আর বেশি দূর নয়। সে তাকে বলল এবং তার হাত টেনে নিল তাকে দ্রুত চালতে সাহায্য করতে। বে আমাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত করে রাখবে। আমরা ব্যাবলিয়নের বাকি পথ রাজকীয় ভাবেই যাবো।
মিনটাকা হাসল। কিন্তু তা ছিল জোর করা ও যন্ত্রণাকর এক শব্দ। আর ঠিক তখনই সে বুঝল যে তার কোন একটা সমস্যা হয়েছে।
কি তোমায় যন্ত্রণা দিচ্ছে? সে জানতে চাইল।
কিছু না। মিনটাকা বলল। আমি প্রাসাদে অনেক দিন ধরে বন্দী ছিলাম। আমরা পা নরম হয়ে গিয়েছে।
নেফার এটা আশা করেনি। সে তাকে টেনে নিয়ে রাস্তার পাশে পাথরে তাকে জোর করে বসাল। তারপর একটা পা তুলে স্যান্ডেলের ফিতা খুলে দিল। মিনটাকা স্বস্তি পেয়ে তাকে আঁকড়ে ধরতেই নেফার বলল; হায় হুরাস! তুমি কিভাবে এটা দিয়ে এতো কদম চললে?
শক্ত বেঠিক স্যান্ডেল তার পায়ের পাতার ছাল তুলে তাকে মারাত্মক আহত করেছে। চাঁদের আলোয় পায়ের রক্ত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। সে অন্য পা তুলল এবং আলতো ভাবে স্যান্ডেল খুলে দিল। জুতার সাথে করে এবার চামড়া ও মাংসের এক খন্ড উঠে এল।
আমি দুঃখিত। সে ফিসফিস করে বলল, চিন্তা করো না আমি খালি পায়ে যেতে পারব।
রাগান্বিত হয়ে সে রক্তমাথা পাদুকাদ্বয় পাথরের দিকে ছুঁড়ে দিল। তোমার উচিত ছিল আরো আগে আমাকে বলা। সে উঠে দাঁড়িয়ে তাকে দাঁড় করাল এবং তার পিঠটা তার দিকে ঘুরিয়ে তাকে তোলার জন্য বাঁকা করল নিজেকে। হাত দিয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরো এবং লাফিয়ে পিঠে ওঠো। তাকে পিঠে নিয়ে তারপর সে অন্যদের পিছু ধরল যারা ইতোমধ্যে বেশ সামনে চাঁদনি মরুতে কালো ছায়ার মতো চলছে।
মিনটাকার মুখ নেফারের কানের কাছাকাছি ছিল। নেফার তাকে অমনোযোগী করতে ও সহজ করে দেয়ার চেষ্টায় ফিসফিসিয়ে বলল, তোমার কেমন অনুভূতি হয়েছিল যখন তুমি আমার মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদটা শুনেছিলে?
আমি মরতে চেয়েছিলাম যাতে আমি তোমার সাথে ঐ জগতে থাকতে পারি। তারপর সে তাকে হাযোরের যাজিকার কথা বলল এবং জানালো কি ভাবে সে তার কাছে সর্প নিয়ে এসেছিল। নেফার এতোটা চমকে গেল যে সে তাকে মাটিতে নামাল এবং রাগন্বিত ভাবে তাকে গালমন্দ করল।
ওটা ছিল বোকামি। রাগে সে তার কাঁধ ধরে ঝাঁকি দিল রুক্ষভাবে। এ ধরনের কিছু আর কখনো ভাববে না, ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন।
তুমি জান না আমি তোমাকে কতো নিচু, আমার প্রিয়! তুমি কল্পনা করতে পারবে না আমার কেমন লেগেছে যখন আমি শুনেছি তুমি নেই।
আমাদের অবশ্যই একটা চুক্তি করতে হবে। আমরা অবশ্যই আজ থেকে সামনের দিন গুলিতে একে অন্যের জন্য বাঁচবো। আমরা আর কখনোই মরার কথা ভাববো না যতোক্ষণ না তা আপন নিয়মে আসবে। আমাকে ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করো।
আমি তোমাকে ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম। এখন থেকে আমি একমাত্র তোমার জন্যেই বেঁচে থাকবো। সে বলল এবং তর্কের সমাপ্তি টানতে তাকে চুমু খেল। সে তাকে তার কাঁধে তুলে নিয়ে চলতে লাগল আবার।
প্রতি কদমে তার ওজন মনে হল যেন বাড়ছে। যেখানে রাস্তা নরম ও বালুময় সে তাকে সেখানে নামাল এবং মিনটাকা তার উপর ঝুঁকে রক্তাক্ত পা নিয়েই তার পাশে খুঁড়িয়ে চলল। ভূমিটা আবার রুক্ষ ও পাথুরে হতেই সে তাকে পুনরায় কাঁধে তুলে সামনে বাড়ল তখন। মিনটাকা তখন তাকে বলল কিভাবে টাইটা তাকে দূর থেকে দেখেছে এবং তাকে তার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করেছে। এটা ছিল অসাধারণ অনুভূতি; সে জানাল, যেন সে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং পরিষ্কার কণ্ঠে আমার সাথে কথা বলছিল। সে আমাকে বলল যে তুমি এখনও জীবিত। কত দূরে ছিলে তোমরা যখন সে আমায় দেখছিল?
আমরা তখন দক্ষিণে গেবেল নাগার ছিলাম। অ্যাভারিস থেকে পনের দিনের পথ।
সে এতো দূরে পৌঁছাতে পারে? মিনটাকা অবিশ্বাস্য ভাবে প্রশ্ন করল। তার ক্ষমতার কি কোন শেষ নেই?
অন্ধকারে আরো একবার তারা বিশ্রামের জন্য থামল। তখন মিনটাকা তার কাঁধে মাথা রেখে ফিসফিস করে তাকে বলল,
আমার ও টর্কের বিয়ের রাতের ব্যাপারে আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই …
না! সে দ্রুত বলে উঠল। আমি তা শুনতে চাই না। তুমি কি ভেবেছো যে আমি নিজেকে এই চিন্তায় প্রতি দিন কষ্ট দিই নি?
তোমাকে অবশ্যই আমার কথা শুনতে হবে, আমার হৃদয়। আমি কখনোই তার স্ত্রী ছিলাম না। যদিও সে আমাকে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে। আমি তাকে প্রতিরোধ করতে পেরেছি। তোমার ভালোবাসা তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার শক্তি দিয়েছিল আমাকে।
আমি শুনেছি সে প্রাসাদে জনতার উদ্দেশ্যে ভেড়ার গালিচায় লাল দাগ দেখিয়েছে। শব্দগুলো তার কাছে যন্ত্রণাদায়ক ছিল এবং সে তার মুখ ঘুরিয়ে নিল।
হ্যাঁ, তা আমার রক্ত ছিল; সে বলল এবং সে তার আলিঙ্গন থেকে সরে যাবার চেষ্টা করল কিন্তু সে তাকে ধরে রাখল বন্ধনে। ওটা আমার কুমারীত্বের রক্ত ছিল না। তা ছিল আমরা নাক ও মুখের রক্ত। আমাকে বাধ্য করার জন্য টর্ক তা মেরে বের করেছিল। দেবীর জন্য আমার যে ভালোবাসা আছে এবং তোমার পুত্র ধারণের আশার নামে আমি শপথ করে বলছি যে আমি এখনো কুমারী এবং ততোদিন থাকবো যতোদিন না তুমি আমার ভালোবাসার প্রমাণ দিতে আমার কুমারীত্ব আমার কাছ থেকে গ্রহণ করবে।
নেফার তাকে সজোরে জড়িয়ে ধরল এবং চুমু খেল। স্বস্তি ও আনন্দে তার চোখে জল এল এবং সেও তার সাথে কাঁদল।
