তোমাকে যা বলা হয়েছে তা করো। মিনটাকা সিংহীর মতো গর্জন করল। যাও, বোকা যাও! দ্বিধান্বিত দাস তার ফলা খাপে ভরে ফিরে গেল। মিনটাকা এখনো নেফারের দিকে চেয়ে আছে। তার চোখ বড় ও কালো, তার সঙ্গী মেয়েরা বুঝল না তার কি হল। তারা শুধু বুঝতে পারছে অদ্ভুত কিছু একটা হয়েছে। দাসটি চলে যেতেই দরজার পর্দা আবার পড়ে গেল। নেফার তার মাথা ঢেকে রাখা কাপড়টা খুলতেই তার কোঁকড়া চুলগুলো কাঁধের উপর ছড়িয়ে পড়ল।
আবার চিৎকার করে উঠল মিনটাকা। ওহ্ হাহোর, তুমি! সত্যি তুমি! আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আর কখনো আসবে না। সে প্রায় উড়ে তার কাছে ছুটে গেল। আলিঙ্গনে ঢেকে দিল তাকে। দীর্ঘক্ষণ তারা একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরে রইল। অসঙ্গতভাবে একজন আরেকজনের প্রতি ভালোবাসার কথা ও তারা একে অন্যকে কতখানি অনুভব করছে চেষ্টা করল বলার। দাসী মেয়েরা তাদের বিস্মিত অবস্থা থেকে নিজেদের ফিরে পেতেই হাততালি দিয়ে নাচতে লাগল তাদের চতুর্দিকে। আনন্দ ও উত্তেজনায় কান্না করল যতোক্ষণ না টাইটা তাদেরকে তার লাঠির কয়েকটি দুপদুপ আওয়াজ দিয়ে শান্ত করাল।
ঐ বোকার মত চেঁচামেচি থামাও। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাহলে সব রক্ষীর এখানে চলে আসবে। সে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার পর হিল্টো ও ম্যারনের দিকে ঘুরে সবচেয়ে বড় কার্পেটটি টাইলসের উপর ছড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিল।
মিনটাকা আমার কথা মনযোগ দিয়ে শোন, এ সবের জন্য পরে অনেক পাওয়া যাবে।
মিনটাকা তার দিকে ঘুরল কিন্তু হাতটা তার নেফারের কাঁধের উপর রইল।
তুমিই তাহলে আমায় ডেকে ছিল, তাই না? আমি তোমার কণ্ঠ অনেক স্পষ্ট শুনেছি। যদি তুমি আমাকে না থামাতে তাহলে আমি হয়তো…
আমার মনে হয় এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার চাইতে বেশি জ্ঞানীর কাজ হবে এ বুঝা যে সবাই অনেক বিপদের মধ্যে রয়েছি। টাইটা তাকে তার কথা শেষ করতে দিল না।
আমরা তোমাকে প্রাসাদ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার জন্যে কার্পেটের মধ্যে লুকাতে যাচ্ছি। এখন তাড়াতাড়ি কর।
আমি কি তৈরি হতে সময় পেতে পারি …
না। টাইটা বলল। আমার কথা শুনা ছাড়া তোমার কাছে আর কিছুর কোন সময় নেই।
সে আরেক বার নেফারকে চুমু খেল, একটা দীর্ঘস্থায়ী আলিঙ্গন তারপর দৌড়ে এসে নিজেকে পুরোপুরি কার্পেটের উপর ছড়িয়ে দিল। সে তার সঙ্গী মেয়েদের দিকে তাকাল যারা অবাক হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। টাইটা যা বলে তা তোমরা করো।
আপনি আমাদের ছেড়ে যেতে পারেন না, মালকিন, তার প্রিয় টিনিয়া আর্তনাদ করল। আপনাকে ছাড়া আমরা থাকতে পারবো না।
এটা বেশি দিনের জন্যে নয়। মিনটাকা বলল, আমি ওয়াদা করছি আমি তোমাকে নিতে পাঠাবো। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত সাহস রাখো টিনিয়া এবং আমাকে নিরাশ করো না। মিনটাকাকে লাল কার্পেটটায় পাচাতে নেফার হিল্টো এবং ম্যারনকে সাহায্য করল। একটা লাল বড় জলজ উদ্ভিদের এক প্রান্ত তার দুই ঠোঁটের মাঝে রাখল এবং অন্য প্রান্তের ভারি কাপড় তার থেকে কয়েক ইঞ্চি বের করে রাখল যা তাকে দম নিতে সহায়তা করবে।
ইতোমধ্যে টাইটা কান্নারত দাসী মেয়েগুলোকে নির্দেশনা দিল। টিনিয়া তোমাকে শোবার কক্ষে যেতে হবে এবং দরজা লাগিয়ে দিবে। নিজেকে লিনেনের চাদর দিয়ে ঢেকে রাখবে যেন সবাই বুঝে তুমি তোমার মালকিন। আর বাকিরা এখানেই থাকবে সবার দৃষ্টির মাঝে। যতোই বলা হোক তোমরা দরজা খুলবে না। যে কাউকে বলে দিবে তোমাদের মালকিন অসুস্থ এবং কারো সাথে দেখা করতে পারবে না। তোমরা কি বুঝেছ? টিনিয়া ভগ্ন হৃদয় নিয়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল। গলা থেকে তার কথা বের হতে চাইছে না। যতোটা পাররা তাদের দেরি করাবে। কিন্তু যখন তারা তোমাদের আবিষ্কার করবে এবং আর গোপন থাকতে পারবে না তখন তারা যা জানতে চায় তা বলে দিও। অযথা যন্ত্রণা ভোগ করার কোন দরকার নেই। তোমাদের মৃত্যু বা শাস্তি আমাদের গোপন রাখতে খুব কমই কাজে আসবে কেননা তারা শিকারীদের মতো এক সময় জানবেই কি ঘটতে যাচ্ছে, তোমাদের রাণী কোথায় গিয়েছে।
আমি কি রাণীর সাথে যেতে পারি? টিনিয়া বোকার মত বলল। আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
তুমি নিশ্চয়ই শুনেছছা তোমার মালকিন ওয়াদা করেছে। একবার সে নিরাপদ হয়ে গেল সে তোমাকে নিতে পাঠাবে। এখন আমরা চলে যবার পর পিছনের দরজা লাগিয়ে দাও। তারা যখন রোল করা কার্পেট তাদের কাঁধে বহন করে বের হলো বৃদ্ধ দাসটি তখনও বারান্দায় অপেক্ষা করছিল।
আমি দুঃখিত আমি তোমাদের জন্য আমার সর্বোত্তম কাজটা করতে পারিনি যেমনটা সসাথে আমাকে বলেছিল। রাণী মিনটাকা এক সময় দয়ালু ও সুখী ছিল। সে তাদের বলল, কিন্তু এখন আর নেই। তার বিবাহের পর থেকে সে দুঃখিত ও রাগান্বিত হয়ে গেছে। সে তাদের ইশারায় তাকে অনুসরণ করতে বলল এবং তাদের অন্দর মহলের গোলক ধাঁধাময় রাস্তা দিয়ে নিয়ে চলল যতোক্ষণ না অবশেষে তারা ছোট পাশের ফটকে এসে পৌঁছল। রক্ষীদের সার্জেন্টের সাথে তাদের আরেক বার মোকাবিলা হল।
ঐ কার্পেটগুলোকে খোল। সে আদেশ দিল রূঢ় কণ্ঠে।
টাইটা তার ঘনিষ্ঠ হলো এবং তার চোখের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল। সাথে সাথে সার্জেন্টের শত্রু ভাবাপন্ন অভিব্যক্তি ক্ষীণ হয়ে গেল। তাকে নরম ও দ্বিধান্বিত দেখাল। আমি দেখতে পারছি সন্তুষ্ট, তুমি সন্তুষ্টি ও সুখ অনুভব করছ। টাইটা নরম ভাবে বলল এবং একটা ধীর দাঁত বের করা হাসি লোকটির কুৎসিত কুঞ্চিত অবয়বে ছাড়িয়ে পড়তে দেখল সবাই। খুব খুশি, টাইটা বলল এবং তার হাত আলতো করে লোকটির কাঁধে রাখল।
