নিম্ন রাজ্যের আর কি খবর আপনার কাছে আছে? নেফার ব্যাকুল ভাবে জানতে চাইল। হিল্টো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসার খবর ও শস্যের দামের খবর এবং অ্যাশিরিয়ান বিশেষ বার্তা বাহকের টর্কের দরবার পরিদর্শনের বিষয়ে বলে গেল। নেফার অধৈৰ্য্য নিয়ে সব শুনল এবং যখন হিল্টো শেষ করল তখন সে জিজ্ঞেস করল, সেখানে রাজকন্যা মিনটাকার খবর কী?
হিল্টোকে অবাক দেখাল। আমি কিছু জানি না। যতোদূর জানি সে অ্যাভারিসে আছে, কিন্তু নিশ্চিত নই।
পায়ে হেঁটে ফিরে আসার সময় হিল্টো একদল অরিক্স-এর পায়ের দাগ দেখেছে এবং তাদের ধাওয়া করে শিকার করতে টাইটার কাছে অনুমতি চাইল। তাদের শুকনো মাংসের মজুদে টান পড়তে পারে, তাই টাইটা তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেল।
কিন্তু টাইটা হুকুম করল যে নেফার এখনো শিকারে যাওয়ার মতো শক্ত হয়নি। অদ্ভুত ভাবে এতে নেফার কষ্ট পেল না। পরিবর্তে সে পরামর্শ দিল শিকারী দলের সাথে টাইটার যাওয়া দরকার যাতে সে তার শক্তি দিয়ে শিকার পেতে এবং শিকারীদের লুকিয়ে রাখতে পারে যখন শিকার কাছাকাছি আসবে। যখনই গুহার মধ্যে সে একা হল, তখন নেফার সতেজ প্যাপিরাসের পাইন কাঠের সিন্দুক এবং লেখার সামগ্রী খুলল যা হিল্টো তার জন্যে এনেছে এবং মিনটাকাকে একটা চিঠি লিখতে শুরু করল। সে পুরোপুরি নিশ্চিত এতোদিনে তার মৃত্যুর খবর অ্যাভারিস পৌঁছে গেছে। সে তার নিজের ভয়ংকর অনুভূতির কথা মনে করল যখন তার পুরো পরিবারের সাথে মিনটাকার মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদটা সে শুনেছিল। তাই সে তাকে এই একই রকম যন্ত্রণা থেকে অব্যহতি দিতে চায়। সে আরো ব্যাখ্যা করতে চাইল যে–এটা নাজা ও টর্ক যারা তাদের বাগদান ভেঙে দিয়েছে, কিন্তু নেফার তা জানতো না। সে এখনো তাকে তার নিজের অনন্ত জীবনের আশা থেকে বেশি ভালোবাসে এবং শান্তি পাবে না যতক্ষণ না সে তার স্ত্রী হচ্ছে।
এ সবকিছু সে সাংকেতিক ভাষায় লিখল যাতে অন্য কোন ভুল হাতে পড়লেও ক্রৌলটা অর্থহীন হবে শুধু মিনটাকা ছাড়া।
শুরুতে তাকে সে প্রথম তারা বলে সম্বোধন করল। সে হয়তো স্মরণ করবে কিভাবে যখন তারা দুজন তার নামের উৎস নিয়ে আলোচনা করেছিল। সে তাকে বলেছিল, স্বর্গীয় হান্টারের স্থলে আমি তৃতীয় তারা।
সে উত্তর দিয়েছিল, না, তৃতীয়টা না। নভোমডোলের প্রথমটি।
সে সর্তকতার সাথে সংকেত ব্যবহার করল। লেখালেখির ক্ষেত্রে সে সর্বদাই অন্যদের ছাড়িয়ে। সে নিজেকে ডাব্বার বোকা বলে সই করল। নিশ্চিত ছিল যে সে তার অমার্জিত ব্যবহারের কথা মনে করতে পারবে যখন তারা মরুতে একা ছিল।
ঐ দিন সন্ধ্যায় যখন শিকারীরা ফিরল এবং তারা সদ্য শিকার করা অরিক্সের পোড়া মাংস খাচ্ছিল, নেফার উন্মুখ ছিল হিল্টোর সাথে একান্তে কথা বলার সুযোগের অপেক্ষায়। সুযোগটা এল যখন টাইটা সবাইকে আগুনের পাশে রেখে মরুতে একটু হাঁটতে গেল। থেবসের রসদ ভান্ডার থেকে হিল্টো কতগুলো বড় বড় মদের বোতল এনেছে এবং টাইটা এক থেকে দুই বাটি পান করল। তার বয়সের ছাপ স্পষ্টত: সবাই দেখতে পেল তার মদ পানের পরিমাণ দেখে।
টাইটা নিরাপদ দূরত্বের বাইরে গেলে নেফার ঝুঁকে হিল্টোর কাছাকাছি এল এবং ফিসফিস করে বলল, আমি তোমাকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দিতে চাই।
এটা আমার জন্যে বিশেষ সম্মানের, মহামান্য।
তার হাতে প্যাপিরাসে ছোট রোলটা এগিয়ে দিল নেফার। নিজের জীবন দিয়ে এটা রক্ষা করবে। নেফার আদেশ করল এবং যখন হিল্টো তা তার চাদরের নিচে সুকালো, নেফার তা অ্যাভারিসে রাজকুমারীকে দিতে বলল। সে আরো সতর্কবাণী দিয়ে শেষ করল; এই ব্যাপারে কাউকে বলবে না। এমনকি ম্যাগোসকেও নয়। কসম রইল।
পর দিন বিকেলে সূর্য ডোবার সময় হিল্টো ও বে গেবেল নাগার ত্যাগ করল, বাতাস সবে ঠাণ্ডা হচ্ছিল তখন। তারা নেফারকে রাজকীয় অভিবাদন করে টাইটাকে তার দোয়া ও রক্ষার মন্ত্র দিতে বলল, তারপর দুজন নেমে পড়ল তারায় আলোকিত বন্য পথে। ঘোড়াগুলো খুব কষ্ট করে বালিয়াড়ির প্রথম পাহাড়ের খাজে উঠল এবং রূপালী চাঁদের আলোয় এলোমেলো পাথরগুলো যখন ঠাণ্ডা হচ্ছিল তখন সেগুলো অবিরত পটপট আওয়াজ তুলছিল রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে।
ঘোড়াগুলো আগে দিয়ে বে হঠাৎ পিছিয়ে এল, তার বন্য ভাষায় চিৎকার করে উঠল এবং গলায় ঝুলানো সিংহের হাড়ের কবজটা চেপে ধরল। সে একটা অদ্ভুত অবয়বের দিকে নির্দেশ করল যা বেরিয়ে আসছে পাথরের ছায়া থেকে।
হিল্টো আরো বেশি আলোড়িত হল, সরে দাঁড়াও, অশুভ অবছায়া; সে চিৎকার করল, চাবুক শাসালো এবং শয়তানের বিরুদ্ধে চিহ্ন আঁকল। তারপর ভূত ও পিশাচ দূর করার সব মন্ত্র পড়ল দ্রুত।
শান্ত হও হিল্টো! প্রেত ছায়া অবশেষে কথা বলল। চাঁদ উজ্জ্বল ছিল তাই তা শিলার মতো শক্ত মাটিতে বরাবর লম্বা ছায়া তৈরি করল এবং প্রাণীটার মাথা ধাতু গলানো পাত্রের ন্যায় গলিত সিলভারের মতো অবয়ব তৈরি করল। এটা আমি টাইটা, ম্যাগোস।
আপনি হতে পারেন না! হিল্টো চিৎকার করে উঠল,আমি সূর্যাস্তের সময় টাইটাকে গেবেল নাগার ছেড়ে এসেছি। আমি তোমাকে চিনি। তুমি নিশ্চয় কোন পাতালের ভয়ংকর ছায়া, ম্যাগোসের বেশ ধরেছ।
টাইটা এবার সামনে এগিয়ে এসে হিল্টোর হাত ধরল। আমার শরীরের উষ্ণতা অনুভব করো; সে বলল, তারপর হিল্টোর হাত তার চেহারায় রাখল। আমার চেহারা অনুভব কর এবং আমার কষ্ঠ মনোযোগ দিয়ে শোন।
