সেখানে পৌঁছে যখন অন্যরা গাড়ি থেকে খাবার নামাচ্ছিল, যা তারা থেইন, থেকে এনেছে; টাইটা তখন সেখানে অবস্থানরত অন্য যাত্রী দলের অ্যাশিরিয়ান প্রভু যে কাছেই ক্যাম্প করেছে তার সাথে কুশল বিনিময় করতে গেল। লোকটি দূর সাগরের ভূমি থেকে হাত ভরা নোরাং ছেঁড়া কাপড় ও বিশটি পশমের গালিচা বয়ে এনেছে। ওগুলোর মান ও উপাদান উন্নত ছিল না কিন্তু তারপরও টাইটা জিনিসগুলো অত্যাধিক দাম দিয়ে কিনে নিল। ঐ অ্যাশিরিয়ানের বাচ্চা একটা গলা কাটা ডাকাত, কার্পেটগুলো ওয়াগনে তুলতে তুলতে সে বিড়বিড় করে বলে উঠল।
তা আমাদের এসবের কি প্রয়োজন? নেফার জানতে চাইল। কিন্তু প্রশ্নটা না শোনার ভান করল টাইটা।
ঐ রাতে টাইটা তা রূপালি চুলের কেশর কুজ কন্টক গাছের বাকলের রস দিয়ে রাঙালো যা তার চেহারায় একটা নাটকীয় পরিবর্তন আনল।
খুব ভোরে অন্ধকার থাকতেই আবার সে ঘোড়াগুলো ও রথের দায়িত্ব বে-কে দিয়ে বাকিদের নিয়ে ভাঙা ওয়াগনে চড়ে বসল। ধুলোময় কার্পেটের স্তূপের উপর বসে পশ্চিমে অ্যাভারিসের দিকে চলল তারা।
সবাই টাইটার সংগ্রহ করা ছেঁড়া ও জীর্ণ কাপড় পড়েছে। টাইটা পরিধান করেছে একটা লম্বা জামা এবং তার মুখের নিচের অংশটুকো চালাডিসের অধিবাসীদের ন্যায় নেকাবে ঢাকা। কালো করে রাঙ্গানো চুলে তাকে আর ম্যাগোস বলে চেনা যাচ্ছে না।
উত্তরের রাজকীয় শহরে পৌঁছতেই তাদের সন্ধ্যা হয়ে গেল। সেখানে দেয়ালের বাইরে কয়েক হাজার মানুষের স্থায়ী বসবাস; অধিকাংশই ভিখারী, পরিভ্রমী অভিনেতা বা বিদেশী ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য অভদ্র লোকজন। তারা তাদের মাঝে ক্যাম্প করল। পরদিন সকালে ম্যারেনের কাছে ওয়াগনের দায়িত্বে ছেড়ে শহরের বাইরে সূর্যোদয়ের সময় ফটক খোলার অপেক্ষায় দাঁড়ানো ভিড়ে যোগ দিতে চলে গেল তারা।
যখন তারা শহরের রক্ষীদের পেরিয়ে গেল, হিল্টো সরাইখানা ও গণিকাগৃহের পুরানো কোয়ার্টারের সরু রাস্তা বরাবর এগিয়ে গেল যেখানে সে আশা করল তার কিছু ঘনিষ্ট বন্ধু ও পূর্বের সহযোদ্ধা খুঁজে পাবে এবং তাদের কাছ থেকে সবচেয়ে নতুন খবর সংগ্রহ করতে পরবে। টাইটা নেফারকে তার সাথে নিল এবং তারা জনাকীর্ণ সদা জাগ্রত শহরের রাস্তা দিয়ে প্রাসাদের ফটকের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করল। তারা ভিখারী, ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের সাথে যোগ দিল। টাইটা প্রাসাদে ঢোকার কোন চেষ্টা করল না, বরং সকালটা চারপাশের লোকজনের কথা শুনে এবং অন্যান্য অলসদের সাথে কথা বলে ব্যয় করল।
অবশেষে টাইটা ব্যাবিলিয়ানের এক সওদাগরে সাথে আলোচনায় যোগ দিল। তার নিজের মতই লোকটির কাপড় পড়া, যে নিজেকে নিনতুরা বলে পরিচয় দিল। একজন মেসোপটেমিয়ার অধিবাসীর মতো টাইটা আক্কাডিয়ান ভাষায় কথা বলল, কারণ সে এই বেশ নিয়েছে। ইথোপিয়া থেকে আনা দামী ও অপ্রতুল এক পাত্র কফি তারা ভাগাভাগি করল এবং নিতুরাকে মোহিত করার জন্য টাইটা তার সব কৌশল প্রয়োগ করল যে কিনা প্রাসাদের বাইরে দশ দিন যাবৎ ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তার পালা আসার অপেক্ষায় রয়েছে কখন টর্কের নতুন স্ত্রীর সামনে সে তার পণ্য প্রদর্শনের করবে। সে ইতোমধ্যে প্রাসাদে ঢুকে তরুণ বধুর সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রাসাদের উজিরকে প্রত্যাশিত চড়া বকশিশ দিয়েছে, কিন্তু তারপরও তার আগে আরো অনেকে রয়ে গেছে।
সে বলল, টর্ক তার নতুন স্ত্রীর সাথে নিষ্ঠুর ব্যবহার করছে। নতুন রাণী তাকে তার সাথে বিছানায় যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। নিতুরা মুখ টিপে হাসল, তার জন্যে সে বেশি বন্য, উত্তেজিত পুরুষ হরিণের ন্যায়। রানী তার পা আড়াআড়ি করে রাখে এবং তার ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। টর্ক মূল্যবান উপহার দিয়ে তার হৃদয় জিততে চাচ্ছে। কিন্তু তার মন গলছে না। সে সবকিছু কেনে যা তাকে সাধা হয় এবং তারপর তাকে রাগাতে সে তৎক্ষণাৎ তা বিক্রি করে দেয় পানির দরে এবং শহরের দরজায় দাঁড়ানো গরিবদের মধ্যে তা বিলিয়ে দেয়। উরুতে চাপড় দিয়ে নিতুরা হাসিতে ফেটে পড়ল। লোকে বলে সে একই জিনিস বারবার কেনে এবং টর্কও তার মূল্য পরিশোধ করতে থাকে।
টর্ক কোথায়? টাইটা প্রশ্ন করল।
সে দক্ষিণে ভ্রমণ করছে? নিনতুরা জবাব দিল। সে বিদ্রোহরে আগুন চাপা দিচ্ছে কিন্তু পিঠ ঘোরাতে না ঘোরাতে আবার আগুন তার পিছনে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রাণী মিনটাকার সামনে উপস্থিত হতে প্রাসাদে প্রবেশের জন্য আমি কার কাছে যেতে পারি?
প্রাসাদের উজির, সসাথে যার নাম, মোটা, খোঁজা উদ্ভট লোকটার কাছে। নিতুরা টাইটার শারীরিক অবস্থা বুঝতে পারে নি। টাইটা সোলেথকে তার সুনাম দিয়ে জানত এবং সে ঐ খোঁজাদের একজন যাদের মাঝে গোপন ভ্রাতৃত্বটা বিদ্যমান।
আমি তাকে কোথায় পেতে পারি? টাইটা জিজ্ঞেস করল।
তার সামনে যাবার অনুমতি পেতে হলে তোমাকে একটা স্বর্ণের আংটি দিতে হবে, নিতুরা তাকে সতর্ক করল।
৫. পদ্ম পুকুর
সোলেথ তার নিজের দেয়াল ঘেরা পদ্ম পুকুরের পাশে বসেছিল। যখন হারেমের একজন রক্ষক টাইটাকে তার কাছে নিয়ে এল তখনও সে উঠল না।
হিকস্-রা তাদের পুরোনো রীতি এতোটাই ছেড়ে দিয়ে মিশরীয় রীতি গ্রহণ করেছে যে তারা এখন তাদের স্ত্রীদের অন্দর মহলে আবদ্ধ করে রাখে না। খোঁজারা এখনো তাদের পূর্ব ক্ষমতা রাজ মহিলাদের উপর অনেকটা প্রয়োগ করে, কিন্তু যখন সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করা হয় তারা অনেক স্বাধীনতা পায়। তারা বিদেশ যেতে পারে, নদীতে তাদের আনন্দের জন্য নৌকা ভাসাতে পারে, ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে তাদের পণ্য দেখাতে অথবা ভোজে আসতে পারে, গান, নৃত্য এবং তাদের বন্ধুদের সাথে খেলাধূলা করতে পারে।
