মিনটাকাকে একটা পাথুরে দেয়ালের শয়নকক্ষে দেখা গেল। একটা ঝুড়ির সামনে সে হাঁটুগেড়ে বসে আছে। পবিত্র যাজিকা তার পাশে এবং তার সামনে মারাত্মক বিষধর সাপটা ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
তোমাকে এই পথ বেছে নিতে হবে না। টাইটা আদেশের স্বরে তাকে বলল।
এটা তোমার জন্যে নয়। প্রভু তোমার জন্য অন্য ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। তুমি কি আমায় শুনছো?
হ্যাঁ! মিনটাকা তার দিকে তার মাথা ঘুরাল যেন সে তার মুখ দেখতে পায়।
নেফার জীবিত। নেফার বেঁচে আছে। তুমি কি আমায় শুনছ?
হ্যাঁ! ওহ, হ্যাঁ।
শক্ত হও মিনটাকা, আমরা তোমার জন্যে আসবো। নেফার ও আমি তোমার জন্যে আসছি।
তার মনোযোগ এতো তীব্র ছিল যে, টাইটা তার আঙুলের নখ নিজের হাতের তালুর গভীরে ঢুকিয়ে দিল এবং রক্ত ঝড়তে লাগল। সে আর তাকে ধরে রাখতে পারল না, সে পিছলে যেতে লাগল তার দৃষ্টি থেকে। তার প্রতিচ্ছবি ভোলা ও ক্ষীণ হয়ে গেল এক সময়। কিন্তু তা হারিয়ে যাবার পূর্বে সে তার হাসি দেখল। একটা সুন্দর জিনিস, ভালোবাসায় পূর্ণ এবং আশায় নতুন।
শক্ত হও! তাকে উদ্বুদ্ধ করল সে। শক্ত হও, মিনটাকা! তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি তার কাছে ফিরে এল, যেন অনেক দূর থেকে তা আসছে।
*
বালিয়াড়ির পাদদেশে দাঁড়িয়ে নেফার তার অপেক্ষায় ছিল। টাইটা অর্ধ পথ নামতেই সে তাকে দেখে বুঝল গুরুত্ব পূর্ণ কিছু ঘটেছে। তুমি তাকে দেখেছ! সে চিৎকার করে উঠল এবং এটা কোন প্রশ্ন ছিল না। তার কি হয়েছে? সে দৌড়ে এগিয়ে এল টাইটার সাথে মিলতে।
আমাদের তার প্রয়োজন। বলে টাইটা একটা হাত নেফারের কাঁধে রাখল। সে কখনোই নেফারকে খুলে বলতে পারবে না সে মিনটাকাকে কি পরিমাণ দুঃখ, দুর্দশার মধ্যে পেয়েছে কিংবা তার আপন ভাগ্য যা সে নিজের জন্যে প্রস্তুত করেছিল। কখনোই নেফার তা সহ্য করতে পারবে না। বরং তা তাকে কোন ভয়ংকর কাজে ঠেলে দিবে যা উভয় প্রেমিক প্রেমিকাকে শেষ করে দিতে পারে। তুমিই ঠিক। টাইটা বলে গেল।
এই ভূমি ছাড়ার আমার পরিকল্পনাটা এবং পূর্ব দিকে নতুন সুরক্ষা খুঁজে পাওয়ার বিষয়টা স্থগিত রাখতে হবে এখন। আমাদের মিনটাকার কাছে যেতে হবে। আমি তাকে ওয়াদা করেছি।
হ্যাঁ! নেফার সম্মতি জানিয়ে বলল। আমরা কখন অ্যাভারিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছি?
টাইটা জবাবে বলল, জরুরি ভাবে। আমরা দ্রুতই রওয়ানা দিচ্ছি।
*
অ্যাভারিস থেকে দক্ষিণের ছোট্ট গ্যারিসনে পৌঁছতে তারা পনের দিনের কঠিন একটা ভ্রমণ করল এবং সেখান থেকে নতুন অশ্ব সরবরাহ স্টেশন থেইন যেতে তাদের লাগল আরো এক দিন। পথে চার বার তারা ঘোড়া বদলালো। এই দীর্ঘ পথে টাইটা মিলিটারী গ্যারিসন এবং ক্যাম্প থেকে রাজ আদেশনামা ব্যবহার করে দুর্বল প্রাণী বদলালো ও প্রয়োজনীয় মালপত্র ভরে নিল, যা নাজা তাকে দিয়েছিল।
গেবেল নাগার ত্যাগ করার পর তারা তাদের পরিকল্পনা নিয়ে অবিরাম ভেবেছে, জানা কথা এসব ফারাও টর্ক উরুকের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। পথে রক্ষী সেনাদলের অফিসারদের সাথে কথা বলে তারা জেনেছে যে টর্কের এখন নিজের অধীনে সাতাশটি পুরোপুরি প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রে সজ্জিত রেজিমেন্ট রয়েছে এবং সেই সাথে প্রায় তিন হাজার রথ। বিপরীতে এই বিশাল সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে মোকাবেলা করতে তাদের আছে মাত্র একটা ওয়াগন, যা দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের চিহ্ন বহন করছে এবং যার একটা চাকা যে কোন অসম পরিস্থিতিতে ভেঙ্গে পড়তে পারে। চাকাটা পাকানো সুতা ও চামড়া দিয়ে আটকানো। সংখ্যায় তারা মাত্র চারজন: নেফার, ম্যারন, হিল্টো এবং বে। আর পঞ্চম জন টাইটা।
ম্যাগোস নিজে কমপক্ষে ২৭টি রেজিমেন্টের সমকক্ষ, হিল্টো বলল। তাই সেদিক দিয়ে বললে আমরা টর্কের সমকক্ষ।
হিল্টো থেইনের সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেনকে চিনত। গভীর ক্ষত ও ধূসর কেশর বৃদ্ধ যোদ্ধাটির নামা সোক্কো। অনেক আগে তারা একসাথে রেড রোড দৌড়িয়েছিল। তারা একসাথে যুদ্ধ করেছে, আনন্দ উৎসব করেছে এবং সঙ্গ উপভোগ করেছে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা অতীত রোমন্থন করার পর ও এক পাত্র মদ পান করার পর হিল্টো তাকে আদেশ নামাটা দিল। সোক্কো তার নিচে-উপরে হাত দিয়ে ধরল এবং জ্ঞানীর ন্যায় পরখ করল।
ফরাও এর সীলমোহরটা দেখো, হিল্টো মোহরটা স্পর্শ করল।
যদি আমি তোমাকে না জানতাম হিল্টো এবং হুরাসের কসম, আমি সম্ভবত ভাবতাম তুমি ঐ সুন্দর ছবিটি নিজেই এঁকেছো। সোক্কো স্ক্রৌলটা হিল্টোকে ফিরিয়ে দিল। তা তোমার কি প্রয়োজন বৃদ্ধ বন্ধু?
নতুন অশ্ব সরবরাহ দলের কয়েকশ ঘোড়া থেকে তারা সতেজ কয়টা ঘোড়া বাছাই করল। তারপর টাইটা সেন্য দলের পার্ক করা রথগুলোর নিকট গেল যেগুলো মাত্র অ্যাভারিসের কারিগরদের কাছে থেকে পাঠানো হয়েছে। সে তিনটা যান বাছাই করে সতেজ ঘোড়াগুলোকে ওগুলোর সাথে বেঁধে দিল।
থেইন ছাড়ার সময় টাইটা তাদের পুরোনো ওয়াগনটা চালাচ্ছিল। ম্যারন, হিল্টো এবং নেফার প্রত্যেকে একটা করে নতুন রথ চালাচ্ছে। এদিকে বে তখন আরো অতিরিক্ত বিশটি ঘোড়া তাদের পিছনে নিয়ে আসছিল। তারা সরাসরি অ্যাভারিসের উদ্দেশ্যে চলল এবং কিন্তু শহরের যাবার একটু ঘোড়ানো পথ বেছে নিল।
মরু কিনারে একটা ছোট মরুদ্যান ছিল যা বেদুইন ও ব্যবসায়ীরা পূর্বে দিকে যেতে ও ফিরতে ব্যবহার করে থাকে।
