একটা হাড় শুদ্ধ মাংস হাতে তুলে কামড় দিতে দিতে সে বেরিয়ে গেল এবং মুখ ভর্তি চর্বি যুক্ত শূকরের মাংস গিলে ঢেঁকুর তুলল। দুইজন দাস আগে আগে মশাল নিয়ে অন্দর মহলের উদ্দেশ্যে তার রাস্তা আলোকিত করতে এগিয়ে চলল। মিনটাকার কক্ষের সামনে খোঁজা রক্ষীরা তার পদধ্বনি শুনল যা এগিয়ে আসছে। তারা তাকে সজোরে স্যালুট করল বুকের উপর আড়াআড়ি করে অস্ত্র রেখে।
খোল? শূকরের হাড়টা একপাশে ফেলে দিয়ে টর্ক আদেশ করল ও চর্বি মাখা হাতটা নিজের স্কার্টের কাপড়ে মুছল।
মহামান্য! একজন রক্ষী তাকে পুনরায় স্যালুট করল ভয়ার্ত ভাবে। দরজায় খিল দেওয়া।
কার আদেশে? টর্ক হিংস্রভাবে জানতে চাইল।
মহামান্য রাণী মিনটাকার আদেশে।
সেথের কসম, আমি এসব একদম পছন্দ করি না। ওই অহংকারী বাজে মেয়েটা জানে আমি এখানে। তীব্র রাগ প্রকাশ করে টর্ক তলোয়ার বের করে তলোয়ারের মাথা দিয়ে দরজায় আঘাত করল। কোনো উত্তর না পেয়ে সে চেষ্টা চালাল আবার। আঘাতের শব্দ নিরব বারান্দায় প্রতিধ্বনি তুলল কিন্তু তবুও দরজার ওপাশে কোন জীবনের সাড়া মিলল না। অগ্যতা পিছু সরে কাঁধ দিয়ে সে সজোরে দরজায় ধাক্কা দিল। ওটা কাপল কিন্তু ভাঙল না। রাগে কাছাকাছি দাঁড়ানো রক্ষীর হাত থেকে বর্শা নিয়ে দরজাটা সে কোপাতে লাগল, কাঠের ছোট টুকরো সমূহ ফলার আঘাতে ভাঙতে লাগল একে একে। আরো কয়েক আঘাতে সেখানে একটা চওড়া গর্ত তৈরি হল। টর্ক তার মধ্য দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দরজার অন্য প্রান্তে থাকা খিল খুলে ফেলল। তারপর লাথি মেরে দরজা খুলে মার্চ করে ঘরে প্রবেশ করল। ভয়ার্ত দাসীরা আতংকিত হয়ে তখন অন্য পাশের দেয়ালের সাথে সেটে আছে। তোমাদের মালকিন কোথায়?
তারা অসংলগ্ন প্রলাপ বকল। কিন্তু তাদের দৃষ্টি ছিল শোবার ঘরের দরজার দিকে। টর্ক সে দিকে এগোতেই মেয়েরা চিৎকার দিয়ে উঠল।
তিনি অসুস্থ।
তিনি আপনার সাথে দেখা করতে পারবেন না।
তিনি এখন ঋতুবতী।
টর্ক হাসল। সে প্রায়শ ঐ একই বাহনা করে। বলেই সে দরজায় সজোরে আঘাত করল। যদি রক্ত থাকেই তাহলে তা রক্তের নদী হয়ে যাওয়া ভালো মানাসির ময়দানে যতো রক্ত আমি ঝড়িয়েছি তার চেয়ে বেশি। সেথের কসম, আমি তাকে তাতে ভাসিয়ে সুখের সিংহদ্বারে পৌঁছে দেবো। বলেই শোবার ঘরের দরজায় সে লাথি মারল। খোল, ছোট ডাইনী! তোমার স্বামী তোমাকে তার দায়িত্ব ও সম্মান দেখাতে এসেছে।
পরবর্তী লাথিতে দরজা পুরোপুরি খুলে গেল এবং টর্ক সশব্দে ভেতরে প্রবেশ করল। খাঁটিয়াটা আফ্রিকার আবলুস কাঠের তৈরি এবং রুপা ও মুক্তোয় খচিত। তার উপর লিনেন চাদরের নিচে তার স্ত্রী-র শরীর ঢাকা এবং কিন্তু একটা ছোট পা বেরিয়ে আছে। টর্ক তার তলোয়ারের বেল্ট মেঝেতে ফেলে দিয়ে তাকে ডাকল, আমাকে কি তুমি খুব মনে করেছ, আমার ছোট্ট গোলাপ? তুমি কি আমার ভালোবাসার বন্ধনের প্রতীক্ষা করছো?
সে তার নগ্ন পা ধরে মেয়েটিকে চাদরের নিচ থেকে সোজা টেনে বের করল। এসো আমার মিষ্টি ভেড়ীর বাচ্চা। তোমার জন্য আমার কাছে আজ একটি অন্য রকম উপহার আছে। এতো বড় ও শক্ত যে তুমি তা এবার আর বিক্রি করতে বা কাউকে দিতে পারবে না। সে কথা বলতে বলতে থেমে গেল এবং নাকি কান্নারত ভয়ার্ত মেয়েটার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল।
টিনিয়া, নোংরা ক্ষুদ্র বেশ্যা, তুই তোর মালকিনের বিছানায় কি করছিস? উত্তরের অপেক্ষা না করেই টর্ক তাকে মেঝেতে ফেলে দিল এবং উত্তেজিত ভাবে ঘরে ছোটাছুটি করল, পর্দা উঠিয়ে মিনটাকাকে খুঁজে দেখল। তুমি কোথায়? সে বাথরুমের দরজায় লাথি মারল, বেরিয়ে এসো। এই ছেলেমানুষীপনার জন্যে তোমাকে একটু বেশি মূল্য দিতে হবে।
মিনটাকা যে লুকিয়ে নেই তা নিশ্চিত হতে তার মাত্র কয়েক মুহূর্ত লাগল, তারপর দৌড়ে টিনিয়ার কাছে গিয়ে তার চুল ধরল। তাকে মেঝের উপর টেনে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, সে কোথায়?। বলেই টিনিয়ার পেটে লাথি বসাল একটা। মেয়েটি আর্তনাদ করে গড়িয়ে তার ধাতুর জুতা থেকে রক্ষা পেতে চাইল। আমি এটা তোর শরীরে ভাঙ্গব, আমি তোর শরীরের প্রতি ইঞ্চি ছাল তুলে নেবো।
তিনি এখানে নেই। টিনিয়া চিৎকার করল। তিনি চলে গিয়েছেন।
কোথায়! টর্ক আবার তাকে লাথি দিল। তার যুদ্ধ জুতায় ব্রোঞ্জের নখর লাগানো, ওগুলো তার নরম মাংসের মধ্য দিয়ে চাকুর ফলার ন্যায় প্রবেশ করল। কোথায়?
আমি জানি না। চেঁচিয়ে বলল।লোক এসেছিল এবং তাকে নিয়ে গেছে।
কোন লোক? সে আবার তাকে লাথি মারল এবং বলের মতো টিনিয়া গড়িয়ে গেল। তার সারা শরীর কাঁপছে।
আমি জানি না। টাইটার নির্দেশ সত্ত্বেও সে তার প্রিয় মালকিনকে থোকা দিতে পারে না। অপরিচিত লোক আমি তাদের পূর্বে কখনো দেখি নি। তারা তাকে একটি কার্পেটে পেঁচিয়ে বয়ে নিয়ে চলে গেছে।
তাকে শেষ একটা নিষ্ঠুর লাথি মেরে টর্ক দরজার দিয়ে বের হলো দ্রুত। সে খোঁজা রক্ষীদের উদ্দেশ্যে চেঁচাল। সোলেথকে খোঁজ করো, এখনই মোটা কীটটাকে এখানে নিয়ে এসো।
সোলেথ তার মসৃণ সুডৌল হাত নুইয়ে ডলতে ডলতে এল। মহান ফারাও! প্রভুদের মধ্যে সবচেয়ে মহান, এই মিশরের মহা ক্ষমতাধর! টর্কের পায়ের কাছে সে তার নিজেকে সমর্পণ করল।
টর্ক তার সুসজ্জিত বুট দিয়ে তাকে লাথি মারল। এই লোক কারা যাদের তুমি আন্দর মহলে ঢুকতে দিয়েছিলে।
