কাঁপা হাতে মহিলাটি রাস্তা দেখাল যা পাহাড় ও মরু বরাবর চলে গেছে।
কখন? টর্ক জানতে চাইল।
চাঁদের অতোখানি সময় ধরে; সে বলল, আকাশের একটা স্থান নির্দেশ করল যা চাঁদের চার ঘণ্টা বা পাঁচ ঘণ্টার ভ্রমণ।
তাদের সাথে কতগুলো ঘোড়া ছিল? টর্ক উচ্চ শব্দে জিজ্ঞেস করল। রথ? ওয়াগন? তারা কিভাবে ভ্রমণ করছিল?
কোন ঘোড়া ছিল না। সে উত্তর দিল। তারা পায়ে হেঁটে গেছে, কিন্তু খুব দ্রুত।
টর্ক তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। সে টলমার উদ্দেশ্যে দাঁত বের করে হাসল যে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তারা পায়ে হেঁটে বেশি দূর যেতে পারবে না। আমরা তাদের এতোটাই জলদি পাব যতোটা তাড়াতাড়ি তুমি তোমার অলস বদমাশগুলোকে তাদের বিছানায় পাও এবং ঘোড়ায় চড়ো।
*
টর্ক যখন মরুদ্যানের পাহাড়ের চূড়ায় বনের গোরটে উঠল সূর্য তখন অর্ধ আকাশে এবং তার তেজ ছড়াতে শুরু করেছে। চার সারিতে দুশ রথ তাকে অনুসরণ করছে। আরো পাঁচ মাইল পিছনে, উজ্জ্বল সূর্যালোকে আরো একটা ধুলোর মেঘ স্পষ্ট দেখা গেল, যানদার আরো দুইশ রথ নিয়ে এগিয়ে আসছে। প্রতিটি যান দুই জন ভারি অস্ত্রধারী সৈন্য বহন করছে এবং পানির থলে, বর্শা, বল্লম ও তীরের খাপে তা বোঝাই।
তাদের নিচে তারা ক্যারাভানের মাথার কুয়া থেকে অ্যাশিরিয়ান ব্যবসায়ীর দলকে খাজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখল। টর্ক তাদের সাথে কথা বলতে এগুলো এবং দূর থেকে থামার সংকেত দিল। দেখ হয়ে ভালোই হলো, আগন্তুক! কতো সময় হল এখানে এসেছে এবং তোমাদের ব্যবসাটা কী?
ব্যবসায়ীটি উত্তেজিত ভাবে এই যোদ্ধার ন্যায় অতিথির দিকে তাকাল, তার উদ্দেশ্যের বিষয়ে ঠিক নিশ্চিত হতে পারল না। টর্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্বোধন অল্পই কাজ করল। মেসোপটেমিয়া থেকে দীর্ঘ যাত্রায় তাদের সাথে অসংখ্য দস্যু, ডাকাত ও যুদ্ধ বাজদের সাক্ষাৎ হয়েছে।
টর্ক ব্যবসায়ী দলনেতার সামনে লাগাম টেনে রথ থামাল। আমি সেই মহান মহামান্য ফারাও টর্ক উরুক, নিম্ন রাজ্যে স্বাগতম। ভয় পেয়ো না। তুমি আমার নিরাপত্তায়।
ব্যবসায়ী হাঁটুগেড়ে বসে তার আনুগত্য প্রকাশ করল। এক মুহূর্তের জন্য টর্ক তাকে দেওয়া সম্মানে অধৈর্য হলো এবং সে লোকটির কথা সংক্ষেপ করে দিল। দাঁড়াও এবং কথা বলে, আমার সাহসী প্রজা। যদি তুমি আমার প্রতি আনুগত হও তবে জবাব দাও যা আমি জানতে চাই। আমি তোমাকে আমার রাজ্য জুড়ে কর ছাড়া ব্যবসা করার অনুমতি দেবো এবং দশটা রথ সহযোগে তোমাকে অ্যাভারিসের ফটক পার করে দিব।
ব্যবসায়ীটি তার পায়ের উপর কাঁপতে লাগল এবং তার গভীর আনুগত্য প্রকাশ করতে লাগল, যদিও সে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জানে এরকম রাজ সৌজন্য স্বাভাবিকভাবে দামী। টর্ক তার কথা সংক্ষেপ করল। আমি একদল উদ্বাস্ত সন্ত্রাসীদের খুঁজছি। তুমি কি তাদের দেখেছ?
আমি পথে সংখ্যক ভ্রমণকারীদের সাক্ষাৎ পেয়েছি। অ্যাশিরিয়ান ভয়ে ভয়ে উত্তর দিল। দয়া করে কি মহামান্য আপনি এই সন্ত্রাসীদের বিষয়ে একটু ইঙ্গিত দিবেন? আমি আমার সর্বোত্তম চেষ্টা করবো তাদের বিষয়ে তথ্য দিতে।
সংখ্যায় সম্ভবত তারা চার কি পাঁচজন হবে। পূর্ব দিকে যাচ্ছে। তাদের সাথে একজন তরুণী রয়েছে এবং বাকিরা পুরুষ। তাদের নেতা একজন বৃদ্ধ লোক। লম্বা ও পাতলা, সে তার চুল হয় কালো অথবা বাদামি রং করেছে।
টর্ক তার বর্ণনা আরও দীর্ঘায়িত করার পূর্বেই অ্যাশিরিয়ানটা উত্তেজিত ভাবে বলে উঠল, মহামান্য আমি তাদের ভালো করেই জানি, কিছুদিন আগে বৃদ্ধ লোকটি তার রং করা চুল নিয়ে আমার কাছ থেকে কার্পেট ও পুরানো কাপড় কিনে ছিল। সেই সময় মেয়ে লোকটি তাদের সাথে ছিল না। সে তার ঘোড়াগুলো ও তিনটা রথ মরুদ্যানের ঐ ওখানে রেখে গিয়েছিল, একটি কুৎসিত বদমায়েশের দায়িত্বে। সে অন্যদের সাথে নিয়ে পুরানো একটা ওয়াগনে কার্পেট তুলে যা আমি তাদের কাছে বিক্রি করেছিলাম। তারা এই প্রধান রাস্তা দিয়ে গিয়েছিল যেখানে এখন আমরা অ্যাভারিসের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছি?
টর্ক দাঁত বের করে বিজেতার হাসি দিল। এটাই আমি চাই। তুমি তাদের কখন দেখেছো? তারা কি রথগুলো নিতে ফিরেছিল?
সে ও অন্য তিনজন আজ খুব ভোরে পায়ে হেঁটে অ্যাভারিস-এর দিক থেকে ফিরে এসেছিল। আর তাদের সাথে তরুণী মেয়েটাও ছিল যার কথা আপনি জিজ্ঞেস করলেন। মনে হচ্ছিল সে কোন ভাবে ব্যথা পেয়েছে কারণ তারা তাকে বহন করছিল।
তারা কোথায় গিয়েছে, প্রজা? কোন দিকে? টর্ক ব্যাকুলভাবে জানতে চাইল, কিন্তু অ্যাশিরিয়ান-এর তাড়া ছিল না।
যুবতী মেয়েটা, যদিও সে আহত ছিল এবং খুব কষ্টে একটু হাঁটতে পারছিল পড়নে ছিল তার সুন্দর কাপড়। সে নিশ্চিত অভিজাত কেউ, সুন্দর লম্বা কালো চুলে তাকে তেমনই মনে হয়েছে।
যথেষ্ট হয়েছে। আমি তোমার বর্ণনা ছাড়াও তাকে ভালো করেই জানি। মরুদ্যান ছাড়ার পর তারা কোন পথে গিয়েছে?
তারা তিনটা রথে ঘোড়া বেঁধেছে এবং দ্রুত ছেড়ে গিয়েছে।
কোন দিকে, প্রজা? কোন পথ তারা নিয়েছিল?
পূর্বদিকে ক্যারাভানের রাস্তা ধরে।
সে আঁকাবাকা পথ নির্দেশ করল যা নিচু পাহাড়ের উপর দিয়ে বালিয়াড়ির মধ্য দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু লোকটির চুল তখন রং করা ছিল না। যখন তাকে আমি
