এই পরিকল্পনার বিষয়ে আমার সাথে আপনার কথা বলা উচিত ছিল। নেফার অবশেষে বলল। আমি এখন আর বাচ্চা নই টাইটা। আমি যুবক এবং ফারাও।
আমি তোমাকে আমার ইচ্ছার কথা বলেছি, টাইটা শান্ত ভাবে বলল। আবার তারা নিরব হয়ে গেল দীর্ঘক্ষণের জন্যে। আগুনের শিখার মধ্য দিয়ে তাকিয়ে টাইটা বুঝল নেফারের দৃঢ় সংকল্পে ভাঁজ পড়ছে।
অবশেষে নেফার আবার কথা বলল, তুমি ভেবে দেখো, মিনটাকা রয়েছে।
টাইটা কিছু বলল না। সহজাত ভাবে সে বুঝল তারা দুজন তাদের সম্পর্কের একটা সংকটময় পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে। এমনটা এক সময় না এক সময় আসতই। তাই সে তা এড়াবার কোন চেষ্টা করল না।
আমি মিনটাকাকে একটা বার্তা পাঠিয়েছিলাম, নেফার বলল। আমি তাকে বলেছি আমি তাকে নিচু এবং সেই সাথে আমি আমার জীবন ও অনন্ত আত্মার কসম খেয়ে জানিয়েছি যে আমি তাকে ছেড়ে যাবো না।
এবার টাইটা নিরবতা ভাঙ্গল, তুমি কি নিশ্চিত যে মিনটাকা তোমার এই বোকার মতো শপথটি গ্রহণ করেছে যা তোমাকে, তাকে এবং তোমার আশপাশের সবাইকে বিপদে ফেলতে পারে?
হ্যাঁ, অবশ্যই। হিল্টো… নেফার থেমে গেল এবং ক্যাম্পের আগুনের শিখার উপর দিয়ে টাইটার দিকে চোখ পড়তেই তার অভিব্যক্তির পরিবর্তন হল। তারপর হঠাৎ লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে সে গুহার প্রবেশ পথের দিকে চলে গেল ধুপ-ধাপ শব্দ তুলে।
বালকের মতো নয় বরং একজন রাগান্বিত যুককের ন্যায় সে উঠে চলে গেল। গত এই কমাসে নেফার পুরোপুরি বদলে গেছে। একটা গভীর সম্ভষ্টি অনুভব করল টাইটা। সামনের পথ কঠিন হবে এবং নেফারের এই সকল নতুন পাওয়া শক্তি ও সংকল্পের দরকার হবে তখন।
হিল্টো, নেফার অন্ধকারে ডাক দিল। আমার কাছে এসো। সম্ভবত হিল্টো তার কণ্ঠে নতুন এক কর্তৃত্ব শুনল কারণ সে দ্রুত এল এবং হাঁটু ভেঙে নেফারের সামনে বসল।
মহামান্য? জিজ্ঞেস করল।
তুমি কি সে বার্তাটা পৌঁছিয়েছে যা আমি তোমাকে বিশ্বস্থতার সাথে ন্যস্ত করেছিলাম? নেফার জানতে চাইল।
হিল্টো আগুনের পাশে থাকা টাইটার দিকে চোখ তুলে তাকাল এক নজর। তার দিকে তাকিয়ো না। নেফার দাঁত কটমট করে বলল। আমি তোমাকে প্রশ্ন করছি। আমাকে উত্তর দাও।
আমি বার্তাটি পৌঁছাইনি। হিল্টো জবাব দিল। আপনি কি কারণটা শুনতে চান, কেন দেইনি?
আমি কারণটা ভালো করেই জানি। নেফার বিরক্ত প্রকাশ করে বলল। কিন্তু এটা শুনো রাখো, যদি ভবিষ্যতে কখনো তুমি আমাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে না মান তবে তুমি এর সর্বোত্তম শাস্তি পাবে।
আমি বুঝেছি। হিল্টো দৃঢ়তার সাথে বলল।
যদি আবার কখনো এমন হয় যে ফারাও ও মধ্যস্থতাকারী এক বৃদ্ধ মানুষের মধ্যে এক জনকে বাছাই করতে হবে তখন তুমি ফারাওকে বেছে নিবে। তোমার কাছে কি তা পরিষ্কার?
দুপুরের সূর্যের মতো এটা আমার কাছে পরিষ্কার। অনুতপ্তভাবে বৃদ্ধ হিল্টো তার মুখ ঝুলিয়ে রাখল কিন্তু তার দাঁড়ির মধ্যে একটা হাসি ফুটে উঠল।
তুমি আমার প্রশ্নটা এড়িয়ে গেছো, হিল্টো। এখন বল, রাজকন্যা সম্পর্কে তোমার কাছে আর কি খবর আছে?
হিল্টো হাসি থামাল এবং একটু ইতস্তত করল। সাহস সঞ্চার করার চেষ্টা করল ভয়ংকর সংবাদটা দেবার জন্যে।
কথা বলল। নেফার আদেশ দিল। তুমি এতো দ্রুতই তোমার দায়িত্ব ভুলে গেলে?
মহামান্য, সংবাদটা আপনাকে সুখী করবে না। ছয় সপ্তাহ আগে রাজকুমারী মিনটাকার সাথে ফারাও টর্ক উরুকের বিয়ে হয়েছে।
নেফার এমনভাবে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল যেন সে একটা গ্রানাইটের মূর্তি। দীর্ঘ সময় জুড়ে গুহার মধ্যে শুধু আগুনে একাসিয়ার ডাল পোড়ার শব্দ শুনা গেল। তারপর আর কোন কথা না বলে নেফার হিল্টোকে অতিক্রম করে হেঁটে মরুর আঁধারে বাইরে চলে গেল।
যখন সে ফিরল তখন পূর্ব আকাশে ঊষা লাল রং ধারণ করছে। হিল্টো গুহার পিছনে তাদের ভেড়ার চামড়া ভাজ করছিল। কিন্তু টাইটা ঠিক সেভাবেই বসে আছে যেভাবে নেফার তাকে ছেড়ে গিয়েছিল। এক মুহূর্তের জন্য সে ভাবল বৃদ্ধ মানুষটি ঘুমিয়ে আছে। আর তখনই টাইটা তার মাথা তুলে তার দিকে তাকাল তার উজ্জ্বল চোখ নিয়ে, যা আগুনের আলোতে ছিল অন্য রকম স্বতন্ত্র।
তুমিই ঠিক, আমি ভুল ছিলাম। তোমাকে আমার এখন দরকার, অন্য সব সময়ের চেয়ে বেশি, বুড়ো বন্ধু! নেফার বলল। তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?
তোমাকে তা বলতে হবে না। টাইটা নরম সুরে বলল।
আমি তাকে টর্কের দাসত্বে ছেড়ে দিতে পারি না। নেফার বলল।
না।
টাইটার বিপরীতে এসে নেফার তার মুখোমুখি বসে ধীর লয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে লাগল। ঝড় বয়ে চলে গেছে। এবং তারা এখনো এক সাথে।
নেফার কয়টি কাটা গুঁড়ি তুলে নিয়ে আগুনের গভীরে তা ঠেলে দিল। তারপর টাইটার দিকে চোখ তুলে তাকাল দৃঢ় দৃষ্টি নিয়ে।
তুমি আমাকে শিখিয়েছো দূরে দেখতে, সে বলল। কিন্তু আমি কখনোই সে উপহারটা অর্জন করি নি। অন্তত গত রাতের আগে না। বাইরে অন্ধকারের অখন্ড নিরবতায় আমি দূর থেকে মিনটাকাকে চেষ্টা করেছিলাম দেখতে। এইবার আমি কিছু দেখেছি, টাইটা। কিন্তু তা ছিল ক্ষীণ এবং আমি তার কিছুই বুঝি নি।
তার জন্যে তোমার ভালোবাসা তোমাকে তার অলৌকিকভাবে অনুভূতি প্রবণ করেছে। টাইটা ব্যাখ্যা করল। তুমি কি দেখেছো?
আমি শুধু ছায়া দেখেছি, কিন্তু সেই সাথে আমি ভয়ানক দুঃখ ও কষ্ট অনুভব করছি। আমি এতোটাই হতাশা অনুভব করলাম যে তা আমাকে আমার মৃত্যু কামনা করতে বাধ্য করল। আমি জানি এগুলো মিনটাকার অনুভূতি এবং আমার নিজের নয়।
