চল! চল! ঘোড়াগুলো যুদ্ধে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তার চিৎকারে ওগুলো ডেকে ওঠল এবং চলার পথে ব্রোঞ্জের খুর দিয়ে যাকে পেল তাকে আঘাত করে গেল। নেফার দেখল এক বৃদ্ধ মহিলা দ্রুত উড়ন্ত খুরের নিচে সোজা চলে যাচ্ছে। সাথে সাথে তার মাথা ফেটে ভাগ হয়ে গেল। সেই সাথে তার দাঁত তার মুখ থেকে সাদা। শিলা পিন্ডের বিস্ফোরণের ন্যায় উড়ে গেল। খোয়া বিছানো পথে ওগুলো ছড়িয়ে পড়ল এবং সেও টর্কের রথের সামনে পড়ে গেল।
তারপর তার রথের ব্রোঞ্জের চাকার কিনারা বৃদ্ধাটির দেহের উপর উঠে গেল। নেফার আত্মরক্ষার জন্য গুটিসুটি মেরে মিটাকার কার্পেটের রোল নিয়ে বসে আছে। খুব কাছ দিয়ে যাবার সময় মুহূর্তের জন্যে তারা এক একজন অন্যজনের চোখে চোখে তাকাল। মাথায় কাপড় প্যাচানো থাকায় টর্ক তাকে চিনল না। কিন্তু সহজাত নিষ্ঠুরতায় সে নেফারের কাঁধে চাবুক দিয়ে আঘাত করল। চাবুকের ধাতব ডগা কাপড় কেটে বসে গেল এবং উজ্জ্বল রক্তের একটা দাগ পড়ল সেখানে। আমার রাস্তা থেকে সর চাষি! টর্ক ঘোত ঘোত করল। নেফার পাদানিতে উঠে টর্ককে তার দাড়ি ধরে টেনে ফেলতে উদ্যত হল, এই সে পশু যে মিনটাকাকে সংকটে ফেলেছে এবং রাগে নেফারের চেহারা লাল হয়ে গেল।
টাইটা তাকে তার কাধ ধরে থামাল। শেষ হতে দাও। কার্পেটটি ফটকের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। আমরা এখানে আটকা পড়ব, বোকা। নেফার তার মুঠি থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করল এবং টাইটা তাকে জোরে ঝাঁকি দিয়ে বলল, তুমি কি তাকে এতো তাড়াতাড়ি আবার হারাতে চাও?
সাথে সাথে নেফার তার মেজাজের উপর তার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল। সে ঝুঁকে কার্পেটের এক প্রান্ত ধারল এবং অন্যরা তাকে সাহায্য করল। তারা দৌড়ে ফটকের দিকে এগিয়ে গেল, কিন্তু রথের বহর তখনও সেখানে ছিল এবং রক্ষীরা কাঠের দরজাটা দোলাচ্ছিল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। টাইটা দৌড়ে এগিয়ে গেল এবং তার লাঠি দিয়ে রক্ষীদের ধাক্কা দিল। একজন দ্বার রক্ষক তার মাথার উপর একটা গদা উঠাতেই টাইটা ঘুরে সম্মোহনী চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল এক দৃষ্টিতে। লোকটি এমন করে গুটিয়ে গেল যেন কোন নর খাদকের সামনে পড়েছে।
কার্পেট সহ তারা প্রায় বন্ধ হওয়া ফটকের মাঝ দিয়ে কোন রকমে বেরিয়ে শহরের দেয়ালের নিচের ক্যাম্পে বরাবর ছুটল। তাদের পিছনে রাগান্বিত চিৎকার শুনা গেল তখনও। এক সময় তারা রক্ষীদের দৃষ্টির আড়ালে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেল। একটি ছাগলের খোয়াড়ের দেয়ালের পিছনে এসে বোঝাটি মাটিতে নামিয়ে তা খুলতেই প্রায় শ্বাসরুদ্ধকর মিনটাকা উঠে বসল। সে নেফারকে দেখে তৃপ্তির হাসি দিল যে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। তারা একজন অপর জনের দিকে হাত বাড়াল এবং আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরল দীর্ঘক্ষণ ধরে।
টাইটার কথায় তারা বাস্তবে ফিরল। টর্ক অপ্রত্যাশিতভাবে ফিরে এসেছে, সে মিনটাকাকে বলল। তুমি নেই এটা আবিষ্কার করতে তার বেশি সময় লাগবে না। সে টেনে মিনটাকাকে দাঁড় করাল। আমরা ওয়াগনটা হারিয়েছি। সামনে আমাদের পায়ে হেঁটে অনেক পথ যেতে হবে। আমরা যদি এখনই রওনা না দিই তবে মরুদ্যানে যেখানে রথ রেখে এসেছি সেখানে পৌঁছতে আমাদের আগামীকাল সন্ধ্যে হয়ে যাবে।
সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেল মিনটাকা। আমি প্রস্তুত। সে বলল।
টাইটা তার পায়ের পাতলা স্বর্ণের স্যান্ডেলের দিকে এক নজর দেখল যা কচ্ছপের ঘুন্টি দ্বারা সাজানো। কোন কিছু না বলে সে কুটিরের মধ্যে চলে গেল। কয়েক মিনিট পর সে ফিরল একজন অসংবৃত বৃদ্ধ মহিলাকে সাথে নিয়ে। বৃদ্ধাটি এক জোড়া পুরানো কিন্তু শক্ত চাষির স্যান্ডেল পড়ে আছে। আমি তোমার গুলোর সাথে এগুলো বিনিময় করছি। সে বৃদ্ধার স্যন্ডেল দেখিয়ে বলল। মিনটাকা প্রতিবাদ করল না বরং সুন্দর স্যান্ডেল জোড়া খুলে সে বৃদ্ধ মহিলাকে দিল। তড়িঘড়ি করে বৃদ্ধা তা হাতে নিল, পাশে কেউ ওগুলো ফিরিয়ে নেয়। তারপর মিনটাকা উঠে দাঁড়াল। আমি প্রস্তুত। সে বলল। কোন পথে, ম্যাগোস।
নেফার মিনটাকার হাত ধরল। চেয়ে দেখল তারা টাইটার পিছনে পড়ে গেছে, কেননা ততোক্ষণে ম্যাগোস বড় বড় পায়ে মরুর দিকে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে।
*
ধুলোয় মাখা ঘোড়াগুলোকে উঠানে রেখে টর্ক প্রাসাদের ফটক পেরিয়ে তার নিজের সুসজ্জিত কোয়ার্টারের এল। সিংহ দলের সদস্য এবং তার বিশেষ সঙ্গীরা তাদের অস্ত্র ও বর্ম দিয়ে ঠনঠন শব্দ করে শ্লোগান দিতে দিতে ভোজন কক্ষে এল তার পিছু পিছু। প্রাসাদের দাসরা ফারাওকে স্বাগত জানাতে এক ভোজের আয়োজন করেছে। টর্ক এক বাটি মিষ্টি লাল মদ এবং বন্য শূকরের পশ্চাদদেশের সিদ্ধ মাংস নিল।
খাবার ও পানীয় ছাড়া আমার আরো কিছু দরকার। সে তার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে চোখ টিপ মারল। তারা অট্টহাসি দিয়ে একে অন্যকে কুনই দিয়ে গুতো মারল। টর্ক জানে আর্মিদের মধ্যে তার বিয়ের বিষয়টি মুখরোচক এবং যেভাবে নতুন স্ত্রী তার সাথে আচরণ করে তা সত্যিই সম্মান হানিকর। দক্ষিণের বিদ্রোহ দমন এবং কঠোর বিজয় সত্ত্বেও সে তাদের কাছে এমন একজন হয়ে আছে যেন সে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আর আজ রাতেই সে তা বদলে দিতে সংকল্প বদ্ধ।
দুইটা বলদের চেয়ে অধিক খাবার আছে এবং একটা জল হস্তি ডোবার চাইতে বেশি মদ। টর্ক কলরব রত লোকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ল। তোমাদের যতো মন চায় উপভোগ কর, কিন্তু আমাকে কাল সকালের আগে পাচ্ছে না। আমাকে একটা জমিতে চাষ করতে হবে এবং একটা অসাধ্য হুঁকড়িকে আমার ইচ্ছায় ভাঙতে হবে।
