তারা একজন আরেকজনের দিকে এক দৃষ্টে চেয়ে রইল, মেয়েটা ও কোবরাটা, তাদের শত ধীর হৃদ্স্পন্দন সময় ধরে। এক সময় সাপটা পিছনে সরে গেল যেন আঘাত করবে। তারপর কোমলভাবে সোজা হল ঠিক একটা মারাত্মক ফুলের মতো দীর্ঘ হয়ে।
কেন এটা তার কাজ করবে না? মিনটাকা জিজ্ঞেস করল, কোবরাটার মত ঠোঁট বন্ধ করে। সে তার হাত বাড়িয়ে দিল এবং সাপটা তার মাথা ঘোরাল তার আঙুল দেখার জন্য যা তার দিকে এগিয়ে এসেছে। মিনকাটা কোন ভয় দেখাল না, আলতো করে সে কোবরার ফোলানো মাথার পিছনে আঘাত করল। আক্রমণ করার পরিবর্তে কোবরাটা মাথা নিচু করল ঠিক যেভাবে একটা বিড়াল তার মাথা আদর করার জন্যে এগিয়ে দেয়।
যা করতে হবে তা এটাকে করতে বাধ্য করুন। মিনিটাকা যাজিকার কাছে অনুনয় করল কিন্তু বৃদ্ধ মহিলা বিভ্রান্তিতে মাথা নাড়ল।
এমনটা আমি আর কখনো দেখিনি। সে ফিসফিসিয়ে বলল। তোমাকে অবশ্যই দূতটাকে তোমার হাত দিয়ে আঘাত করতে হবে। যা তাকে দেবীর উপহার সরবরাহ করতে বাধ্য করবে।
মিনটাকা তার হাত পিছনে নিয়ে মুঠি খুলে আঙুল প্রসারিত করল। সে সাপটার মাথা তাক করল এবং আঘাতের স্থানটা ঠিক করল। সে অবাক হয়ে কিছু শুনল এবং হাত নিচু করল। হতভম্ব সে অন্ধকার কক্ষের চারপাশে তাকাল, কোনার। ছায়ার দিকে তারপর সরাসরি যাজিকার দিকে।
আপনি কি আবার কথা বলবেন? সে জিজ্ঞেস করল।
আমি কিছুই বলি নি।
মিনটাকা আবার হাত তুলল, কিন্তু এই সময় কণ্ঠটা তার আরো কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে বাজল। সে কিছুটা কুসংস্কাচ্ছন্ন ভয় নিয়ে তা চিনতে পারল এবং অনুভব করল তার ঘাড়ের পিছনের চুল খাড়া হয়ে যাচ্ছে।
টাইটা? সে ফিসফিসিয়ে চারপাশে তাকাল। সে তাকে তার পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় পাবে আশা করল। কিন্তু কক্ষটা তখনো খালি, শুধু তারা দুজন ঝুড়ি সামনে হাঁটুগেড়ে বসে আছে।
হ্যাঁ, মিনটাকা বলল যেন সে কোন প্রশ্ন অথবা নির্দেশনার উত্তর দিচ্ছে। সে নিরবতা শুনল ও দুবার মাথা ঝাঁকাল তারপর নরম সুরে বলল, ও, হ্যাঁ।
যাজিকা কিছুই শুনল না কিন্তু সে বুঝল এ আচরণে কোন যাদুর প্রভাব রয়েছে। সে আশ্চর্য হলো যখন দেখল কোবরাটা ঝুড়ির গভীরে ফিরে যাচ্ছে। সে তখন ঢাকনাটা লাগিয়ে উঠে দাঁড়াল।
আমাকে ক্ষমা করুন, মাতা, মিনিটাকা নরম করে বলল। আমি দেবীর পথে এখন যাচ্ছি না। এই পৃথিবীতে এখনো আমার জন্যে অনেক কিছু রয়ে গেছে।
যাজিকা ঝুড়িটা নিল এবং মেয়েটাকে বলল, দেবী তোমাকে আশীর্বাদ করুক এবং পরকালে তোমাকে অনন্ত জীবন দিন। মিনটাকাকে এক গম্ভীরতায় বসিয়ে সে দরজা দিয়ে ফিরে গেল। তার মনে হল সে এখনো একটা কণ্ঠস্বর শুনছে যা বৃদ্ধ মহিলা শুনতে পায়নি।
*
টাইটা নেফারকে ডাব্বা থেকে থেবস্ এ রেড শেফেন দিয়ে গভীর ঘুমের মধ্যে করে এনেছে। জাহাজ প্রাসাদের নিচে পাথরের জেটিতে ভিড়তেই টাইটা তাকে একটা ছোট পালকিতে করে তীরে নিয়ে গেল, সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়াল করে। সমগ্র শহর জুড়ে ফারাও-এর মুমূর্ষ অবস্থার কথা জানাজানিটা মূর্খতার শামিল হবে। অতীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যখন রাজার মৃত্যুর খবর শহর বিষণ্ণ করেছে এবং সমগ্র রাজ্য বন্য হতাশায় ডুবে গিয়েছিল এবং তখন শস্য বিনিময়, দাঙ্গা লুটতরাজ এবং সমাজের আরো নানান নিয়ম-নীতির পতন হয়েছে।
একবার নেফার যখন প্রাসাদের রাজ কোয়ার্টারে নিরাপদে পৌঁছে যাবে, টাইটা তখন একাই তার নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করতে সমর্থ হবে। তার প্রথম কাজ হল বালকটির পায়ের ও তলপেটের ক্ষতগুলো পরীক্ষা করা ও পরিমাপ করা সেখানে কোন মারাত্মক পরিবর্তন এসেছে কিনা।
সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হচ্ছে তার পেটের ভুড়ি কেটে গেছে এবং ওগুলোর বর্জ্যে পেট ভরে গিয়েছে। যদি সত্যিই এমনটা হয়ে থাকে তবে তার দক্ষতা খুব কমই কাজে আসবে। সে সাবধানে ব্যান্ডেজটা খুলল। আলতোভাবে ভোলা মুখ দিয়ে ভেতর পরীক্ষা করল, ময়লার গন্ধ শুঁকে দেখল এবং ঐ রকম কোন দূষিত গন্ধ না পেয়ে স্বস্তি পেল। ভিনেগার এবং পুবের মশলার একটা মিশ্রণ ক্ষতের গভীরে সে
ঢুকিয়ে দিল। তারপর বিড়ালের নাড়ি দিয়ে সেলাই করে তা বন্ধ করে দিল এবং তার সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে স্থানটা ব্যান্ডেজ করল। লসট্রিসের স্বর্ণের কবজ দিয়ে সবগুলো স্পর্শ করল, লিনেন কাপড়ের প্রতি প্যাঁচে নাতির জন্যে তার দাদীর নিকট সুপারিশ করল।
পরের দিনগুলোতে টাইটা ধীরে ধীরে নেফারের উপর রেড শেফেন এর পরিমাণ কমাল এবং পুরস্কৃতও হল যখন নেফারের জ্ঞান ফিরল ও তার দিকে চেয়ে হাসল।
টাইটা আমি জানতাম তুমি আমার সাথে। তারপর সে চারপাশে তাকাল। ওষুধের কারণে এখনো সে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আছে। মিনটাকা কোথায়?
যখন টাইটা তার অনুপস্থিতির কথা ব্যখ্যা করল, নেফারের হতাশা প্রায় স্পষ্ট হল এবং সে তা লুকিয়ে রাখতে পারল না। টাইটা তাকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করল, এই দূরত্ব সাময়িক এবং শীঘ্রই তুমি দক্ষিণে অ্যাভারিস ভ্রমণ করার জন্য যথেষ্ট সুস্থ হয়ে উঠবে। আমরা নাজার কাছে ভ্রমণে যাওয়ার জন্যে ভালো একটা কারণ খুঁজে পাবো। টাইটা তাকে নিশ্চয়তা দিল।
মুহূর্তের মধ্যে নেফারের সুস্থতা বেগ পেল। পরের দিন সে উঠে বসল এবং রুটি ও ময়ূরের স্যুপ খেল। তারপর দিন সে ক্রাচে ভর দিয়ে কয়েক পা চলতে পারল যা টাইটা তার জন্য তৈরি করে দিয়েছে এবং তার খাবারে মাংস দিতে বলল। তার রক্ত যাতে গরম না হয় সে জন্যে টাইটা লাল মাংস নিষেধ করল তবে মাছ ও মুরগির মাংসের অনুমতি দিল।
