সে চলে যেতেই টাইটা কিছুক্ষণ চুপ হয়ে বসে তার সব চিন্তা একত্রিত করে বিষয়টা নিয়ে ভাবল এবং একটা পরিকল্পনা করল। সে একা এতে সফল হতে পারবে না। অন্যদেরকেও প্রস্তুত করতে হবে এবং অবশ্যই তাদের হতে হবে বিশ্বস্ত ও সেরা। আর তারা কাজের জন্যে প্রস্তুত হয়েই আছে এবং তার আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আর দেরি করা সমীচীন হবে না।
*
টাইটার নির্দেশে দাসরা গরম পানির কেটলি নিয়ে এল এবং টাইটা সর্তকভাবে তা দিয়ে নেফারের ক্ষত পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যান্ডেজ করল। তার উরুর ক্ষত দিয়ে তখনো ময়লা বের হচ্ছিল তাই সে ভেড়ার পশমের একটা টুকরো তার উপর রাখল ময়লা শুষে নিতে।
কাজটা শেষ হলে সে রক্ষীদের সতর্ক করে দিল যেন কেউ ভেতরে প্রবেশ না করে এবং কক্ষের সকল প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিল। কিছুক্ষণ প্রার্থনা করার পর সে ধূপধানীতে কিছু ধূপ নিক্ষেপ করল এবং নীল সুগন্ধি ধোয়ার মধ্যে আনুবিসের উদ্দেশ্যে পুরানো, শক্তিশালী মন্ত্র উচ্চারণ করল যে হচ্ছে মৃত্যু এবং গোরস্থানের প্রভু।
আর তারপরই সে একটা নতুন ও অব্যবহৃত তেলের প্রদীপে আনুবিসের অমরত্ব-সুধা প্রস্তুত করল। সে মিশ্রণটা বড় কড়াই এ উত্তপ্ত করল, যতোক্ষণ না তা রক্তের উষ্ণতার সমান হল। তারপর সে তা নিয়ে বিছানার নিকট এল যেখানে নেফার ঘুমাচ্ছিল শান্তভাবে। আলতো করে সে নেফারের মাথা একপাশ সরাল এবং প্রদীপের মধ্যকার তরলটুকু তার কানের পর্দার উপর ঢেলে দিল ধীরে ধীরে। সাবধানতার সাথে অতিরিক্ত অংশটুকু সে মুছে দিল, খেয়াল রাখল যেন তা তার নিজের চামড়ায় না লাগে। তারপর সে নেফারের কান একটা ছোট পশমের বল দিয়ে বন্ধ করে দিল এবং ধাক্কা দিয়ে ওটাকে ভিতরে ঢুকিয়ে দিল। বাইরে থেকে বিশদ পরীক্ষা ছাড়া কারো দ্বারা তা চিহ্নিত হবে না।
যতোটুকু অমরত্ব-সুধা রয়ে গেল তা কড়াই এবং কয়লার মধ্যে সে ফেলে দিল। এবং অ্যাসিড বাস্পের এক ঝলকে ওটা পুড়ে গেল। তারপর সে বাতিটা তেলে পূর্ণ করল এবং অল্প করে জ্বালিয়ে রাখল। সে নেফারের বুকের শ্বাস-প্রশ্বাসে উঠা-নামা দেখল। প্রতিবার দম ধীর হচ্ছিল এবং তাদের মধ্যকার বিরতির সময় বাড়ছিল ক্রমশ। তারপর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। সে নেফারের কানের নিচে তার দুই আঙ্গুল রাখল এবং তার মধ্যে জীবনী শক্তির ধীর নাড়ি স্পন্দন অনুভব করল। ধীরে ধীরে তাও ক্ষীণ হয়ে গেল যতোক্ষণ না তা শুধুমাত্র একটা ডানা ঝাঁপটানোর মতো মনে হল ঠিক ক্ষুদ্র পোকার ডানার মতো যা সে তার সকল দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়েই কেবল চিহ্নিত করতে পারল। তার বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে সে তার নিজের ঘাড়ের নাড়ি স্পন্দন গণনা করল এবং দুটোর তুলনা করল।
অবশেষে তার নিজের ৩০০ স্পন্দন লাগল নেফারের ঘাড়ের একটা ঝাঁপটা চিহ্নিত করতে। আলতো করে সে বালকটির চোখ বন্ধ করল, মৃত দেহের ঐতিহ্যগত প্রস্তুতি অনুসারে চোখের পাতার উপর সে কবজটা রাখল। তারপর সে তাদের ওপর একটা লিনেনের কাপড় বাঁধল এবং আরেক টুকরো দিয়ে তার চোয়ালের নিচ বাঁধল যা তার মুখ খুলে যাওয়া প্রতিরোধ করবে। সে দ্রুত কাজ করছিল। কারণ প্রতি মুহূর্তে সে ভয়ে ছিল যেহেতু নেফার অমরত্ব-সুধার প্রভাবে রয়েছে। অবশেষে সে দরজার কাছে গেল এবং তা খুলে দিল।
উচ্চ রাজ্যের রাজ-প্রতিভূকে জলদি আসতে বলুন। তার এখনই ফারাও এর ভয়ংকর সংবাদটা শোনার জন্যে আসা উচিত।
লর্ড নাজা আশ্চর্য ক্ষিপ্রতায় এসে পৌঁছল। রাজকন্যা হেজারেটও তার সাথে রয়েছে। তাদের ঘনিষ্ঠদের একটা ভিড় তাদের সাথে ছিল, যার মধ্যে ছিল লর্ড আসমর, অ্যাশিরিয়ান ডাক্তার নূম এবং সভার অধিকাংশ সদস্য। নাজা বাকিদের রাজকক্ষের বাইরের বরান্দায় অপেক্ষা করতে বলল এবং শুধু সে ও হেজারেট কক্ষে প্রবেশ করল। টাইটা তাদের সম্মানার্থে বিছানার পাশ থেকে উঠে দাঁড়াল।
হেজারেট লোক দেখানো কান্না করছিল এবং তার চোখ একটি অ্যামব্রয়ডারি করা শাল দিয়ে ঢাকা। লর্ড নাজা বিছানায় পড়ে থাকা ব্যান্ডেজ করা দেহের দিকে তাকাল। তারপর চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাল টাইটার দিকে।
উত্তরে, টাইটা হালকাভাবে সম্মতি সূচক মাথা নাড়ল। নাজার চোখে জয়ের রশ্মি ছড়িয়ে পড়ল। তারপর সে বিছানার পাশে হাঁটু গেড়ে বসল। সে এক হাত নেফারের বুকের উপর রাখল এবং অনুভব করল উষ্ণতা দ্রুত প্রসারিত ঠাণ্ডা দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। নাজা জোরে হুরাসের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করল যে মৃত ফারাও এর রক্ষাকর্তা ছিল। যখন সে আবার উঠে দাঁড়াল তখন সে টাইটার বাহু চেপে ধরল জোরে।
নিজেকে শান্ত কর, ম্যাগোস। তুমি তোমার সাধ্য মতো সব করেছে যা আমরা তোমার কাছ থেকে পেতে পারি। তুমি পুরস্কার বঞ্চিত হবে না। সে তার হাতে তালি দিল এবং রক্ষী দ্রুত দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই সে আদেশ দিল, সভার সদস্যদের হাজির হতে বল।
তারা কক্ষে নীবর মিছিল করে বিছানা ঘিরে তিন দিক বেষ্টনী করে দাঁড়াল।
ডাক্তার নূমকে সামনে আসতে দিন, নাজা আদেশ দিল। তাকে ম্যাগোসের পক্ষে ফারাও এর মৃত্যু ঘোষণা নিশ্চিত করতে দিন। সৈন্যরা অ্যাশিরিয়ানটাকে বিছানার কাছে পৌঁছানোর জায়গা করে দিল। গরম আংটা দিকে তার লম্বা চুল কোঁকড়ানো করা হয়েছে এবং সেগুলো তার কাঁধের উপর ঝুলছে। তার দাড়িও ব্যাবিলিয়ন ভঙ্গিতে কোঁকড়ানো। তার লম্বা পোশাক মেঝে ঝাড় দিচ্ছে এবং অজানা প্রভু ও যাদুর মন্ত্রে অ্যামব্রয়ডারি করে সজ্জিত। সে হাঁটু গেড়ে মৃত বিছানার পাশে বসল এবং মরদেহ পরীক্ষা করতে লাগল। সে নেফারের ঠোঁট তার বিশাল বাঁকননা নাক দিয়ে শুকল যা থেকে নাকের কালো চুল বাইরে বেড়িয়ে আছে। তারপর সে তার কান নেফারের বুকে রাখল এবং স্পন্দন শুনার চেষ্ট করল, টাইটার উদ্বিগ্ন হৃদপিন্ডের ১০০ স্পন্দন পর্যন্ত। তার ভান্ডারে আশিরিয়ান অপটু বিদ্যেই কেবল জমা।
