ট্যামাস হাউজের আটজন রাজকুমারী ও ছয়জন রাজকুমার মার যায়। ফারাও সন্তানদের মধ্যে শুধুমাত্র দুটি মেয়ে ও প্রিন্স নেফার মেমনন বেঁচে আছে। আর তা যেন ঈশ্বর স্বয়ং মিশরের সিংহাসন দখল করার জন্যে লর্ড নাজার পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তোকজন বলাবলি করে যদি বৃদ্ধ যাদুকর ম্যাগোস টাইটা তার যাদু বলে তাদের রক্ষা না করতো তবে তারাও মারা যেত। তাদের বাম হাতের বাহুর উপরের দিকে সে কাটার দাগ এখনো আছে যেখান দিয়ে টাইটা তার আলৌকিক ওষুধ তাদের রক্তে প্রবেশ করিয়ে তাদের ইয়েলো ফ্লাওয়ার বিরুদ্ধে টিকিয়ে রেখেছিল।
এখন নাজা তার এই অবিস্মরণীয় জয়ের মুহূর্তে বৃদ্ধ যাদুকর টাইটার আলৌকিক ক্ষমতার কথা ভাবছে। কারো অস্বীকার করার কারণ নেই সে সে জীবনের রহস্য খুঁজে পেয়েছে। তার বয়স কত হয়েছে কেউ জানে না; কেউ বলে ১০০ বছর কেউ বলে ২০০ বছর। এখানে তার হাঁটাচলা, রথ চালানো, দৌড়ানো একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের মতই। রথ দৌড়ে কেউ তার সাথে পারে না; জ্ঞানে কেউ তাকে অতিক্রম করতে পারে নি। অবশ্যই প্রভু তাকে ভালোবাসেন এবং তাকে অনন্ত জীবনের রহস্য দান করেছেন।
একদা সে ফারাও ছিল–শুধুমাত্র এ কথাটা নাজা জানে না। সে কি টাইটা ওয়ারলক এর রহস্যময় ক্ষমতাকে দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারবে? প্রথমে তাকে অবশ্যই প্রিন্স নেফারের সাথে ধরে আনতে হবে, তবে তার কোন ক্ষতি করা যাবে না। সে খুবই মূল্যবান। যে রথগুলো নাজা পূর্বে পাঠিয়েছে সেগুলো প্রিন্স নেফারের সাথে সাথে তার জন্যে রাজ সিংহাসনও বয়ে আনবে এবং টাইটার ন্যায় অনন্ত জীবনও।
আসমর তার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটাল। একমাত্র আমারই, এই রাজকীয় ফেট গার্ডরা আবনাবের দক্ষিণে যাত্রাকারী বহর। অন্যরা উত্তরে হিকস্দের সাথে যুদ্ধে নিয়োজিত। আর থেবকে পাহারা দিচ্ছে একদল বাচ্চা, খোঁড়া ও বৃদ্ধ লোকেরা। আপনার উদ্দেশ্য পূরণে আর কোন বাধা নেই, রাজ-প্রতিভূ।
*
শহরের প্রবেশের যে সশস্ত্র বাধার ভয় তাদের মনে ছিল তা ভিত্তিহীন প্রমাণ হল। প্রহরীরা যখনই নীল বাহিনীকে চিনতে পারল সাথে সাথে প্রধান ফটক পুরোপুরি খুলে দিল এবং অধিবাসীরা তাদের সাথে মিলিত হতে ছুটে এল। তারা নাজাকে বরণ করতে হাতে করে পদ্ম ফুলের মালা নিয়ে এসেছে, কারণ শহর জুড়ে রটে গিয়েছিল যে লর্ড নাজা অ্যাপেপি তথা হিকস্দের বিরুদ্ধে বিশাল জয় পেয়েছে।
কিন্তু এই অভিবাদন শীঘ্রই শোকে পরিণত হল যখন তারা রথের মেঝেতে রাজার মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখল এবং যখন শুনল সামনের রথ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে, ফারাও মারা গেছেন! হিকরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি অমর হউন।
শোকাহত জনতা রথের পিছন পিছন মন্দির পর্যন্ত গেল যেখানে বাজার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান হবে। তারা কেউ খেয়াল করল না যে আসমরের সৈন্যরা শহরের প্রতিটি কোনে প্রতিটি স্থানে তাদের অবস্থান দৃঢ় করছে।
যে রথটা ট্যামোসের মৃত দেহ বহন করছিল তা যেন জনতার ভিড়ে হারিয়ে গেল। পুরো শহরের লোক এখানে জড়ো হয়েছে। নাজা তার রথ বহর শহরে শীর্ণ রাস্তা দিয়ে দ্রুত নদী তীরবর্তী প্রাসাদ পানে ছুটাল। সে জানে যখন কাউন্সিলের সভ্যগণ রাজার মৃত্যুর খবর শুনবে তখন তারা দ্রুত মিটিং এ বসবে। তারা বাগানের প্রবেশ দ্বারে রথগুলো থামাল এবং আসমর ও পঞ্চাশ জন দেহ রক্ষী নাজার চার পাশ ঘিরে রাখল। তারা প্রাসাদের ভেতর আঙ্গিনা দিয়ে জড়োসড়ো হয়ে হাঁটতে লাগল। হাইসন্থি ফুল ভর্তি ওয়াটার গার্ডেন, যার পুকুরের স্বচ্ছ পানির নিচে নদীর মাছ ঝলমল করছিল সে সব পিছন ফেলে তারা এগুতে লাগল।
এ রকম অস্ত্রধারী লোকজনের আসার ব্যাপারে কাউন্সিলের কোন ধারণা ছিল না। দরজায় কোন রক্ষী ছিল না এবং চারজন সভাসদ মাত্র জড়ো হয়েছিল। নাজা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলল এবং দ্রুত তাদের উপর চোখ বুলাল। তাদের মধ্যে মেনসেট ও টালা ছিল বৃদ্ধ এবং একসময়ের দুর্দন্ত শক্তির এতোটুকুও তাদের মঝে অবশিষ্ট নেই; আর সিনকা সর্বদা দুর্বল ও দ্বিধান্বিত প্রকৃতির। একমাত্র একজন ব্যক্তিই এখানে রয়েছে যাকে তার বিবেচনা করতে হবে।
ক্ৰাতাস ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়সে বড় কিন্তু ঐ রকম একজন বৃদ্ধ ঠিক একটা আগ্নেয়গিরি যেমন। তার গায়ের জামা এলোমেলো পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে সে তার বিছানা থেকে সরাসরি এখানে এসেছে, তবে ঘুম থেকে নয়। লোকজন বলা বলি করে এখনো সে তার দুজন যুবতী স্ত্রী ও সকল উপপত্নীদের সন্তুষ্ট রাখার সামর্থ রাখে, আর নাজারও এতে কোন সন্দেহ নেই। যুদ্ধ ও প্রণয় এই দুই ব্যাপারেই সে দক্ষ, আর সেসব লোক-গাথা পর্যায়ের। নাজা এই দূর থেকেও তার গায়ে স্ত্রী-লোকের সুগন্ধির ঘ্রাণ পাচ্ছে। বাহুর ও নগ্ন বুকের কালো গাঢ় দাগগুলো তার শত যুদ্ধ জয়ের প্রমাণ বহন করে। এই বুড়ো লোকটি কখনো কোন স্বর্ণের অলংকার পরিধান করেনি, কেননা তার ধারণা ওগুলো মানুষকে ষাঁড়ের মত ভারি করে তোলে।
মহামান্য লর্ডগণ! নাজা কাউন্সিলের সদস্যদের অভিবাদন জানাল। আমি আপনাদের জন্যে একটা ভয়ংকর দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছি। সে লম্বা পদক্ষেপে কক্ষে প্রবেশ করল এবং মেনসেট এবং টালা গুটিসুটি মেরে গেল। তারা তার দিকে এমনভাবে চেয়ে রইল যেন দুটি খরগোেশ একটা কোবরার সর্পিল আগমনের দিকে চেয়ে আছে। ফারাও মৃত। তিনি যখন এল ওয়াদুন দুর্গে শক্রদের খুঁজে বেরোচ্ছিলেন তখন হিকা তাকে তীর নিক্ষেপে ধরাশায়ী করে।
