রিসের স্বর্ণের কবজটা তার ডান হাতে নিয়ে বিড় বিড় করে কোমল সুরে মন্ত্র পড়তে লাগল, অশুভ প্রভাবটা প্রতিহত করার চেষ্টায় সে ব্যস্ত যা তাদের চারপাশে ভারি হচ্ছিল। পিছনের রথে বে-ও গুন গুন করছে, একটি একঘেয়ে পুরো স্তবক।
তারা রাস্তার একটা ভাগে এল যেখানে বাতাস অন্য ক্যারাভান ও ভ্রমণকারীদের চাকার দাগ মুছে দিয়েছে। অনুসরণ করার মতো কোন চিহ্ন নেই শুধু মাত্র পথ নির্দেশক পাথরের স্তূপটা ছাড়া, যা মাঝ বরাবর স্থাপিত। ঘটনাক্রমে ওগুলোও ক্রমে শোষিত হয়ে গিয়েছে এবং তারা চিহ্ন বিহীন বালির মধ্য দিয়ে চলল। তারা এখন টাইটার অভিজ্ঞতা, মরু জ্ঞান এবং তার গভীর সহজাত প্রকৃতির উপর ভরসা করে চলছে।
