সে হেঁটে তার রথের নিকট ফিরে আসছিল এমন সময় থামতে বাধ্য হল। পিঠ ঘুরিয়ে দেখল একটি আকস্মিক ধুলার শয়তায় হলুদ ভূমি দিয়ে স্ফীত হয়ে আসছে, নিজের মধ্যে ঘূর্ণনরত এবং বাতাসে কয়েকশ কিউবিট পর্যন্ত উপরে ঘুরপাকে খাচ্ছে। ঘূর্ণিটা তাকে অতিক্রম করে গেল। বাতাস এতো তপ্ত যেন তা ব্রোঞ্জের চুল্লি হতে বের হচ্ছে। হাতের কাপড় দিয়ে সে তার নাক ও চোখ ঢাকতে বাধ্য হল এবং কাপড়ে ভিতর দিয়ে নিঃশ্বাস নিয়ে উড়ন্ত বালি ঝেড়ে ফেলল। ঘূর্ণিটা দ্রুত অতিক্রম করে গেল এবং ঘুরে গরম মাটি অতিক্রম করল। একজন হারেমের নর্তকীর মাধুর্যতা নিয়ে সে কাশতে কাশতে তার চোখ মুছল বারেবার।
তখন দুপুরের একটু আগ এবং মাত্র তার পানি পানের কাজটা শেষ করেছে এমন সময় কর্নেল যানদারের নেতৃত্বে রথের সারি তাদের সাথে যোগ দিল। প্রথম সারির যেমটা পানির দরকার ছিল তাদেরও তেমটাই দরকার এবং এখন মরুদ্যানে এ নিয়ে কাড়াকাড়ির বিপদ আছে। ইতোমধ্যে পানি কমে গেছে এবং তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের এখন প্রয়োজন মেটাতে মূল্যবান পানির থলে ব্যবহার করতে হবে।
টর্ক কর্নেল যানদার এবং টলমার সাথে একটা সংক্ষিপ্ত বৈঠক করল। তার পরিকল্পনা এবং উদ্দেশ্যটা তাদের ব্যাখ্যা করল সে। টাইটাকে সে মুচড়ে রেড়িয়ে যেতে কিংবা তার বিছানো জাল থেকে ঘুরে বেড়িয়ে যেতে দিতে চায় না। রেজিমেন্টের কমান্ডারদের যে কোন যাদুর ফাঁদের ব্যাপারে সর্তক করে দাও যা দিয়ে টাইটা তাদের দ্বিধান্বিত করতে পারে। সে কথা শেষ করল। ইশতার একটি গুরুত্বপূর্ণ যাদু চালছে। তার প্রতি আমার বিশ্বাস অনেক। পূর্বে সে কখনো আমাকে নিরাশ করেনি। যদি আমরা ওয়ারলকের চাতুরির বিষয়ে পুরোপুরি সজাগ থাকতে পারি তাহলে আমরা সফল হবই। সর্বোপরি বলো সে কিভাবে এই রকম একটি বিন্যাস থেকে বাঁচবে? হাতের ইশারায় সে তার রথ ও ঘোড়া এবং সেনা বাহিনীর বিশাল সমাবেশ নির্দেশ করল। না! সেথের নিঃশ্বাসের কসম, আগামী কাল এই সময়ে আমি টাইটা ও মিনটাকাকে আমার রথে পিছনে বেঁধে অ্যাভারিস ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।
সে সামনের সারিকে ঘোড়ায় চড়ার আদেশ দিল। চারটি রথ পাশাপাশি এবং এক সারিতে, অর্ধ ক্রোশ দীর্ঘ বনের দিকে এগিয়ে চলল সবাই। সামনের নরম বালু মাটিতে সেনাবাহিনীর চাকার দাগ স্পষ্টভাবে অংকিত হল।
*
টাইটা ইশারায় দুটি যানকে থামতে নির্দেশ দিল, সেগুলো তাকে অনুসরণ করছিল। তারা রক্তবর্ণ ছায়ায় থামল যা বালির উপর একটি লম্বা বাঁকা বালিয়াড়ির দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে, বিশাল সামুদ্রিক শামুকের বৃহৎ বাকের আকৃতির মতো যা।
ঘোড়াগুলো ইতোমধ্যে অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। প্রাণীগুলা তাদের মাথা ঝুলিয়ে রাখল এবং নিঃশ্বাস নেবার সময় তাদের বুক উঠানামা করছে দ্রুত। ঘাম শুকিয়ে লবণে পরিণত হয়ে তাদের ধুলোয় ঢাকা চামড়ায় তা সাদা হয়ে জমে আছে।
সর্তক ভাবে তারা পানির থলে থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি চমড়ার বালতিতে ঢালতেই ঘোড়াগুলো তা ব্যাকুলভাবে পান করতে লাগল। টাইটা মিনটাকার পায়ে মনোযোগ দিল এবং ক্ষতটা গম্ভীর হচ্ছে না দেখে স্বস্তি পেল। পুনরায় ব্যান্ডেজ বাঁধা শেষে সে বে-কে এটুকু দূরে নিয়ে যাতে অন্যরা শুনতে না পায় এভাবে বলল,
আমাদের দূর থেকে দেখা হচ্ছে। সে বলল। একটা অশুভ প্রভাব ধীরে ধীরে আমাদের উপর পড়ছে।
আমিও তা অনুভব করেছি। যে সম্মত হল, এবং আমি তা প্রতিহত করা শুরু করে দিয়েছি। কিন্তু ওটা যথেষ্ট শক্তিশালী।
আমরা ওটাকে প্রতিহত করতে পারি যদি আমরা আমাদের শক্তি ওটার বিরুদ্ধে একত্রিত করি।
আমাদের অন্যদের ব্যাপারেও সর্তক থাকতে হবে। তারা বেশি অরক্ষিত।
আমি তাদের নিজেদের ব্যাপারে সর্তক থাকতে বলব।
টাইটা হেঁটে ফিরে এল, অন্যেরা মাত্র পানি খাওয়ানো শেষ করেছে।
যাত্রার জন্য প্রস্তুত হও। সে নেফারকে বলল। বে ও আমি সামনের রাস্তা পরীক্ষার জন্য যাচ্ছি। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরব।
অভিজ্ঞ দুই দক্ষ ব্যক্তি পায়ে হেঁটে সামনে গেল এবং বালির দেয়ালের বাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেল তারা। তাদের দৃষ্টি সীমার বাইরে গিয়ে থামল তারা। তুমি কি জান টর্কের সাথে কে আছে যে এই রকম শক্তিশালী যাদু করতে পারে।
তার সেনাবাহিনীর সাথে তার যাজক ও যাদুকর আছে, কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হল ইশতার দি মেডি।
আমি তাকে চিনি। টাইটা মাথা ঝাঁকাল। সে আগুন ও রক্ত দিয়ে কাজ করে। আমাদেরকে অবশ্যই তার যাদু তারই উপর ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করতে হবে।
বে ঘোড়ার শুকনো গোবরে একটা ছোট আগুন জ্বালাল এবং যখন তা স্থির হয়ে। জ্বলতে লাগল তখন তারা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুল ফুটো করে চিপে কয়েক ফোঁটা রক্ত বের করে আগুনে ফেলল। পোড়া রক্তের দমকা গন্ধে বাতাসে তারা শত্রুর মুখোমুখি হল। কারণ তারা অনুভব করল যে প্রভাবটা পশ্চিমাংশ তারা যে পথে এসেছে সে পথ দিয়ে আসেছে। তারা তাদের মিলিত শক্তি প্রয়োগ করল এবং কিছুক্ষণ পর অনুভব করল তা হ্রাস পাচ্ছে ও আগুনের ধোঁয়ার মতো হারিয়ে যাচ্ছে।
তারপর কাজ শেষে যখন বালি দিয়ে আগুনটা তারা নিচ্ছিল তখন বে নরম সুরে বলল, ওটা এখনো আছে।
হ্যাঁ। টাইটা বলল। আমার ওটা দুর্বল করেছি, কিন্তু ওটা এখনো বিপদ জনক, বিশেষ করে তাদের জন্যে যারা জানে না কিভাবে তা প্রতিরোধ করতে হয়।
