লম্বা, গোলাপের রঙের গ্রানাইটের দেয়াল এবং দ্বার-মন্ড একটা নিচু স্থানের উপর সবুজ নদী উপেক্ষা করে নির্মিত। যাজকেরা তড়িঘড়ি করে একত্রিত হয়ে দলটাকে অভিবাদন জানাতে অপেক্ষা করছিল। তাদের মাথা নতুন করে মুন্ডনো ও তেল সিক্ত। টাইটা যখন চওড়া সড়ক দিয়ে রথ চালল তখন মৃদু শব্দে বাদ্য বেজে উঠল এবং সে সিঁড়ির কাছে রথটা থামাল যা দুঃখের কক্ষ বা হল অফ সরোর দিকে উঠে গেছে।
হিল্টো ও তার যোদ্ধারা সাবধানে ঝুড়িটা উঠাল এবং তাদের কাঁধে তা সুষমভাবে রেখে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল।
যাজকেরা তাদের পিছনে পড়ে গেল। তারা শোক সঙ্গীত গাইছে। দুঃখের কক্ষের কাঠের দরজার সামনে শব বাহকেরা থামতেই টাইটা পিছন ফিরে যাজকদের দিকে তাকাল।
মিশরের রাজাপ্রতিভূর মাধুর্যতা ও ক্ষমতায় আমি, টাইটা ফারাও এর নাড়ি ভুড়ি তোলার দায়িত্ব পেয়েছি। সে একটা সম্মোহিত দৃষ্টি দিয়ে প্রধান যাজককে স্থির করল। অন্য সবাই শুধু অপেক্ষা করবে যখন আমি এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করি।
আতংকের একটা গুঞ্জন উঠল আনুবিস এর ভ্রাতৃত্বের মধ্যে। এটা একটা ভুল, ঐতিহ্য ও তাদের নিজেদের আইনের বিরুদ্ধে। কিন্তু টাইটা কঠোরভাবে যাজকের চোখ ধরে থাকল, তারপর ধীরে ধীরে লসট্রিসের কবজ ধরা তার ডান হাতটা তুলল। যাজকটা জানত, ভয়ার্ত শ্রদ্ধার ঐ তাবিজের ক্ষমতা। যেহেতু মিশরের রাজ-প্রতিভূ অনুমতি দিয়েছেন, সে আত্মসমর্পণ করল। আমরা শুধু প্রার্থনা করব যখন ম্যাগোস তার দায়িত্ব পালন করবে।
টাইটা হিল্টো ও বাহকদের দরজার দিয়ে নিয়ে গেল এবং তারা স্থিরভাবে ঝুড়িটা দুঃখের কক্ষের মধ্যখানে অবস্থিত উঁচু কালো বেদির পাশে নামিয়ে রাখল। টাইট হিল্টোর দিকে এক নজর তাকাল এবং ক্ষিপ্র বৃদ্ধ কমান্ডার আত্মমর্যাদা সহকারে দরজার দিকে হেঁটে গেল এবং জড়ো হওয়া যাজকদের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর সে দ্রুত টাইটার পাশে চলে এল। তাদের মাঝে রাখা ঝুড়িটা খুলে নেফারের মোড়ানো দেহ তুলে আনল। কালো বেদীর উপর তারা তা রাখল সাবধানে।
নেফারের ঢেকে রাখা মুখের কাপড় টাইটা খুলে ফেলল। তাকে বিবর্ণ দেখাচ্ছিল এবং স্নেহার্ত দেখাল যেন ঠিক হুরাসের আইভরি খচিত বাচ্চা প্রভু। হুরাস। আলতোকরে টাইটা তার মাথা একদিকে কাত করল এবং বে-এর উদ্দেশ্যে মাথা নিচু করল যে চামড়ার যন্ত্রপাতির থলেটা তার ডান হাতে ধরে আছে। ওটা খুলে টাইটা আইভরির ফরসেপটা নিল এবং সূঁচালো অংশ নেফারের কানে ঢুকিয়ে পশমের গোলাটা বের করে আনল। সে কাঁচের একটা জার থেকে গাঢ় রুবি বর্ণের তরল নিয়ে তার মুখ পূর্ণ করল। একটি স্বর্ণের পাইপের মধ্য দিয়ে আনুবিস-এর অমরত্ব ওলানি নেফারের কানের পর্দা থেকে বের করে আনল সাবধানে। তারপর কানের ফুটো দিকে ভেতরে তাকিয়ে একটু স্বস্তি পেল, সেখানে কোনো প্রদাহ হয়নি। একটা আরামদায়ক মালিশ সে কানের মুখে লাগাল এবং পুনরায় তাদের বন্ধ করে দিল। বে অন্য একটা শিশিতে অমরত্ব-সুধা নষ্ট কারী ওষুধ তৈরি করেছে। সে ওটার ছিপি খুলতেই একটা তীক্ষ্ম কর্পূর ও সালফারের গন্ধে কক্ষ ভরে উঠল। হিল্টো নেফারকে বসার ভঙ্গিমায় ধরে রাখতে তাদের সাহায্য করল এবং শিশির সবটুকু ওষুধ তখন নেফারকে খাইয়ে দিল টাইটা।
ম্যারন ও অন্যান্যরা একটা শূন্যতা ও অপলক দৃষ্টিতে টাইটার কাজকর্ম সব দেখছিল। হঠাৎ নেফার কর্কশ ভাবে কেশে উঠল এবং কুসংস্কারছন্ন ভয়ে তারা সবাই বেদি থেকে লাফ দিয়ে দূরে সরে গেল এবং শয়তানের বিরুদ্ধে চিহ্ন আঁকল। টাইটা নেফারের পিঠ মালিশ করতে গেল একনাগারে। নেফার আবার কাশল ও হলুদ বর্ণের বমি করল। যখন টাইটা তাকে পুনঃজীবিত করতে নিয়ম মাফিক কাজ করতে থাকল, হিল্টো তখন তার লোকদের হাঁটুতে ভর দিয়ে বসতে বসল এবং তারা যা দেখছে তা সবার নিকট গোপন রাখার কঠিন শপথ তাদের করাল। কাঁপতে কাঁপতে ও ভয়ে বিবর্ণ হয়ে তারা তাদের জীবনের কসম খেয়ে শপথ করল।
টাইটা তার কান নেফারের পিঠে রেখে কয়েক মুহূর্ত ধরে শুনল। তারপর মাথা ঝকাল সন্তুষ্ট মনে। সে তাকে আবার মালিশ করল এবং আরো একবার কান রেখে শুনল। বে-কে ইশারা করতেই সে থলে থেকে একটা শুকনো গুল্ম তুলে নিল এবং মন্দিরের একটা প্রদীপে তার শেষ প্রান্ত জ্বালাল। তারপর সে ওটা নেফারের নাকের কাছে নিচে ধরল। বালকটি হাঁচি দিয়ে উঠল এবং তার মাথা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করল। সন্তুষ্ট হয়ে টাইটা তাকে পুনরায় লিনেন কাপড়ে প্যাচালো এবং বে ও হিস্টোকে আবার ইশারা করতেই তিনজন ঝুড়ির দিকে ঘুরল। অন্যরা জায়গা করে দিল। টাইটা ঝুড়ির ফল গোপন তলদেশ খুলে ফেলল এবং নিচ থেকে অন্য একটা মরদেহ বের করে আনল। এই দেহটাও সাদা কাফনে মোড়া। এ কারণে ঝুড়িটা অস্বাভাবিক ভারি দেখাচ্ছিল তখন।
এসো!, হিল্টো আদেশ দিল। একে বাইরে বের করো!
টাইটার তীক্ষ্ণ চোখ ও কাঠোর নির্দেশে তারা দেহ দুটো অদল বদল করল দ্রুত। তারপর নেফারকে তারা ঝুড়ির তলদেশে লুকানন কুঠরে শুইয়ে দিল। বে ঝুড়ির পাশে নেফারের অবস্থা দেখার জন্য উবু হয়ে বসল। অন্যরা অপরিচিত লাশটাকে বেদির উপর শুইয়ে দিল।
টাইটা কাফনের কাপড় সরাতেই নেফারের বয়সের ও একই দৈহিক গঠনের দেহ উন্মেচিত হল, এমনকি নেফারের ন্যায় একই রকম ভারি কালো চুল শবটার। মরদেহ সংগ্রহ করে দেওয়াটা ছিল হিল্টোর দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে এ রাজ্যে কাজটা কঠিন ছিল না। প্লেগ এখানে গরিব এলাকাসমূহে ছড়িয়ে পড়েছে। তদুপরি রাতে শহরের রাস্তা ও সরু গলি থেকে ঝগড়ায়, নির্জলা খুনের শিকার অথবা মারামারিতে নিহত দেহ সহজেই কুড়িয়ে পাওয়া যায়।
