আপনার আদেশে, মহান ফারাও, আমি সব সুন্দর পণ্য প্রদর্শনের জন্য রাণীর সম্মুখে যে কোন ব্যবসায়ীকে ঢুকতে দিয়েছি।
কোন কার্পেট বিক্রেতা ছিল? যে সর্ব শেষে এই মহলে প্রবেশ করে।
কার্পেট বিক্রেতা? সোলেথ এই প্রশ্নে ভয়ে বিস্মিত হল।
টর্ক আবারও তাকে লাথি মারল সজোরে। হ্যাঁ, সোলেথ, কার্পেট! তার নাম কি?
আমার এখন সব মনে পড়ছে। কার্পেট ব্যবসায়ীটা এসেছিল সামারকাদের কার্পেট নিয়ে। তার নামটা আমি ভুলে গেছি।
আমি তোমার মনে করার ব্যাপারে সাহায্য করছি। বলেই সে রক্ষীদের আদেশ দিল, তাকে বিছানায় শক্ত করে ধরো।
সাথে সাথে তারা তাকে জোরে বিছানায় চিৎ করে শুইয়ে মাথাটা নিচের দিকে চেপে ধরল। তারপর মেঝেতে পড়ে থাকা তলোয়ারের বেল্ট থেকে তার অস্ত্রটা তুলে নিল টর্ক। জামা খুল। রক্ষীদের একজন সাথে সাথে আদেশ পালন করল। আমি জানি প্রাসাদের অর্ধেক প্রহরী এ পথ দিয়ে আসা যাওয়া করে। টর্ক তার তলোয়ারের আগা দিয়ে সোলেথের মলদ্বার স্পর্শ করে বলল। কিন্তু তাদের কারো এতো সাহস বা স্পর্ধা নেই। এখন বলল কার্পেট ব্যবসায়ীটা কে ছিল।
আমি আমার জীবিকা ও নীলের পবিত্র জলের কসম খেয়ে বলছি আমি তাদের চিনি না।
তোমার জন্য তা সত্যি খুব করুণ। কথাটা বলেই টর্ক তর্জনী সমপরিমাণ তলোয়ারে চোখা প্রান্ত তার মল নালিতে প্রবেশ করিয়ে দিল। সোলেথ জোরে কম্পিত গলায় আর্তনাদ করে উঠল।
এটা শুরু, মাত্র অগ্রভাগ ঢুকিয়েছি; টর্ক তাকে সর্তক করল। যদি তুমি তা খুব উপভোগ কর তাহলে ব্রোঞ্জের পুরো ফলাটা তোমার গলা পর্যন্ত ঢুকিয়ে দিতে পারি।
টাইটা ছিল। সোলেথ চিৎকার করে জানাল। ফিনকি দিয়ে তার শরীর থেকে রক্ত বের হল। টাইটা তাকে নিয়ে গেছে।
টাইটা। টর্ক বিস্ময়ে বলে উঠল এবং ঝাঁকি দিয়ে ফলাটা বের করল। টাইটা, ম্যাগোস! তার কণ্ঠে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভয় ফুটে উঠল।
তারপর দীর্ঘ সময়ের জন্যে জন্য চুপ হয়ে গেল সে। অবশেষে রক্ষীদের যারা সোলেথকে ধরে ছিল তাদের সে আদেশ দিল, ওকে ছেড়ে দাও।
সোলেথ ফেঁফাতে ফেঁফাতে উঠে বসতেই বুদবুদ করে পয়নালি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে সজোরে গ্যাস বের হলো তার পেট থেকে।
সে তাকে কোথায় নিয়ে গেছে? শব্দ ও অস্বস্তিকর দুর্গন্ধটা এড়িয়ে টর্ক প্রশ্ন করল, যা ইতোমধ্যে কক্ষটা দূষিত করে দিয়েছে।
সে আমাকে তা বলে নি। লিলেন চাদর বাধতে বাধতে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে জানাল সোলেথ। রক্ত থামানোর জন্য সে দুই পায়ের মধ্যে কাপড় খুঁজে দিল। টর্ক তলোয়ারের তীক্ষ্ণ প্রান্ত উঠিয়ে তা তার একটি নগ্ন স্তনে ঠেকাল, সোলেথ কাতর কণ্ঠে কেঁদে উঠল এবং আবার বায়ু নিসর্গণ করল। সে আমাকে তা বলে নি। তবে আমরা টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিসের মধ্যকার রাজ্য নিজে কথা বলেছিলাম। হতে পারে সে রাণীকে সেখানে নিয়ে গেছে।
টর্ক বিষয়টা নিয়ে ভাবল। এটা যুক্তিসঙ্গত। হয়তো টাইটা এখন মিশর ও পূর্ব রাজ্যেগুলোর খারাপ সম্পর্কের কথা জানে। সম্ভবত সে জানে যে সেখানে সে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা পাবে। অবশ্য যদি ততদূর পর্যন্ত সে পালাতে পারে। স্বর্ণ ও ধন-সম্পদের প্রতি টাইটা তার নির্লোভের জন্য পরিচিত। এ ঘটনা কোন কুরুচিপূর্ণ উদ্দেশ্যে হতে পারে না। যেহেতু সে একজন বৃদ্ধ খোঁজা সেহেতু টাইটা শারীরিক সম্পর্কে সামর্থ নয়। তবে কি তা বৃদ্ধ লোক ও মেয়েটার বন্ধুত্বের খাতিরে? সে কি তাকে অনুরোধ করেছে তাকে অ্যাভারিস থেকে এবং বিবাহ থেকে, যা তার জন্য খুব যন্ত্রণাদায়ক তা থেকে পালাতে সাহায্য করতে? এটা নিশ্চিত, তার সাথে মিনটাকা নিজ ইচ্ছায় গিয়েছে এবং খুব সম্ভবত আনন্দের সাথে। যেভাবে তার দাস মেয়েরা তার পালিয়ে যাওয়াটা গোপন করতে চেয়েছে ব্যাপারটা তাই পরিষ্কার প্রমাণ করে। সে কোন চিৎকার করেনি, কারণ যদি সে তা করত তাহলে রক্ষীরা তা শুনত।
দুইজন কর্নেল এখনো ভোজ কক্ষে রয়েছে, খাবার ও মদ গিলছিল, যদিও তারা আর বেশিক্ষণ এখানে পানের জন্য থাকবে না।
মাঝ রাতের পূর্বে পূর্ব দিকে যেতে আমরা কয়টি রথ চালোনার লোক পেতে পারি? টর্ক জানতে চাইল। তাদের হতভম্ব দেখাল, কিন্তু তারা ছিল যোদ্ধা এবং তার রাগান্বিত মেজাজের প্রতি সতর্ক সাড়া দিল।
কর্নেল টলমা মুখ ভর্তি মদ যা প্রায় সে গিলতে যাচ্ছিল তা ফেলে দিল এবং লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল, শুধু একটু টলল এই যা। দুই ঘণ্টার মধ্যে আমার পঞ্চাশটি রাস্তায় পেতে পারেন? বোকার মতো বলল সে।
মাঝ রাতে পূর্বে একশটা আমার নিয়ন্ত্রণে আনবো। কর্নেল যানদার লাফিয়ে উঠল, আরো আধিক্ষেত্যা দেখিয়ে বলল, এবং আরো একশটি ভোরে আগে পূর্বে দিকে ছুটবে।
*
পূর্ণিমার এক দিনের আগের চাঁদের আলোতে টাইটা তাদের পথ দেখাল। তার লাঠির অগ্রভাগ পাথুরে রাস্তার ঠক ঠক শব্দ করে চলল এবং তার ছায়া তার আগে একটা দানব কালো বাদুরের ন্যায় ফুরফুর করে চলছিল। অন্যেরা তাকে অনুসরণ করে গেল, তার সাথে তাল মেলাতে তাদের পা দ্রুত টানতে হচ্ছে।
মধ্য রাতের পর মিনটাকা ক্রমশ দুর্বল হতে লাগল। সে খুব খোড়চ্ছিল এবং পিছিয়ে পড়ছিল ধীরে ধীরে। নেফার তাকে সঙ্গ দিতে পদক্ষেপ ছোট করল। কিন্তু সে মিনটাকার কাছ থেকে এমনটা আশা করে নি। সে ভালো করেই জানে স্বাভাবিক সময়ে সে যে কোন বালকের মতই শক্তিশালী এবং তাদের অধিকাংশকে দৌড়ে ছাড়িয়ে যাবার সামর্থ রাখে। সে বিড়বিড় করে তাকে উদ্বুদ্ধ করল, টাইটা কানে না পৌঁছানোর মতো জোরে বলল। সে চাইছে ম্যাগোস যেন মিনটাকার দুর্বলতাটা না বুঝে এবং অন্যদের সামনে তাকে লজ্জা দিক।
