শেষ দেখেছিলাম তখন তা গ্রীষ্মের আকাশের শেষ মেঘের ন্যায় জ্বলছিল।
তারা কখন রওনা হয়েছিল?
সূর্যোদয়ের এক ঘণ্টা পর, মহামান্য।
তাদের ঘোড়াগুলোর অবস্থা কেমন ছিল?
যথেষ্ট পানি পান করানো এবং বিশ্রাম নেওয়া। তারা মরুদ্যানে তিন দিন ছিল এবং তারা তাদের সাথে গবাদি পশুর খাবারের একটা গাড়ি এনেছিল যখন তারা প্রথম আসে। আর আজ সকালে রওনা দেবার কালে তারা তাদের পানির থলেগুলো কুয়ার পানিতে পরিপূর্ণ করছিল এবং মনে হচ্ছিল তারা সমুদ্রে দীর্ঘ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তাহলে তারা আমাদের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে; টর্ক অতিরঞ্জন করল। ভালো করেছ প্রজা, তুমি আমার মন জিতে নিয়েছ। আমার অনুলিপি তোমাকে ব্যবসার অনুমতি দিবে। আর কর্নেল টলমা তোমাকে একজন রক্ষী দিয়ে অ্যাভারিস পাঠাবে। তোমাকে আরো পুরুস্কার দেয়া হবে যখন আমি আসামীদের ধরে নিয়ে শহরে ফিরবো। তাদের বিচারে দর্শকের সারিতে তোমাকে একটি সুন্দর আসন দেওয়া হবে। ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার শুভ যাত্রা ও আমার রাজ্যে তোমার অনেক মুনাফা কামনা করছি।
সে ঘুরে কর্নেল টলমাকে আদেশ দিয়ে বলল, এই লোকটিকে একটি ব্যবসার লাইসেন্স দাও এবং অ্যাভারিস পর্যন্ত একজন রক্ষী দাও। কুয়া থেকে পানির থলেগুলো পূর্ণ কর এবং ঘোড়াগুলোকে পর্যাপ্ত পানি পান করাও। কিন্তু দ্রুত টলমা! দুপুরের আগে আবার রওনার জন্য প্রস্তুত হও। আর এর মাঝে তোমার যাদুকর ও সেনাদলের যাজকদের আমার কাছে পাঠাও।
সৈন্যরা প্রতি বারে বিশটি করে ঘোড়া কূপের কাছে নিয়ে গেল পানি পান করাতে। যারা এ কাজে ব্যস্ত ছিল না তারা তাদের যানের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিল এবং রুটি ও শুকনো মাংস দিয়ে হালকা নাস্তা সারল যা সেনাদের আদর্শ খাবার।
টর্ক কুয়ার কাছের তেঁতুল গাছটার ছায়ায় বসেছিল। যাদুকর ও পবিত্র ব্যক্তিরা তার ডাকে সামনে এসে হাজির হল এবং তাকে ঘিরে দাঁড়াল। তারা সংখ্যায় চার জন, তাদের মধ্যে দুজন ছিল ন্যাড়া, সেথের যাজকেরা ছিল কালো পোশাক পরিহিত। যাদের একজন নুবিয়ান ছলকারী হাড়ের তৈরি কারুকাজ করা নেকলেস পড়ে আছে এবং অপর জন একজন যাদুকর যে পূর্ব থেকে এসেছে, ইশতার দি মেডি নামে অধিক পরিচিত সে। ইশতার-এর একটা চোখ এবং তার রক্তাভ চেহারায় লাল বর্ণের বলয় ও বৃত্ত আঁকা।
আমরা যে লোকের পিছু করছি সে ঐন্দ্রজালিক শিল্পে দক্ষ একজন ব্যক্তি। টর্ক তাদের সতর্ক করল। সে আমাদের ব্যর্থ করতে তার সব শক্তি প্রয়োগ করবে। এটা জেনে রাখা দরকার যে সে লুকানোর মন্ত্র জানে এবং সে প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারে যা আমাদের সৈন্যদের আতংকিত করতে পারে। তোমাকে তার যাদু কাটার কাজ করতে হবে।
কে এই বিশেষ ব্যক্তি? ইশতার দি মেডি জিজ্ঞেস করল। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন সে আমাদের সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে টিকতে পারবে না।
তার নাম টাইটা। টর্ক উত্তর দিল। ইশতারকে তার পরিচয়ে কোন হতাশ দেখাল না। আমি টাইটাকে শুধু নামে চিনি; সে বলল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা ছিল।
ঠিক আছে তোমার যাদুর চাল শুরু করো। টর্ক আদেশ দিল।
সেথের যাজকেরা একটু দূরে সরে গেল এবং তাদের অলৌকিক ফাঁদ বালির উপর রাখল। তারা নরম সুরে মন্ত্র পড়তে লাগল এবং তাদের উপর দিয়ে তাদের যন্ত্র কাঁপতে লাগল ঝনঝন করে।
কূপের চারপাশে পাথরের মধ্যে কিছু খুঁজল নুবিয়ানটা, ওগুলোর একটার নিচে সে একটি বিষধর শিংওয়ালা সর্প পেল। সে ওটার মাথা কেটে তার রক্ত নিজের মাথায় ফোঁটায় ফোঁটায় ফেলল, যা তার গাল বেয়ে নেমে এল এবং তার নাকে ডগা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ল এক এক করে। সে তখন বড় কালো ব্যাঙের মত বৃত্তাকারে লাফাতে লাগল। প্রতিবার ঘূর্ণি পূর্ণ করে সে মুখ ভরা থু থু পূর্ব দিকে নিক্ষেপ করল যেখানে টাইটা শুয়েছিল।
ইশতার কুয়ার কাছাকাছি একটা ছোট আগুন তৈরি করে তার নিকট আসন করে বসল। সে গোড়ালির উপর দুলতে দুলতে মার, ডুকের উদ্দেশ্যে বিড় বিড় করে মন্ত্র পড়ল, যে ছিল মেসোপটেমিয়ার হাজার দশজন প্রভুদের মধ্যে সবচেয়ে, শক্তিশালী।
টর্ক তার কাজ দেখতে গেল। তুমি এখানে কি যাদু তৈরি করছো? শেষ পর্যন্ত সে-জিজ্ঞেস করল। ইশতার তার কব্জির শিরা কেটে কয়েক ফোঁটা রক্ত আগুনের হিসহিস্ শিখায় নিক্ষেপ করল।
এটা আগুন ও রক্তের যাদু। আমি টাইটার পথে বাধা ও কষ্ট স্থাপন করছি? আমি তার অনুসারীদের মন বিভ্রান্ত ও দ্বিধান্বিত করছি।
টর্ক অবিশ্বাসে ঘোঁত ঘোঁত শব্দ করল; কিন্তু গোপনে সে প্রভাবিত হল। সে পূর্বে ইশতারের কাজ দেখেছে। সে হেঁটে একটু রাস্তা বরাবর এগিয়ে পূর্ব দিকে পাহাড়ের সারির দিকে এক নজর দেখল। তাদের ধাওয়া করতে সে উদগ্রীব এবং এ দেরি মানতে চাইছে না। পক্ষান্তরে একজন জেনারেল হিসেবে সে জানে এ দীর্ঘ রাতের ভ্রমনের পর ঘোড়াগুলোকে বিশ্রাম ও পানি পান করানোও প্রয়োজন।
সে ভালো করেই সামনের পথের অবস্থা জানে, রথের একজন তরুণ দল নেতা হিসেবে সে ওখানে অনেক বার বহু উপলক্ষে গিয়েছে। সে কোমল শিলার বিছানাটা পার হয়েছে যা পাতলা ছুরির ন্যায়, ঘোড়ার খুর ও মধ্য সন্ধি কেটে দেয় এবং বালিয়াড়ির ভয়ানক তাপ ও তৃষ্ণা সেই সাথে সহ্য করতে হয়।
