হিল্টো, নেফার উচ্চস্বরে ডাকল, দূর থেকেই এবং হাঁপানোর কোন চিহ্ন ছাড়াই। প্রভু তোমায় ভালোবাসুক এবং তোমাকে অনন্ত জীবন দিক! কি খবর? কি খবর? হিল্টো প্রশ্নটার তাৎপর্য সঠিক ভাবে না বুঝার ভান করল এবং যখন নেফার তার পাশে হাঁটতে লাগল সে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে বিশদ বর্ণনা করতে লাগল। উত্তরে আবার বিদ্রোহ হয়েছে। এবার টর্করা সহজে তা দমন করতে পারে নি। কঠিন লড়াইয়ে তিন দিনে সে চারশ লোক হারিয়েছে এবং তার ক্রোধ থেকে অর্ধেক বিদ্রোহী পালিয়ে গেছে।
হিল্টো, তুমি জানো এগুলো নয়, আমি তোমার কাছ থেকে অন্য কিছু শুনতে চাচ্ছি।
হিল্টো মাথা ঝাঁকিয়ে বে-র দিকে নির্দেশ করল। মনে হয় বিশেষ কিছু বিষয়ে এখন কথা বলার সময় নয়। সে কৌশলে পরামর্শ দিল। মহামান্য, আমাদের কি পরে এবং একা কথা বলা উচিত নয়?
নেফার বাধ্য হলো তার অধৈৰ্য্য দমাতে।
সে দিন সন্ধ্যায় যখন তারা গুহার মধ্যে আগুনের চারদিকে বসল তখন হিল্টোর সব বিষয়ে বিশদ বর্ণনাটা নেফারের কাছে যন্ত্রণাদায়ক হলো। সে সবকিছু টাইটার কাছে বিশদ করে বর্ণনা করল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সে খবরটা: তা হচ্ছে আনুবিসের যাজকেরা দুঃখের কক্ষে যখন শবদেহ খুলেছিল তখন দেহ বদলের বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়েছে। ফারাও নাজা কাইফান খবরটা চেপে রাখতে তার সর্বোত্তম চেষ্টা করছে এবং জন সাধারণের জানা থেকে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। কারণ তার সিংহাসনের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। যদি জনগণ সন্দেহ করে বসে নেফার এখনও জীবিত! যাই হোক, এ রকম একটা অসাধারণ ঘটনা গোপন রাখা অসম্ভব যেখানে অনেক লোক বিশেষ করে যাজকেরা এবং সভাসদেরা এ বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন। হিল্টো রিপোর্ট করল যে এই গুজব এখন থেবস্ শহরে রাস্তায় রাস্তায় এবং বাজারে বহুল প্রচলিত। এমনকি তা শহর ও গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।
আংশিকভাবে এ গুজবের ফলে দুই রাজ্যের অশান্তি আরো বেড়েছে এবং মজবুত হয়েছে। বিদ্রোহীরা নিজেদের বলছে নীল দল। নীল ট্যামোস বংশের রং, যেখানে নাজা তার রাজ রং বাছাই করেছেন সবুজ এবং টর্ক করেছে লাল।
এর সাথে সে আরো জানাল যে পূর্বে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। মিশরীয় ফারাও হুরিয়ান রাষ্ট্র দূতকে তার প্রভু ব্যালিয়নের রাজা সারগনের কাছে ফেরত পাঠিয়েছে, যে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিসের মাঝের বিশাল রাজ্যের অধিকারী। মিশরীয় ফারাও সারগনের বার্ষিক কর বাড়িয়ে বিশ লাখ স্বর্ণ দাবি করেছেন। পরিমাণটা অস্বাভাবিক যাতে সারগন কখনোই রাজি হবে না।
অর্থাৎ, এ কারণেই দুই রাজ্যের আর্মিতে লোক বাড়ানোনা হচ্ছে, টাইটা বলল হিল্টো থামতেই। অবশেষে এটা পরিষ্কার যে দুই ফারাও মেসোপটেমিয়ার সম্পদের প্রতি লোভী। তারা তা দখল করতে ইচ্ছুক। ব্যাবিলনের পর তারা লিবিয়া ও চালদিয়ার দিকেও দৃষ্টি দিবে। এবং যতোদিন না পুরো দুনিয়া তাদের দখলে আসছে তারা থামবে না।
হিল্টোকে হতভম্ব দেখাল। আমি এমন করে ভাবি নি, তবে সম্ভবত আপনিই সঠিক।
তারা দুজন বৃদ্ধ বেবুনের মতই চালাক। তারা জানে যুদ্ধ একটি একতার বিষয়। তারা আরও জানে যদি তারা মেসোপটেমিয়ার দিকে এগোয় তাহলে জনগণ দেশাত্মবোধের কারণে তাদের পিছনে যাবে। সেনারা লুষ্ঠিত মাল ও গৌরব ভালোবাসে। ব্যবসায়ীরা ভালোবাসে বাণিজ্য ও মুনাফা বৃদ্ধি। তাদের লোভ মেটাতে এ এক চমৎকার উপায়। এভাবে সহজেই জনগণকে তারা তাদের দলে নিতে পারবে।
ঠিক, হিল্টো সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। এখন আমি দিব্য চোখে সব দেখতে পাচ্ছি।
অবশ্যই, এটা আমাদেরও সুবিধা বয়ে আনেবে; টাইটা বলল। আমি আমাদের একটা দারুন সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছি। যদি টর্ক ও নাজার সাথে সারগন যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে সে তার দলে আমাদের সাদর আমন্ত্রণ জানাবে।
আমরা মিশর ত্যাগ করতে যাচ্ছি! হিল্টো বিস্ময় প্রকাশ করল।
টাইটা ব্যাখ্যা করে বলল, যেহেতু নাজা ও টর্ক জানে নেফার এখনো জীবিত সেহেতু তারা আমাদের ধরতে আসবে। এখন একমাত্র পূর্বের পথটাই শুধু আমাদের জন্য ভোলা। দুই রাজ্যে আমাদের শক্তি ও সমর্থন তৈরি করতে এবং আমাদের শক্তিশালী মিত্রকে পেতে বেশি সময় লাগবে না। তারপর আমরা ফারাও নেফারের জন্মগত অধিকার দাবি করতে ফিরে আসবো।
বিষয়টা এবার তাদের কাছে পরিষ্কার। এখন এ পরিকল্পনার ধাঁধা থেকে বেড়িয়ে এসে সবাই তার দিকে নিরব দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। তারা এতোটা ভাবেনি এবং এটা তাদের মাথায় কখনোই আসতো না যে তারা জন্মভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। প্রথমে নেফার নিরবতা ভাঙ্গল। আমরা তা করতে পারি না, সে বলল। আমি মিশর ত্যাগ করতে পারি না।
টাইটা অন্যদের দিকে অর্থ পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল এবং মাথা ঝাঁকিয়ে সিদ্ধান্তটা খারিজ করে দিল। অনুগতভাবে হিল্টো, বে এবং ম্যারন উঠে দাঁড়িয়ে গুহার বাইরে চলে গেল।
এমন পরিস্থিতি যে হবে টাইটা আগেই জানত। সে জানতো এটা মানাতে তার গুরু অভিব্যক্তি প্রয়োগ করতে হবে। সে বুঝতে পারল নেফারকে এ অবস্থা থেকে নড়ানো কঠিন হতে যাচ্ছে। বালকটি আগুনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তাকে সে অবশ্যই এই নিরবতা ভাঙ্গতে বাধ্য করতে হবে। যখন সে তা করতে পারবে তখন টাইটার অবস্থান আরো শক্ত হবে।
