কিছুক্ষণ পর নেফার দাঁড়িয়ে তাকে তার পিঠে তুলে নিল পুনরায়। তার শপথ যেন তাকে নতুন শক্তি দিল এবং আরো অধিক শক্তি নিয়ে চলতে লাগল দুজন।
মধ্যরাতের পর বাকিরা বুঝল যে তাদের কিছু একটা হয়েছে এবং তাদের খুঁজতে এল তারা। টাইটা মিনটাকার পা বেঁধে দিল এবং পরে হিল্টো এবং ম্যারন তাকে বহন করল পালা করে। তারা দ্রুত চলল কিন্তু তারাগুলো মলিন হয়ে যাচ্ছিল এবং ঊষার আলো ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছিল পূর্ব আকাশে। অবশেষে তারা শেষ পর্যন্ত মরুদ্যানে পৌঁছল যেখানে বে ঘোড়া নিয়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।
তারা সবাই পরিশ্রান্ত কিন্তু টাইটা তাদের বিশ্রামের অনুমতি দিল না। শেষ বারের মতো তারা ঘোড়াগুলোকে পানি খাওয়ালো এবং পানির থলেগুলো পূর্ণ করল যতোটুকু সম্ভব বেশি করে।
তারা যখন এসব করছিল টাইটা তখন কূপ থেকে এক বালতি পানি তুলে মাথায় ফেনাময় বিলেপন পদার্থ মেখে চুল ধূয়ে চলল। যতোক্ষণ পর্যন্ত না তা আবার তার সাবেক রূপালি চকচকে বর্ণ ধারণ করল ততোক্ষণ সে পানি ঢালল এক নাগারে।
সে প্রতিবার তার চুল এ ভাব বোয় কেন? ম্যারন বুঝতে পালল না।
সম্ভবত এটা তার কিছু শক্ত পুন সঞ্চয় করতে সাহায্য করে যা সে হারিয়ে ছিল যখন তা সে রং করেছিল। মিনটাকা পরামর্শ দিল এবং আর কেউ প্রশ্ন করল না।
তার যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলে টাইটা তাদের কুয়া থেকে পানি করতে জোর করল। সবাই পেট ভরে পানি পান করল। এসবের মাঝে টাইটা শান্ত ভাবে বে-এর সাথে কথা বলল। তুমি কি তা অনুভব করতে পারছ?
বে ভ্রুকুটি করে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল। এটা বাতাসে স্পষ্ট এবং আমি আমার পায়ের তলায় তার পুনঃপুন কম্পন অনুভব করতে পারছি। তারা আসছে।
সময়ের আবশ্যকতা এবং হাতের কাছে শত্রুর বিপদ সত্ত্বেও টাইটা মিনটাকার পায়ের চিকিৎসা করার শেষ সুযোগটা নিল। কাঁচা ও ক্ষত স্থানে ওষুধের প্রলোপ দিয়ে আবার ওগুলো ব্যান্ডেজ করল সে। তারপর সবাইকে আদেশ দিল দ্রুত ঘোড়ায় চড়তে।
টাইটা ম্যারনকে প্রথম রথে তার বর্শা বাহক হিসেবে নিল। নেফার মিনটাকার সাথে গেল, সে ড্যাশ বোর্ডের উপর ঝুলে রইল পা থেকে তার ওজন সরানোর জন্যে। হিল্টো ও বে শেষ রথে পশ্চাৎ রক্ষী হলো।
অ্যাশিরিয়ান ব্যবসায়ী যে তাদের কাছে কার্পেট বিক্রি করেছিল সে তার চাকর ও দাসদের নিদের্শনা দিচ্ছিল এবং তারা নির্দেশে ওয়াগন ও টানা প্রাণীগুলোতে মালপত্র বোঝাই করছিল। যখন তারা অতিক্রম করল সে তাদের দেখার জন্য ঘুরল এবং টাইটাকে বিদায় সম্ভাষণ জানাল। কিন্তু তার আকর্ষণটা আরো দ্রুততর হলো যখন দেখল রথে একটা মেয়ে রয়েছে। এমনকি ধুলোময় কাপড় ও এলোমেলো চুলেও মেয়েটির আকর্ষণীয় চেহারাটা ঢাকতে পারছিল না। সে তাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল যখন তারা শেষ উত্থানে উঠল ও বনের ভেতর অদৃশ্য হল তখনও। পূর্ব দিকে ক্যারাভানের রাস্তার বরাবর তারা চলল যা তাদের সবশেষে লোহিত সাগরের তীরে নিয়ে যাবে।
*
টর্ক যখন তার সৈন্য বাহিনী শহরের ফটকের সামনে সবার জড়ো হওয়ার অপেক্ষা করছিল তখন সে কর্নেল টলমাকে আদেশ দিল যেন সে তার লোকদেরকে অ্যাভারিসের দেয়ালের বাইরে ভিক্ষুক ও বিদেশিদের ক্যাম্পে তল্লাশির নিতে পাঠায়। প্রতিটি কুঁড়ে ভেঙে ফেল। নিশ্চিত কর যে রাণী মিনটাকা ওগুলোর কোনটায় লুকিয়ে নেই। টাইটা, ওয়ারলককেও খুঁজো। প্রতিটি লম্বা, শুকনা বৃদ্ধ যাদের তোমরা পাবে আমার কাছে নিয়ে আসবে। আমি নিজে তাদের প্রশ্ন করবো।
কুঁড়েগুলোর মধ্য থেকে চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ, দরজা ভাঙার আওয়াজ ও পাতলা দেয়ালগুলো গুঁড়িয়ে ফেলার শব্দ ভেসে এল। টলমার লোকেরা তার আদেশ পালন করছে যথাযথভাবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দল দুটি ফিরে এল। সাথে করে। তারা একজন খিটখিটে বৃদ্ধা বেদুঈনকে নিয়ে এল টানতে টানতে। টর্কের রথের পাশে তাকে দাঁড় করানো হলো। মহিলাটি রক্ষীদের উদ্দেশ্যে পাগলের মতো গালি দিচ্ছিল সেই সাথে সে তাদের লাথি মারল ও তাদের মুঠির মধ্য থেকেই লড়াই করার চেষ্টা করল।
এ কে, সৈন্য? টর্ক জানতে চাইল যখন তারা মহিলাটিকে তার পায়ের কাছে নিক্ষেপ করল। সৈন্যটি একজোড়া সুন্দর সোনার জুতা ধরে আছে, কচ্ছপের নাল দিয়ে সাজানো যা টর্চের আলোক জ্বলজ্বল করছে। মহামান্য, আমরা এগুলো তার কুঁড়ের ভেতর পেয়েছি।
ওগুলো চিনতেই টর্কের চেহারা রাগে কালো হয়ে গেল এবং সে মহিলাটির পেটে লাথি বসাল সজোরে। তুমি এগুলো কোথা থেকে চুরি করেছ, নোংরা বৃদ্ধা বেবুন?
কখনো আমি কিছুই চুরি করি নি, মহান ফারাও; সে আর্তনাদ করল। সে আমাকে ওগুলো দিয়েছে।
সে কে ছিল? আমাকে সরাসরি উত্তর দাও, নইলে আমি তোমার মাথা তোমার পাছার ভেতর ঢুকিয়ে দিব।
বৃদ্ধ লোকটি, সে ওগুলো আমায় দিয়েছে।
আমার কাছে তার বর্ণনা দাও।
সে লম্বা ছিল এবং শুকনোও।
বয়স কতত হবে?
মরুর পাথরের মতই বৃদ্ধ সে। সে লোকটাই ওগুলো আমায় দিয়েছে।
আরো তিনজন লোক ছিল এবং একটা সুন্দরী ছোট বেশ্যা, সে সুন্দর একটা কামিজ পড়ে ছিল এবং মুখে প্রসাধন ও চুলে তার ফিতা বাঁধা ছিল।
টর্ক তাকে এক ঝটকায় টেনে দাঁড় করাল এবং তার হতভম্ব চেহারার উপর ঝুঁকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল; তারা কোথায় গেছে, কোন পথে?
