কম বয়েসী কেউ সবচাইতে ক্ষতি গ্রস্থ হবে। বৈ পরামর্শ দিল। দুই বালক, ফারাও ম্যারন এবং মেয়েটি।
তারা যেখানে রথ অপেক্ষা করছি সেখানে ফিরে এল। পুনরায় যাত্রার পূর্বে টাইটা অন্যদের উদ্দেশ্য কথা বলল। সে জানে তারা ভয় পাবে যদি সে প্রকৃত কারণুটা বলে। তাই সে বলল, আমার বালিয়াড়ির সবচাইতে খারাপ ও বিপদজন অঞ্চলে প্রবেশ করছি। আমি জানি তোমরা সবাই ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত, যাত্রার কষ্টে পরিশ্রান্ত, কিন্তু একটু অসতর্ক হওয়া তোমাদের যে কারো জন্যে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঘোড়াগুলোকে দেখবে ও সম্মুখের পথ লক্ষ্য করবে শুধু। নিজেকে কোন অদ্ভুদ শব্দ, অস্বাভাবিক দৃশ্য বা কোন পাখি কিংবা প্রাণী দ্বারা অমনোযোগী করবে না। সে থামল এবং সরাসরি নেফারে দিকে তাকাল। বিশেষভাবে তোমার জন্যে এটা বেশি প্রযোজ্য, মহামান্য। সব সময় নিজের ব্যাপারে সর্তক থাকবে।
নেফার সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল এবং এই প্রথম সে কোন তর্ক করল না। অন্যদেরও গম্ভীর দেখাল। বুঝল তাদের সর্তক করার পিছনে টাইটার বিশেষ কোন কারণ রয়েছে।
যখন তারা আবার উঁচু বালিয়াড়ির মধ্যকার উপত্যকা দিয়ে সামনে এগুল তখন মনে হলো রথের চাকার প্রতি ঘূর্ণনে তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলগা বালির দেয়ালগুলো দুই পাশে উঠে গেছে নানা বর্ণ ধারন করে, লেবুর মতো হলুদ ও সোনালি, রক্ত বর্ণ ও নীল, শিয়ালের ন্যায় তামাটে, সিংহ বাদামী বর্ণের…। বালিয়াড়ির জায়গায় জায়গায় হিম শীতল অভ্র এর আকা বাঁকা রেখা কিংবা কালো বালির দাগ যা তেলের প্রদীপের ঝুলের মতো দেখতে দেখা গেল। মাথার উপরে আকাশ উষ্ণ ও হিংস্র হয়ে উঠল। আলোর ধরন পরিবর্তন হয়েছে; ওটা হলুদ ও খয়েরি হয়ে গেছে। দূরের জিনিস দ্বিধান্বিত ও বিকৃত দেখাল। নেফার আকাশের ঝিকঝিক করা তীব্রতার মধ্য দিয়ে তাকাল। তা এতো কাছে মনে হল যে যেন চাবুকের শেষ প্রান্ত দিয়ে তা স্পর্শ করা যাবে। এই সময় ৫০ কিউবিট দূরে সামনে টাইটার যানটাকে মনে হল কালির কোন ফোঁটা হয়ে গেছে এবং দূর দিগন্তে তার অবস্থান।
তাপ চেহারা ও দেহের উন্মুক্ত ত্বক ঝলসে দিল। নেফার অনুভব করল এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করছে। এর কোন কারণ ছিলনা, কিন্তু সে তা তাড়াতে পারল না।
যখন মিনটাকা তার সাথে ধাক্কা খেল এবং তার চাবুক ধরা হাত শক্ত করে ধরল সে বুঝল সেও এরকম অনুভব করছে। বাতাসে মহাঅশুভ কিছু বিরাজ করছে। সে টাইটাকে ডাকতে চাইল, কিন্তু তার কণ্ঠ ধুলো ও তাপে পুরোপুরি বন্ধ। গলা থেকে কোন আওয়াজ বের হল না।
হঠাৎ সে অনুভব করল মিনটাকা শক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং চাবুক ধরা হাতের আঙ্গুলগুলো তাকে যন্ত্রণাদায়ক ভাবে খামচে ধরেছে। সে তার চেহারা দিকে তাকাল এবং দেখল সে ভীত। মুক্ত হাত দিয়ে সে পাগলের মতো বালিয়াড়ির চূড়ার দিকে দেখাল যা মনে হচ্ছিল তাদের উপর ঝুলে পড়বে।
কিছু একটা প্রকাণ্ড ও কালো ঐ উঁচু থেকে আলাদা হয়ে তাদের দিকে হুড়মুড় করে চেপে আসতে লাগল। এরকম সে কখনো আর দেখে নি। পানির থলের মতোই জিনিসটার গঠন, ভারি থলথলে দৈত্যাকৃতির, কিন্তু এতো বড় যে পুরো বালিয়াড়িটা ঢেকে ফেলতে পারবে। বলতে গেলে ওটি শুধু তিনটা রথ নয় এবং পুরো সেনাবাহিনী ঢেকে ফেলবে। যখন গড়িয়ে প্রায় কাছাকাছি এল তখন ওটা তার গতি বাড়িয়ে দুলতে দুলতে কম্পিত হয়ে ও নিরবে লাফিয়ে তাদের উপর নেমে এল। মরুর আকাশে তা সৃষ্টি করল হলুদ বর্ণ। তাপের ওপর ওটা হঠাৎ এক শীতল নিঃশ্বাস ঝাড়লো যা তাদের ফুসফুস থেকে তাদের দম টেনে নিল যেন। তাদের মনে হল তারা কোনো উঁচু পর্বতের ঝর্ণার পুকুরে ডুবে যাচ্ছে।
ঘোড়াগুলোও তা দেখল: বন্য আচরণে প্রাণীগুলো আগপিছ করতে করতে দ্রুত নিচের উপত্যকা বরাবর ছুটল, ভয়ংকর অপচ্ছায়াটা থেকে বাঁচার চেষ্টা করল প্রাণীগুলো। একটা কালো লাভার পাথর ঠিক তাদের সামনে এবং তারা তার দিকে সোজাসুজি দৌড়ে যাচ্ছে। নেফার বিপদটা বুঝল এবং প্রাণীগুলোর মাথা ঘোরাতে চাইল কিন্তু তখন তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সে যখন লাগামের সাথে যুদ্ধ করছিল মিনটাকা তখন তার পাশে চিৎকার করছিল।
নিশ্চিত তারা কালো অপচ্ছায়াটা দ্বারা মোহিত। নেফার তার কাঁধের উপর দিয়ে দেখল। সে আশা করল ওটা তাদের উপর আবছাভাবে আবির্ভূত হবে কারণ সে তার ঘাড়ের পিছনে ঠাণ্ডা প্রবাহ অনুভব করছিল, কিন্তু কোন কিছু দেখতে পেল না। বালিয়াড়ির সামনের অংশ শূন্য, মসৃন ও নীরব। তাদের উপরের হলুদ আকাশটাও শূন্য ও উজ্জ্বল। অন্য দুটি রথ খাজের নিচে থেমে পড়েছে, ঘোড়াগুলোও শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে। টাইটা ও অন্যরা তাদের দিকে চেয়ে আছে, বিস্মিত দৃষ্টি নিয়ে।
ওয়াও! নেফার পলায়ন রত দলটার উদ্দেশ্যে চিৎকার করল এবং তার পুরো ওজন লাগামের উপর ফেলে থামাতে চেষ্টা করল কিন্তু ঘোড়াগুলো শুনল না। পূর্ণ গতিতে ওগুলো লাভার পাথরের মধ্যে দিয়ে যেন উড়ে চলছিল। থাম্ সে আবার চিৎকার করল। থাম! দোহাই। থাম্।
ঘোড়াগুলো ভয়ে উদ্ভ্রান্ত, নিয়ন্ত্রণের উর্ধ্বে। লাগামের টানে ওগুলো তাদের ঘাড় বাঁকা করল ও দীর্ঘ লাফ দিচ্ছে, সেই সাথে প্রতি পদক্ষেপে বিরক্তি সূচক শব্দ করছে।
শক্ত করে ধরো, মিনটাকা! নেফার চেঁচিয়ে বলল এবং একটা হাত তার কাঁধের উপর রেখে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করল, আমরা ধাক্কা খেতে যাচ্ছি।
