হিল্টো এই সকল উৎসে শব খুঁজেছে। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত সে তরুণ ফারাও এর আদর্শ বদলি খুঁজে পেয়েছে যা ছিল একেবারে নিখুঁত। শহরের শেরিফ এই ছোঁক বালককে থেবসের একজন প্রধান শস্য ব্যবসায়ীর টাকার থলে ছেঁড়ার অপরাধে গ্রেফতার করেছিল এবং বিচারক তাকে ফাঁসি দিতে একটুও ইতস্তত করেনি। দন্ডিত ছেলেটার দেহ এবং সাধারণ চেহারা নেফারের এতো কাছাকাছি ছিল যে তার ভাই বলে তাকে চালিয়ে দেয়া যায়। তদুপরি সে ছিল সুঠাম এবং স্বাস্থ্যবান; অনাহারী এবং প্লেগ আক্রান্তদের ন্যায় নয়। হিল্টো শহর রক্ষীদের কমান্ডার যার উপর ফাঁসি দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তার সাথে কথা বলে এবং এই বিনিময়ের সময় তিনটি ভারি স্বর্ণ মুদ্রা তার টাকার থলেতে স্থান পায়। ঠিক করা হয়েছিল যে যততক্ষণ না হিল্টো আদেশ দেয় তততক্ষণ ফাঁসি দেরি করানো হবে এবং ফাঁসি দানকারীর দক্ষতার দিয়ে যতোটুকু সম্ভব দন্ডিতকে দৃশ্যত ক্ষতি না করা। আজই সকালে বন্দীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে এবং তার দেহ এখনো ঠাণ্ডা হয় নি।
হলের শেষ প্রান্তে ছোট সমাধির মধ্যে ঢাকনাওয়ালা জারের আয়োজন করা হল। টাইটা ম্যারনকে ওগুলো ধরে রাখতে এবং পূর্ণ হওয়ার জন্য ছিপি খুলে প্রস্তুত রাখার আদেশ দিল। যখন সে এটা করছিল টাইটা তখন মরদেহটাতে উবু করে শোয়াল এবং তার বাম দিকের নিচে দ্রুত কাটল। নিখুঁত ডাক্তারি করার বেশি সময়। ছিল না। সে তার হাত কাটা স্থান দিয়ে ঢুকিয়ে দিল এবং প্রথমে নাড়িটা ধরল। তারপর দুই হাত ব্যবহার করে সে শবদেহের ভিতরে কাজ চালাল। প্রথমে সে বুকের গহ্বরে কাজ করার জন্য ডায়াফ্রাম কেটে ফেলল। তারপর আরো গভীরে পৌঁছে ফুসফুস, কলিজা, এবং প্লীহা অতিক্রম করে বিচ্ছিন্ন করল শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংযোগ স্থল। সবশেষে শবদেহটাকে গড়িয়ে ঘোরাল। ম্যারনকে নিতম্বদ্বয় আলাদা করে ধরে রাখতে আদেশ দিল এবং এক আঘাতে মলদ্বারের মাংসপেশী আলাদা করে ফেলল। ফলে বক্ষ থেকে ভেতরের সব বস্তু আলগা হয়ে গেল।
সে এক টানে তা বেদির উপর বাইরে বের করে নিয়ে এল। ম্যারন ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে তার পায়ের উপর দুলতে লাগল এবং হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল।
মেঝেতে নয়, সিংকে যাও, রূঢ়ভাবে আদেশ দিল টাইটা। ম্যারন অ্যাপেপির সৈন্যের বিরুদ্ধে উত্তরে যুদ্ধ করেছে। অসংখ্য লোককে মেরেছে এবং যুদ্ধের ময়দানে ব্যাপক হত্যাকান্ড সত্ত্বেও আহত হয় নি। কিন্তু এখন সে দৌড়ে কোনার পাথরের বেসিনে গেল এবং শব্দ করে তার মধ্যে বমি করল।
কনুই পর্যন্ত রক্ত মেখে টাইটা কলিজা, ফুসফুস, পাকস্থলী ও নাড়িভুড়ি আলাদা করে স্তূপ করল। এটুকু কাজ শেষ হলে সে নাড়িভুড়ি ও পাকস্থলী সিংকে নিয়ে গেল যেখানে ইতোমধ্যে ম্যারন বমি করেছে। সে কাটা পাকস্থলী ও নাড়িভূড়ির ময়লা ধুয়ে সেগুলো জারের ভেতর প্যাকেট করল। প্রতিটি জার লবণ দিয়ে পূর্ণ করল এবং ছিপি লাগিয়ে দিল। তারপর সে তার হাত ও বাহু ব্রোঞ্জের কড়াইতে রাখা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিল। সে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে বে-এর দিকে তাকাল, এবং নুবিয়ান সম্মতিসূচকভাবে তার টেকো মাথা নেড়ে নেফারের অবস্থা জানাল টাইটাকে। নিয়ন্ত্রিত দ্রুততার সাথে টাইটা পেটের কাটা সেলাই করে বন্ধ করল। তারপর সে মাথা ব্যান্ডেজ করল যতক্ষণ না শবের অবয়ব ঢাকা পড়ল। কাজ শেষ হলে সে এবং হিল্টো মরদেহটা ন্যাট্রন লবণের পানিতে গোসল করাল। এই রুক্ষ অ্যালকালি দ্রবণে শবটা পুরোপুরি ডুবন্ত অবস্থায় বাথটবের মধ্যে মাথা ঢাকা সহ পরবর্তী ৬০ দিন থাকবে। ঐ সময় অতিক্রান্ত হবার পর কাজ করা ব্যান্ডেজ যে কেউ খুলে ফেলতে পারবে এবং বদলটা আবিষ্কার করতে পারবে। কিন্তু তততক্ষণে টাইটা ও নেফার অনেক দূর চলে যাবে।
পানি দিয়ে বেদিটা পরিষ্কার করতে এবং যন্ত্রপাতি প্যাকেট করতে টাইটার অল্প সময়ই লাগল। নেফার যে ঝুড়িতে শুয়ে আছে তার পাশে হাঁটুগেড়ে বসে টাইটা তার এক হাত নেফারের নগ্ন বুকের উপর রাখল। তার শরীরের উষ্ণতা ও শ্বাস প্রশ্বাসের গতি অনুভব করার চেষ্টা করল গভীর ভাবে। এটা ধীর ছিল। সে একটা চোখের পাতা টেনে উঠাল এবং দেখল পিউপিল আলোতে প্রতিক্রিয়া করছে। সন্তুষ্ট হয়ে সে উঠে দাঁড়াল এবং হিল্টো ও বে-কে ইশরায় গোপন কুঠরীটা ঢেকে দিতে বলল। তারপর তারা ঝুড়ির ঢাকনা পুনঃস্থাপনের উদ্যত হতেই তাদের থামিয়ে দিল টাইটা। খোলা রাখ, সে আদেশ দিল। যাজকদের দেখতে দাও যে এটা খালি।
বাহকেরা হাতল ধরে ঝুড়িটাকে উঠাল এবং টাইটা তাদের দরজার দিকে এগিয়ে নিয়ে চলল। যখন তারা কাছাকাছি গেলো হিল্টো দখন দরজা খুলে দিতেই যাজকদের সমাবেশ সামনে এগিয়ে এল। তারা অনেকটা দায়সারা ভাবে তাকাল শূন্য ঝুড়িটার দিকে যখন তা রথে নিয়ে যাওয়া হল। তারপর তারা প্রায় অসভ্য দ্রুততায় তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে দুঃখের কক্ষে প্রবেশ করল, যা তাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মন্দিরের বাইরে জনতার ভিড় এড়িয়ে টাইটার লোকেরা ঝুড়িটা অগ্রবর্তী রথে তুলে দিলে তারা শহরে ফিরতে শুরু করল সারিবদ্ধ হয়ে।
যখন তারা প্রধান ফটকে প্রবেশ করল তারা দেখল সরু রাস্তাগুলো প্রায় খালি। হয় জনগণ শেষকৃত্যের মন্দিরে তরুণ ফারাও এর জন্য প্রার্থনা করতে গেছে নয় তারা তড়িঘড়ি করে প্রাসাদে গিয়ে তার পরবর্তী উত্তরাধিকারের নাম ঘোষণার অপেক্ষা করছে। যদিও সবার তা জানা এবং অল্পই সন্দেহ রয়েছে কে হবে উচ্চ রাজ্যের পরবর্তী ফারাও।
